রাহমাতুল্লীল আলামীন

যুদ্ধ ও শান্তি

0
289

রাহমাতুল্লীল আলামীন
কাজী সোলায়মান মানসুরপুরী

যুদ্ধ পরিস্থিতি
‘‘ যাদের বিরুদ্ধে (কাফেরদের পক্ষ থেকে) যুদ্ধ চালানো হচ্ছিলো, তাদেরও (এখন যুদ্ধ করার) অনুমতি দেয়া গেলো, কেননা তাদের ওপর সত্যিই যুলুম করা হচ্ছিলো; নি:সন্দেহে আল্লাহ তায়ালা এ (মাযলুম)দের সাহায্য করতে স¤ক্সর্ণ সক্ষম, ৪০. (এরা হচ্ছে কতিপয় মাযলুম মানুষ,) যাদের অন্যায়ভাবে নিজেদের ঘরবাড়ি থেকে বের করে দেয়া হয়েছে শুধু এ কারণে যে, তারা বলেছিলো, আমাদের মালিক হচ্ছেন আল্লাহ তায়ালা; যদি আল্লাহ তায়ালা মানব জাতির একদলকে আরেক দল দিয়ে শায়েস্তা না করতেন তাহলে দুনিয়ার বুক থেকে (খৃস্টান সন্যাসীদের) উপাসনালয় ও গির্জাসমহ বিধ্বস্ত হয়ে যেতো, (ধ্বংস হয়ে যেতো ইহুদীদের) এবাদাতের স্থান ও (মুসলমানদের) মাসজিদসমহও, যেখানে বেশী বেশী পরিমাণে আল্লাহ তায়ালার নাম নেয়া হয়। আল্লাহ তায়ালা অবশ্যই তাকে সাহায্য করেন যে আল্লাহ তায়ালার (দ্বীনের) সাহায্য করে, অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা শক্তিমান ও পরাক্রমশালী।’’ সূরা আল হাজ্জ (২২ : ৩৯-৪০)

তোমাদের এ কি হয়েছে, তোমরা আল্লাহর পথে সেসব অসহায় নর-নারী ও (দুস্থ) শিশু সন্তানদের (বাঁচাবার) জন্যে লড়াই করো না, যারা (নির্যাতনে কাতর হয়ে) ফরিয়াদ করছে, হে আমাদের মালিক, আমাদের যালেমদের এই জনপদ থেকে বের করে (অন্য কোথাও) নিয়ে যাও, অতপর তুমি আমাদের জন্যে তোমার কাছ থেকে একজন অভিভাবক (পাঠিয়ে) দাও, তোমার কাছ থেকে আমাদের জন্যে একজন সাহায্যকারী পাঠাও!  আন সূরা- ৭৫.

এই আদেশ থেকে প্রতীয়মান হয়, ইসলামে যুদ্ধ আছে সত্য, কিন্তু সেই যুদ্ধ কোনো দেশ আক্রমণ কিংবা সাম্রাজ্য বিস্তারের উদ্দেশ্যে নয়; বরং দুর্বল, নারী ও শিশুদেরকে যালিমদের কবল থেকে মুক্ত করার জন্যে, তলোয়ারের ভয় দেখিয়ে কাউকে ইসলামের কলেমা পড়ানোর জন্যে যুদ্ধ নয়; বরং ইহুদী, খিষ্ট্রান ও অন্যান্য ধর্মের সব উপাসনালয়কে রক্ষা করার জন্যেও মুসলমানদের যুদ্ধের অনুমতি দেয়া হয়েছে।

প্রিয় নবীর জীবনে ৮২টি যুদ্ধের কথা উল্লেখ করা হয়েছে সবগুলো যুদ্ধই রক্তক্ষয়ী ছিলনা। যখনি কাফেরগণ সন্ধির প্রস্তাব দিয়েছে, পরাজিত হয়েঝে বা আত্মসমর্পন করেছে তখনই যুদ্ধ শেষ হয়ে গিয়েছে। হুদায়বিয়ার সন্ধি, মদীনা সনদ, মদীনায় ইহুদিদেও সাথে চুক্তি এসব আবার কোনো যুদ্ধ না করেই সন্ধি স্থাপনের নজীর হয়ে আছে। সবচে বড়ো কথা কোনো যুদ্ধের সূচনাই মুসলমানদের পক্ষ থেকে করা হয়নি, প্রতিটি যুদ্ধের পেছনেই রয়েছে হয়তো কাফেরদের আক্রমণ নয়তো আক্রমনের আশংকা, অথবা যুদ্ধের ইন্ধন বা বিনা উসকানীতে কোনো মুসলিমকে হত্যা কখনো দেখা গেছে সন্ধিভঙ্গ ইত্যাদি।

সেসব যুদ্ধের ফলাফলের দিকে একবার চোখ বোলানো যাক

মহানবীর সময়ের যুদ্ধবিগ্রহের সাথের ইতিহাসের বিভিন্ন যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির তুলনামূলক চিত্র

মহানবীর ২৩ বছরের যুদ্ধসমূহ :

৬১০-৬৩৩ ঈসায়ী সন :
ছোটো বড়ো মিলে সর্বমোট যুদ্ধ : ৮২
মোট প্রাণহানি : ১০১৮ জন,
যুদ্ধপ্রতি গড় প্রায় ১৩ জন
মোট যুদ্ধবন্দী: ৬৫৬৫ জন,
যুদ্ধপ্রতি গড় : ৮১ জন
এর মধ্যে ৬৩৪৭ জন বন্দীকেই প্রিয়নবী নিশর্তে মুক্ত করে দিয়েছেন। যাদের মধ্যে হোনাইন যুদ্ধের ৬ হাজার বন্দীও অন্তর্ভুক্ত ছিলো। অবশিষ্ট ২১৮ জন বন্দীর ব্যাপারে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এদের অনেকেই পরে মুসলমান হয়ে গেছেন। দ্চুারজন অন্য দেশে পালিয়েও যেতে পারে। তাদের যুদ্ধবন্দী হিসেবে ধরা হলেও এর সংখ্যা গড়ে যুদ্ধ প্রতি ২.৬ জন।
অপরদিকে
১. নিহতের সংখ্যা দুই পক্ষের মোট ১০১৮জন। এবং ৮২টি যুদ্ধের মধ্যে বিভক্ত করলে প্রতি যুদ্ধে নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় ১২.৪১এর মতো।
২. বন্দী এবং নিহতদের সংখ্যা বিভিন্ন সূত্র অনুসারে নির্ভূল বলে ধরে নেয়া যায়।
৩. দুই পক্ষের আহতদের সংখ্যার ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে।

যদি শত শত বছরের ধর্ম বিশ্বাস ত্যাগ করিয়ে একটি নতুন ধর্মে জোরপূর্বক দীক্ষিত করতে তাও আবার আরবের মতো জাহেলী সমাজের জন্য সেটা বিশাল সংখ্যা হতো অন্তত হতাহতের দিক থেকে, কারণ যে সমাজে তুচ্চ কারণে যুদ্ধ, খুন, হত্যা, লুণ্ঠন আর বদলা এগুলো ছিলো নৈমিত্তিক ব্যাপার একেবাওে নিত্যদিনে ঘটনা।

শত্রুপক্ষের বন্দী সংখ্যা আপাতদৃষ্টিতে বেশী বলে মনে হয় অর্থাৎ ৬৫৬৪ জন। এটা কোনো অস্বাভাবিক নয়। কারণ তারা বার বার পরাজিত হয়েছে। তাছাড়া বিরাশীটি যুদ্ধে বার বারের আরবের প্রায় কয়েক লক্ষ লোক অংশগ্রহণ করে। এবং শুধুমাত্র হুনাইনের যুদ্ধে এই সংখ্যা ছিলো ৬০০০। তাছাড়া অন্য ৮১টি যুদ্ধে এই সংখ্যা মাত্র ৫৬৪ জন, যার গড় দাড়ায় প্রতি যুদ্ধে মাত্র ৭ জন করে।

এবার আসি বন্ধীদের প্রসঙ্গে:
পরাজিত কাফেরদের ৬৫৬৪ জন বন্দীর মধ্যে ৬৩৪৭জন বন্দীকে হযরত রাসূলুল্লাহ (সা) দয়াপরবশ হয়ে বিনা শর্তে মুক্ত করে দিয়েছিলেন।
শুধুমাত্র ২জন কয়েদী এমন ছিলো যাদেরকে পূর্ব জঘ্যন্য হত্যাজনিত অপরাধের দায়ে কেউ ক্ষমা করতে চায়নি বিধায় মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়েছিলো।
বাকী ২১৫ জন বন্ধী সম্পর্কে ধারণা করা হয় এদের বেশীরভাগই ইসলাম গ্রহণ ও পক্ষ ত্যাগ করে সাহাবীদের সাথে মিশে গিয়েছিলো অবশ্য কিছু বন্দী পরবর্তীতে ক্ষমা পেয়েছে আবার কিছু বন্দী পালিয়েও যেতে পারে।

বর্তমান বিশ্বেও কয়েকটি যুদ্ধচিত্র
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ : ১৯১৪- ১৯১৭ ঈশায়ী সন

মোট প্রাণহানি:
ইহুদি: ৬ মিলিয়ন, বা ৬০ লাখ
সোভিয়েত বন্ধী: ৪ মিলিয়ন, ৪০ লাখ
সোভিয়েত নাগরিক : ২ মিলিয়ন, ২০ লাখ
পোলিশ বেসামরিক নাগরিক: ১ মিলিয়ন, ১০ লাখ
যুগোস্লাভ বেসামরিক প্রায়: ১ মিলিয়ন, ১০ লাখ
আহত:  ২৭০,০০০ নারী, পুরুষ ও শিশু

মহাভারতে উল্লেখিত বিভিন্ন যুদ্ধে
নিহতের সংখ্যা আনুমানিক ১ কোটির মতো
অন্য একটি হিসেবে বলা হয় প্রথম বিশ্বযুদ্ধে মোট নিহত: ১ কোটি ৫৪ লাখ ৩৬ হাজার ২৬১ জন থেকে  কোটি ৮৪ লাখ ০৭ হাজার ৮০০ জন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ: মোট নিহত
৩ কোটি ৯৯লাখ ৬৩ হাজার ৭শত জন থেকে ৪ কোটি ৮২ লাখ ৩১ হাজার ৭০০ জন

ইউরোপের ক্রুসেড বা ধর্মযুদ্ধ
মোট প্রাণহানি: ১ লাখেরও বেশী হবে।
বিভিন্ন সময় খ্রিষ্টানদের ধর্মীয় আদালতের রায়ে
মোট প্রাণহানি:  ১ কোটি ২০ লাখ
সূত্র: জন ডেভন পোর্ট তার ‘‘এ্যাপোলজী অব মুহম্মদ এ্যা- কুরআন্ গ্রন্থে’’, এটা কিন্তু খ্রিষ্টান কতৃক খ্রিষ্টান হত্যা।

স্পেনিস সম্রাট কতৃক খ্রিষ্টান হত্যা
মোট প্রাণহানি: তিন লাখ চল্লিশ হাজার
(এর মধ্যে ৩২ হাজার লোককে জীবন্ত আগুনে পুড়িয়ে হত্যা)।
ভারতে সম্রাটট আশোক কতৃক হত্যা: ২ লাখ
চুয়াত্তরের মন্বন্তর বাঙালী হত্যা: ৪৫ থেকে ৫০ লক্ষ
পাকিস্তানীদের ১৯৭১ সালে বাঙালী হত্যা: ৩০ লক্ষ
কাশ্মীরে ভারতীয় বাহিনী কতৃত মুসলিম হত্যা: ৪৭ হাজার
সংযুক্ত রাশিয়া কতৃক মুসলিম হত্যা: স্পেন দখলের সময় খ্রিস্টানদেও হত্যাযজ্ঞ, ফিলিস্তিেিন উহদিদের অব্যাহত গণহত্যা: ফ্রান্সে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য হত্যা।

শত্রুর সাথে আচরণ
রাহমাতুললিল আলামীন দুশমনদের সাথে আচরণ করার নীতি আমাদের এমনভাবে শিক্ষা দিয়েছেন :
‘‘খারাপের প্রতিদান ভাল দ্বারা দান কর। অত:পর যে ব্যক্তির সাথে তোমার শত্রুতা আছে সে তোমার সহযোগী বন্ধু হয়ে যাবে।’’
রাহমাতুললিল আলামীন বিচারের ব্যাপারে শত্রুতা ও ঘৃণার প্রভাব থেকে আমাদেরকে মুক্ত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন এবং আমাদের সকলের প্রতি ন্যায় বিচার করার আদেশ জারী করেছেন।

সবার প্রতি ন্যায় বিচার

হে ঈমানদার লোকেরা, তোমরা আল্লাহর জন্যে (সত্য ও) ন্যায়ের ওপর সাক্ষী হয়ে অবিচলভাবে দাঁড়িয়ে থাকো, (মনে রাখবে, বিশেষ) কোনো সম্প্রদায়ের দুশমনী যেন তোমাদের এমনভাবে প্ররোচিত না করে যে, (এর ফলে) তোমরা (তাদের সাথে) ন্যায় ও ইনসাফ করবে না। তোমরা ইনসাফ করো, কারণ এ (কাজ)-টি (আল্লাহ তায়ালাকে) ভয় করে চলার অধিক নিকটতর; তোমরা আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করো; অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা তোমাদের কর্মকান্ড সম্পর্কে পূর্ণাংগ ওয়াকেফহাল রয়েছেন।  (সূরা আল মায়েদা : ৮)

এরশাদ হয়েছে : যারা পবিত্র মসজিদ থেকে তোমাদেরকে বাধা প্রদান করেছিলো সেই সম্প্রদায়ের সাথে শত্রুতা যেন তোমাদেরকে সীমালঙ্ঘনে প্ররোচিত না করে। সৎকর্ম ও আল্লাহভীতিতে একে অন্যের সাহায্য করো। পাপ ও সীমালঙ্ঘনের ব্যাপারে একে অন্যের সহায়তা করো না। আল্লাহৎকে ভয় করো। ()

সত্যের স্বাক্ষ্য ও ন্যায় বিচার
রাহমাতুললিল আলামীন হচ্ছেন তিনি, ঘটনা বর্ণনার জন্যে যিনি লোকদেরকে এই ভাবে প্রস্তুত করে গেছেন : ‘‘হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে ন্যায় সাক্ষ্য দানের ব্যাপারে অবিচল থাকবে। ’’

ন্যায় বিচার নির্ভর করে সাক্ষ্যের উপর।
এ কারণে সাক্ষ্যের ব্যাপারে তিনি এভাবে শিক্ষা দিয়েছেন : হে বিশ^াসীগণ, তোমরা ন্যায় বিচারে দৃঢ় প্রতিষ্ঠিত থাকবে, তেমারা সাক্ষ্য দেবে আল্লাহর উদ্দেশ্যে যদিও তা তোমাদের নিজেদের অথবা পিতামাতা এবং আ—গীয়স্বজনের বিরুদ্ধে হয়; সে বিত্তবান হোক অথবা বিত্তহীন হোক, আল্লাহ উভয়ের যোগ্যতার অভিভাবক। সুতরাং তোমরা ন্যায় বিচার করতে কামনার অনুগামী হয়ো না। যদি তোমরা পেঁচালো কথা বল, অথবা পাশ কাটিয়ে যাও, তবে জেনে রাখো, তোমরা যা করো আল্লাহ তার খবর রাখেন।

কাফেরদের সাথে রফা ও বিধর্মীদের অধিকার
১. কাফিরদেরও তিনি উচ্চস্বরে শুনিয়েছেন ‘‘তোমাদের জন্যে তোমাদের দ্বীন এবং আমার জন্যে আমার দ্বীন’’
২. দ্বীন-ধর্ম সম্বন্ধে সারা বিশ্বের মানুষকে তিনি এই নীতি শিক্ষা দিয়েছেন ‘‘দ্বীনের ব্যাপারে কারো উপর কোনো জবরদস্তি নেই, সত্য পথ, ভ্রান্থ পথ থেকে সুস্পষ্ট হয়েছে।’’
৩.  সমগ্র বিশ্ববাসীকে তিনি ভাল কাজ ও উৎকৃষ্ট ব্যবহার করার জন্য এই শিক্ষা দিয়েছেন।

ইহুদিদের সাথে চুক্তি
হ্যাঁ, রাহমাতুললিল আলামীন ইহুদীদের মতো লাঞ্ছিত ও অভিশপ্ত জাতির সাথে যিনি এই ভাষায় চুক্তিপত্রের স্বাক্ষর করতে পারেনÑ
১. ইহুদীদেরও মুসলমানদের ন্যায় এক সম্প্রদায় মনে করা হবে।
২. তাদের সাথে যারাই যুদ্ধ করুক মুসলমানরা তাদের সাহায্য করবে।
৩. মুসলমান ও ইহুদীদের মধ্যেকার সম্পর্ক থাকবে উত্তম, লাভজনক ও পূণ্যপবিত্র।
৪. ইহুদীদের সহযোগীরাও তাদের মত সমান সুযোগ সুবিধা লাভ করবে।
৫. অত্যাচারিতকে সর্বদা সাহায্য করা হবে।

খ্রিষ্টানদের সাথে চুক্তি
রাহমাতুললিল আলামীন খেরাজ প্রদানকারী বিজিত খিষ্ট্রানদের সাথে এই ভাষায় চুক্তি করছেন
১. নাজরানবাসী খিষ্ট্রানরা আল্লাহর হেফাজতে এবং মোহাম্মদুর রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর তত্ত্বাবধানে থাকবে। তাদের জীবন ধর্ম, রাজত্ব, সম্পদ এমনকি যারা উপস্থিত আছে বা উপস্থিত নেই তাদের গোত্র, তাদের অনুসারী সকলে এই চুক্তির অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
২. তাদের বর্তমান অবস্থার পরিবর্তন করা যাবে না।
৩. তাদের অধিকারের কোনো পরিবর্তন করা যাবে না।
৪. তাদের কাছে যা কিছুই থাকুক না কেন, তার কোনো রদবদল করা যাবে না।

মানবতাবাদ
রাহমাতুললিল আলামীন একজন মানুষের জীবনের মর্যাদা ও মূল্য এমনভাবে দিয়েছেন :
৩২. (পরবর্তীকালে) ওই (ঘটনার) কারণেই আমি বনী ইসরাঈলদের জন্যে এই বিধান জারি করলাম যে, কোনো মানুষকে হত্যা করার কিংবা পৃথিবীতে ধ্বংসাÍক কাজ (করার শাস্তি বিধান) ছাড়া (অন্য কোনো কারণে) কেউ যদি কাউকে হত্যা করে, সে যেন গোটা মানব জাতিকেই হত্যা করলো; (আবার এমনিভাবে) যদি কেউ একজনের প্রাণ রক্ষা করে তবে সে যেন গোটা মানব জাতিকেই বাঁচিয়ে দিলো; এদের কাছে আমার রসূলরা সুস্পষ্ট নিদর্শন নিয়ে এসেছিলো, তারপরও এদের অধিকাংশ লোক এ যমীনের বুকে সীমালংঘনকারী হিসেবেই থেকে গেলো।
সূরা আল মায়েদা: ৩২)

সহিংসতা নয় অহিংসতা
রাহমাতুললিল আলামীন রক্তক্ষয়ী যুদ্ধকে বন্ধ করে দিয়েছেন, রাজত্ব করার বাসনা অথবা সামাজ্য বিস্তারের আকাক্সক্ষা অথবা শক্তি প্রদর্শনের বিকাশ অথবা প্রতিশোধ গ্রহণের উগ্র বাসনা চরিতার্থ করার বাসনায় যুদ্ধ করাকে সম্পূণরুপে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। তিনি যুদ্ধের অনুমতি দিয়েছেন, শুধুমাত্র অত্যাচারিতের সাহায্য করার শেষ উপায় হিসেবে অক্ষম, আশ্রয়হীন, নারী, শিশুদেরকে অত্যাচারীদের হাত থেকে পরিত্রাণের শেষ অবলম্বন হিসেবে, বিভিন্ন ধর্মের, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে ন্যায় বিচার ও সাম্য প্রতিষ্ঠার শেষ অস্ত্র হিসেবে। পৃথিবীর সবচেয়ে দয়াবান মানুষও এই নীতিতে যুদ্ধ করার প্রয়োজনীয়তাকে অস্বীকার করতে পারেন না। এমনকি সাধারণ বিবেকবান মানুষও এমন যুদ্ধকে পুরাপুরি রহমত বলতে বাধ্য হবো।

সূত্র: রাহমাতুল্লীল আলামীন, কাজী সোলায়মান মানসুরপুরী

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY