কোরআন অনুলিপি করলেন অন্ধ আদিল

0
218

‘ইচ্ছে থাকলে উপায় হয়’। এই প্রবাদ আবারো প্রমাণ করলেন আদিল আলতিনকায়া। তুরস্কের এই বাসিন্দা চোখে দেখেন না। কিন্তু তাতে কি, দৃষ্টিহীন হলেও দৃষ্টিহীনদের জন্য নিজের হাতে পবিত্র কোরআন শরীফ লেখার ইচ্ছে ছিল তার এবং আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, তিনি তা পূরণও করেছেন।

ব্রেইল পদ্ধতিতে (দৃষ্টিহীনদের জন্য বিশেষ পদ্ধতিতে লেখা-পড়ার পদ্ধতি) পবিত্র কোরআন শরীফ লিখেছেন আদিল আলতিনকায়া। আর কাজটি করতে তার সময় লেগেছে প্রায় ২০ বছর।

তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আন্দোলু অ্যাজেন্সিকে (এএ) আদিল বলেন, গ্রাজুয়েশন করার পর থেকেই আমার দৃষ্টিহীনদের জন্য কিছু করার ইচ্ছে ছিল।

আদিল আলতিনকায়া

 

অবশ্য এর জন্য তার প্রস্তুতিও ছিল। আদিল হেসিটেপ ইউনিভার্সিটি থেকে ভাষাতত্ত্বের ওপর গ্রাজুয়েশন করেন ১৯৮০ সালে।

পড়াশোনা শুরু করেন আনতালিয়ার গাজিয়ানটেপ শহরের দৃষ্টিহীনদের একটি স্কুল থেকে। সেখানে মাধ্যমিক শেষ করে আঙ্কারা ইউনিভার্সিটি থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন।

আদিল বলেন, ‘১৯৮০ সালের কথা। তখন শুনেছিলাম সৌদি আরবে কেউ একজন ব্রেইল পদ্ধতিতে পবিত্র কোরআন প্রকাশ করেছিল। এতে অনুপ্রাণিত হয়ে আমিও একটি ব্রেইল মেশিন এনে কাজ শুরু করলাম। কিন্তু ব্যর্থ হলাম।’

কিন্তু হাল ছাড়েননি আদিল। বারবার ব্যর্থ হলেও চেষ্টা চালিয়ে গেছেন। আনতালিয়ায় থাকার সময় কোরআনের কয়েক পারা লেখা শেষ করেন তিনি। পরে ধীরে ধীরে পুরো কোরআন শরীফ লেখা শেষ করেন। এরপর কোরআন ছাপানোর পালা।

ব্রেইল পদ্ধতি

আদিলের ভাষ্য, ‘১৯৯০ সালের দিকে আমি ব্রেইলে কোরআন শরীফ প্রকাশের জন্য একটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান দেই। পাঁচ বছর পর আমি একটি ব্রেইল এম্বোসার কিনে আনি এবং পুরোদমে কোরআন শরীফ লেখা শুরু করি। এ পর্যন্ত আমরা তিন হাজার কোরআন শরীফ ছাপিয়েছি।’

আনতালিয়ায় থাকাকালীন আদিল বছরে দুই থেকে তিনবার ইস্তাম্বুলে যেতেন কোরআন ছাপানোর জন্য। ব্রেইল পদ্ধতিতে কোরআন ছাপানোর জন্য তিনি প্রথম ডিজিটাল ফর্মেট ব্যবহার করেন এবং লেআউট আঁকেন।

আদিল জানান, ‘আমি প্রতিটি পৃষ্ঠায় ২৬টি লাইন এবং প্রতিটি লাইনে ৪০ থেকে ৪২টি শব্দ লিখতে পারি। প্রতি ঘণ্টায় আমরা আট শ’ পৃষ্ঠা ছাপাই। পরে তা পৃষ্ঠা অনুযায়ী সাজিয়ে বাঁধাই করি।’

নয়াদিগন্ত

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY