রসূল নামের ফুল এনেছি

0
354

রসূল নামের ফুল এনেছি
খাদিজা আখতার রেজায়ী

প্রিয় ভাই ও বোনেরা
আসলেই আমি আপনাদের জন্যে ‘‘রসূল্ নামের কিছু ফুল এনেছি’’। এ ফুল দিয়ে মারা গাঁথার আগে সে ফুলগুলোর সাথে আমি আপনাদেরকে পরিচয় করিয়ে দিতে চাই।
সাম্প্রতিককালে প্রকাশিত একটি সাময়িকীর কথা বলছি। এ সাময়িকীটির নাম ‘‘আল বাছার্য়ে’’, এটি ‘‘আল কোরআন একাডেমী লন্ডন’’ বাংলাদেশ অফিসের একটি অনিয়মিত প্রকাশনা। প্রথম দ্বুারের সীরাতুন্নবীতে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমধর্মীয় কিছু লেখা নিয়ে সাময়িকী দ্ুেটা যখন বের হয় তখন এগুলো দেশে বিদেশে ব্যাপক সাড়া জাগায়। মনে হড়ি–লো রসূল (স.)-কে নিয়ে আমাদের রাশভারী প-িতদের তুখোড় আলোচনার মহাভীড়ে হারিয়ে যাওয়া ব্যক্তি মোহাম্মদ (স.)-কে অনেক দিন পর আমরা খুঁজে পেয়েছি, আর তাও পেয়েছি এমন এক সময়েÑ যখন তাঁর মতো একজন মানুষের আমাদের সত্যিই বড়ো প্রয়োজন!
‘‘ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা যখনই কোনো জনপদে একজন নবী পাঠিয়েছেন তখনি সে জনপদের নেতা মোড়লরা এই বলে সেই নবীকে এড়িয়ে চলতো যে, ‘‘তোমরা তো আমাদেরই মতো মানুষ ছাড়া কিছু নও।্ (সূরা ইয়াসীন,১৫)

এদের মাঝে যারা ছিলো রাজভান্ডারের উচ্ছিষ্টপুষ্ট বুদ্ধিজীবী তারা আবার বাড়াবাড়ি করতো একটু বেশী, কোরআন তাদেরই কথা বলছে, ‘‘যারা আমার সাথে তাদের দেখা সাক্ষাৎ হবে এমন কোনো আশাই করে না, তারা বলে আমাদের কাছে আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে কোনো ফেরেস্তা নাযিল হয় না কেন।্ (সূরা আল ফোরকান, ১২)
ভাবখানা এই যে, ‘‘মানুষ্ আবার নবী হয় কেমন করে! নবীর মান মর্যাদা শান শওকতের সাথে মানুষ বড়োই বেমানান!
আল্লাহ জাল্লা জালালুহু এদের এসব অসার যুক্তির জবাব দিতে গিয়ে নিজেই বলছেন. (হে মোহাম্মদ!) আমি তোমার আগে এমন কাউকেই নবী করে পাঠাইনি, যারা সমসাময়িক মানুষদের মতো খাবার খেতো না এবং তাদেরই মতো বাজার ঘাটে চলাফেরা করতো না।্ (সূরা আল ফোরকান, ২০)

আল্লাহ তায়ালা যুগে যুগে যাদের নবী করে পাঠিয়েছেন তারা সবাই ছিলেন মানুষ। তারা সবাই মানুষের মতোই বাজার ঘাট করতেন, খাওয়া দাওয়া করতেন, বিয়ে শাদী করতেন, অন্য দ্দুশজন মানুষের মতোই তাদের পারিবারিক জীবনে প্রেম ভালোবাসা, মানঅভিমান, হাসিকান্না সবই ছিলো। অবশ্য তা হবেনাই বা কেন, আল্লাহ তায়ালা ফেরেশতাদের জন্যে তো নবী পাঠাননি যে তার নবীকে ফেরেস্তা হতে হবে। তিনি নবী পাঠিয়েছেন মানুষের জন্যে। মানুষের চিন্তাচেতনা, মানুষের আশা আকাংখা, মানুষের চলাফেরা, সর্বোপরি মানুষের ক্ষমতার পরিধি ও সীমাবদ্ধতা একজন মানুষই ভালো জানবে। আল্লাহ তায়ালা সত্যিই যদি কোনো ফেরেশতাকে নবী করে পাঠাতেন তাহলে এসব জাহেল্ বুদ্ধিজীবীরা বলতো, তিনি তো আর মানুষ নন যে, তিনি আমাদের প্রকৃতি ও আমাদের সমস্যা বুঝবেন, আমরা মানুষ হয়ে একজন ফেরেস্তা নবীর আনুগত্য করবো কিভাবে?

আসলে আল্লাহ তায়ালা বর্তমান ভবিষ্যতের এসব কথা জানতেন বলেই মানুষদের পথ দেখানোর জন্যে একজন মানুষকেই তিনি নবী করে পাঠিয়েছেন। শেষ নবী হযরত মোহাম্মদ (স.) পরিস্কার করেই একথাটা বলেছেন, ‘‘আমি তোমাদেরই মতো একজন মানুষ’’।্ তার সাথে অন্য মানুষের পার্থক্যের কথাটা বলতে গিয়ে আল্লাহ তায়ালা তাকে বলছেন, ‘‘হে নবী, তুমি বলো আমার কাছে ওহী পাঠানো নয়’’।্ (সূরা আল আম্বিয়া, ১০৮)
এই ওহী নাযিলের কারণেই আগের দিনের একজন সাধারণ মানুষ্ পরদিন অসাধারণ নব্রী সম্মানে সম্মানিত হন এবং এই মানুষ নবীরা হন সমাজের অন্যান্য মানুষদের তুলনায় এক একজন আদর্শ মানুষ।
নিসন্দেহে গোটা মানব সন্তানদের মাঝে এরাই হড়ে–ন আল্লাহর আলোকে আলোকিত মানুষ। এই আলোকিত মানুষদের নেতা আমাদের প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম। এই মানুষ নব্রী ব্যক্তি জীবন নিয়েই আমরা সাজিয়েছি আমাদের বর্তমান বই ‘‘তিনি চাঁদের চেয়ে সুর্ন্দ’’। এই বইর লেখাগুলো যেমন বিভিন্ন হাদীস ও সীরাত গ্রন্থ থেকে সংকলিত তেমনি এই বইর নামটিও আমরা গ্রহণ করেছি একজন সাহাবীর বক্তব্য থেকে।

সাহাবী হযরত জাবের (রা.) এক পূর্ণিমার রাতে একবার চতুর্দশী চাঁদের দিকে আর একবার প্রিয় নবীর চেহারা মোবারকের দিকে তাকিয়ে বলেছিলেন তিনি চাঁদের চেয়ে সুর্ন্দ।
আল বাছার্য়ে সাময়িকী দ্ুেটাতে যখন এই লেখাগুলো বেরিয়েছিলো তখন পাঠক পাঠিকাদের অনেকেই বলেছেন এগুলো তাদের ভীষণ ভালো লেগেছে। অনেকেই পুরনো কপি আমাদের কাছ থেকে চেয়ে নিয়েছেন। দ্ ুএকজন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে আমরা কপি দিতে না পেরে ফটোকপিও সরবরাহ করেছি। অনেকেই এগুলোকে তখন বই আকারে দেখার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। সম্ভবত ম্যাগাজিনের চাইতে বইর আবেদন অনেকটা স্থায়ীÑ তাই। বই করতে গিয়ে আমরা মূল বিষয়ের সাথে মিল রেখে এতে আরো কয়েকটি নতুন লেখা সংযোজন করে দিয়েছি।
বিষয়বস্তু এক হবার কারণে হতে পারে কিছু কিছু পুনরাবৃত্তি আপনাদের নযরে পড়বে। কিন্তু এতদসত্বেও স্বীকার করতে হবে যে, তার বিশাল ব্যক্তি জীবনের বিশাল পরিধির সামান্য কিছুই আমরা কর্ভা করতে পেরেছি। এই পুনরাবৃত্তি ভালো না লাগলে পরে তা বদলে দেয়া যাবে।

আল কোরআন একাডেমী পাবলিকেশন্স-্এর পরিচালক হাফেজ মুনির উদ্দীন আহমদ আমার জীবন সংগী। এই বইর প্রস্তাবনা ও পরিকল্পনা তার নিজের। আমি শুধু বিষয়গুলোকে সাজিয়ে দিয়েছি। আল্লাহ তায়ালা নবী করীম (স.)-এর শাফায়াত এর সৌভাগ্যসহ তাকে হাউজে কাউসারের সান্নিধ্যে রাখুন। আমীন !
আরো যারা বিভিন্নভাবে এই মহান কাজে সহযোগিতা করেছেন আল্লাহ তায়ালা তাদের সবাইকে এর যথার্থ বিনিময় দান করুন।
ব্যক্তি মোহাম্মদ (স.)-কে নিয়ে আমাদের এক একনিষ্ঠ প্রয়াস দেখে নতুন প্রজন্মের যারা তার মতো ভালো মানুষ হতে চাইবেন তারা সবাই আমাদের শুভেচ্ছা গ্রহণ করুন!

দ্বীনের আলো দেখে যারা দুনিয়ার অন্ধকারকে সবেমাত্র ঘৃণা করতে শুষ্প করেছেন তাদের জন্যেই এই উপহারÑ ‘‘তিনি চাঁদের চেয়ে সুন্দর’’।

আপনাদের বোন
খাদিজা আখতার রেজায়ী

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY