সম্পাদকীয় :আল বাছায়ের সীরাত সংখ্য: ১৪৩৭ (2015)

সম্পাদকীয়

0
464

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

সম্পাদকীয়
(আল বাছায়ের সীরাত সংখ্য: ১৪৩৭ (2015)

আল্লাহর নবী হযরত মোহাম্মদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম দুনিয়া ছেড়ে গেছেন আজ থেকে ১৩৮৪ বছর আগে। সেই থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত বিশে^র মুসলমানরা দেশে দেশে প্রিয় নবীর জন্ম ও মৃত্যুর স্মৃতিবিজড়িত এই রবিউল আওয়াল মাসটিকে কখনো ভুলে যায়নি।
পৃথিবীর প্রায় সকল দেশের মুসলমানরা কোনো না কোনোভাবে এই মাসটিকে মনে রেখেছেন। আমি এখানে শুধু মনে রাখার কথাটিই বললামÑ বললাম এ জন্যে যে, প্রিয় নবীর বরকতপূর্ণ স্মৃতি মনে রাখলে স্বাভাবিকভাবেই মুসলমানদের ওপর তার মহান আদর্শের কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য এসে পড়ার কথা। অবশ্য ঠিক যেভাবে তার স্মৃতিকে আমাদের মনে রাখার কথা সেভাবে আজকের কোটি কোটি মুসলমানরা তা মনে রাখছে কিনা সেটা আরো বড়ো বিতর্ক।
বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষ তাদের দৈনন্দিন জীবনে প্রিয়নবীর স্মৃতি বিজড়িত এই মাসটির স্মরণে যুগ যুগ ধরে কি করছে, সাম্পন্দতিক সময়ে কী করছে, ভবিষ্যতে তাদের কর্মকান্ড কিসের ইংগিত দিচ্ছে এ নিয়ে সুধীজনরা কম কথা বলেননি। এক সময় যারা এ নিয়ে কিছু ভাবনা চিন্তা করতেন তাদের অনেককেই এখন আর মাথা উঁচিয়ে কিছু বলতে দেখা যায় না। তারা অনেকেই এখন নিরাশ, চেতনা লুপ্ত ও ঝিমিয়ে পড়া এই নিরাশার সাথে ইদানীং আরেকটি ভয়াবহ জিনিস এসে যুক্ত হয়েছে তা হচ্ছে এ জাতির লক্ষ্য ও অভীষ্ট নিয়ে একটি ভয়াবহ দুশ্চিন্তা। এ দুশ্চিন্তা কিন্তু এ ১৬ কেটি মানুষের বাড়ী ঘর, দালান কোটা, কল কারখানা, চাকরী বাকরী, মধ্যম আয়ের জনপদে পরিণত হওয়া নিয়ে নয়Ñ এ দুশ্চিন্তা আগামী দিনে ১ কোটির জায়গায় আরেক কোটি মানুষের বিদেশে পাড়ি দিয়ে রিজার্ভ তহবিলে আরো ২০ বিলিয়ন ডলার জমা করা নিয়ে নয়। কয় লেনের হাইওয়ে কয়লেনে উন্নীত হবে, কোথায় আন্ডার গ্রাউন্ড হবে, কোথায় ওভার গ্রাউন্ড হবে, কোথায় মনোরেল , কোথায় এক্সপ্রেস এলিভেটেড রেল হবে, কোথায় ড্যাম ব্রীজ এয়ারপোর্ট হবেÑ এ উদ্বেগ উৎ কণ্ঠা এগুলো নিয়েও নয়Ñ কারণ এগুলো সবই হচ্ছে জাতিসমূহের চলমান উন্নয়ন প্রক্রিয়া, যোগ্য নেতৃত্ব থাকলে এ চলমান প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবেই। কিন্তু আজ সমস্যাটি হচ্ছে এই বিশাল জনগোষ্ঠীর লক্ষ্য পরিবর্তনের প্রক্রিয়া। মনে রাখতে হবে, এসব বৈষয়িক উন্নয়নই কোনো জাতির আসল পরিচয় নয়Ñ একবার আদর্শের গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে গেলে এ বৈষয়িক উন্নতি আমাদের কোনোই কাজে লাগবে না। এ কারণেই বলছিলাম, উদ্বেগ উৎকণ্ঠা হচ্ছে এ জাতির ভবিষ্যত গতি পরিবর্তনের ইংগিত নিয়ে। সাম্প্রতিক সময়ে এসে কেন জানি আগে নানা আশংকার জন্ম দিতে শুরু করেছে।
এই জনপদের ১৬ কোটি মানুষ কি ধীরে ধীরে ১৩৮৪ সাল আগের প্রিয় নবীর রেখে যাওয়া মহান আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়ে যাচ্ছে কোথায়ও যেন এক অজানা আশংকা সবাইকে ভাবিয়ে তুলছে। সমাজ সভ্যতার মূল নিয়ামক শক্তিগুলো যেন একযোগে প্রিয়নবীর আদর্শ তার মহান ল্যাগেসীকে ভুলিয়ে দেয়ার জন্যে মরিয়া হয়ে উঠেছে। এদের সবার মাথায় কে যেন এ কথাটি বদ্ধমূল করে বসিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে। আমাদের সকল আয় উন্নতির একমাত্র প্রতিবন্ধক হচ্ছে প্রিয়নবীর মহান আদর্শ
হ্যাঁ, তাঁর আদর্শ যদি জশনে জুলূস, মীলাদ পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে এ নিয়ামক শক্তিগুলোর কারোই কিন্তু কোনো …. নেই; বরং এতোটুকু কাজের জন্যে তো তারা তাদের দান খয়রাতের হাতকে আরো প্রসারিত করতেও দ্বিধাবোধ করবেন না, কিন্তু সমস্যা দেখা দিবে যখন কেউ মহানবীর আদর্শ তথা কোরআন মাজীদকে জশনে জুলূস থেকে সরিয়ে সমাজ সভ্যতার নিয়ামক শক্তিতে পরিণত করার চেষ্টা করবে তখন।
মানব জাতির আমূল উন্নতি ও সমৃদ্ধির মূল চালিকা শক্তি হচ্ছে মানুষকে তার সৃষ্টিকর্তার সাথে সম্পৃক্ত করা। এ কথাটিই ‘‘আল কোরআন একাডেমী লন্ডন’’ তার সীমিত পরিসরে এ জাতীর প্রত্যেকটি মানুষকে বারবার মনে করিয়ে দিতে চায়। আর এ মহান লক্ষ্যকে সামনে রেখেই একাডেমী মহানবীর ‘‘গ্রেডেষ্ট ল্যাগেসী’’ তথা কোরআন মাজীদের সাথে আমাদের একটা শক্ত সেতু বন্ধন তৈরী করতে চায়। কোরআনের সাথে জনগোষ্ঠীর এ সেতু বন্ধন যত মজবুত হবে, ততোই এ জাতী তাদের গন্তব্য বিস্তৃতি ও চেতনালুপ্তির এ ভয়াবহ অভিশাপ থেকে বেঁচে থাকতে পারবে।
বলার অপেক্ষা রাখে না, একাডেমীর কোরআন বিতরণ কর্মসূচীটি সে মহান লক্ষ্যের পথেরই মূল্যবান পাথেয়, কিন্তু ১৬ কোটি আদম সন্তানের মাত্র ৬ লাখ মানুষের হাতে আমরা এ যাবত অনুবাদসহ কোরআন তুলে দিতে পেরেছি। এ যেন গ্রামের বড়ো পুকুর থেকে এক লোটা পানি তুলে নেয়া। অবশ্য পরিমাণের বিষয়টা বড়ো করে না দেখে শুধু সূচনা হিসেবেই আমরা এর মূল্যায়ন করতে পারি।
আল্লাহ তায়ালা এ সূচনা পর্বটাকেই বড়ো রকমের একটা সমাজ বদলের কর্মসূচী হিসেবে কবুল করুন। আমীন!
আমরা এর আগেও বহুবার এ কথা বলেছি যে, মুসলমানদের যাবতীয় উন্নতি অবনতি, শান্তি অশান্তির সাথে কোরআন এতোই সম্পৃক্ত যে কোরআনের প্রফেশন ছাড়া এ জাতীর ভাগ্য বদলানোর দ্বিতীয় কোনো বিকল্প নেই।
আল্লাহ তায়ালা এ জাতীর প্রধান নিয়ামক শক্তিগুলো শিক্ষা ও ফিচার মিডিয়া, সামরিক বেসামরিক প্রশাসন, দেশী বিদেশী কুটনীতির ভেতরে বাইরের সকল দায়িত্বশীলদের সঠিক কথাটি সঠিক সময়ে বোঝার এবং সে অনুযায়ী জাতি ও গন্তব্য নির্ধারণে যোগ্য ভূমিকা রাখার তাওফীক দান করুন। আমীন!!

সূত্র: রাহমাতুল্লীল আলামীন, কাজী সোলায়মান মানসুরপুরী

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY