খোতবা

0
154

‘খোতবা’আরবী শব্দ। বাংলায় আমরা ভাষন, বক্তব্য ইত্যাদি বলে থাকি। এখানে আমরা ধারাবাহিক ভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের গুরুত্বপূর্ন কিছু ভাষন পেশ করব ইনশাআল্লাহ।
১.    খোতবায় হামদ ও সালাত
আল্লাহর রসূল (স.) তাঁর ওয়ায ও খোতবার শুরুতে প্রায়ই এটি পড়তেন। তিনি বলতেন-‘সমস্ত  প্রশংসা মহান আল্লাহ তায়ালার জন্যে, আমরা সদা তাঁরই তা’রীফ করি, (আমাদের প্রতিটি কাজে) আমরা তাঁরই সাহায্য কামনা করি। আমরা রব্বুল অলামীনের কাছে আমাদের (নিজেদের পাপের) ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা তাঁর ওপর (ইমান) আনি, তাঁর ওপর ভরসা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্ট ও আমাদের কর্মের খারাবী থেকে আল্লাহর কছে আশ্রয় প্রার্থনা করি। (জেনে রাখো,)আল্লাহ তায়ালা যাকে হেদায়াত করেন তাকে কেউ গোমরাহ করতে পারেনা, আর তিনি যাকে গোমরাহ করেন তাকে কেউ হেদায়াত করতে পারেনা। আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ তায়ালা ছাড়া কোন ইলাহ নেই। তিনি এক, তাঁর কোন শরীক নেই। আমরা এ কথারও সাক্ষ্য দিচ্ছি, মোহাম্মদ (স.) হচ্ছেন তাঁরই বান্দা এবং তাঁরই পাঠানো রসূল। হামদ ও সালাতের পর (এ কথা নিশ্চিত জেনে রেখো), সর্বোওম আদর্শ হলো মোহাম্মদ (স.)- এর আদর্শ, আর সবচাইতে নিকৃষ্ট কাজ হচ্ছে দ্বীনের নামে নব আবিষ্কৃত রসম রেওয়াজ, আর নব আবিষ্কৃত রসম হলো বেদআত। সকল বেদআতই গোমরাহী, আর সকল গোমরাহী জাহান্নামে যাবে। আমি সর্বশ্রোতা মহাজ্ঞানী আল্লাহ তায়ালার কাছে অভিশপ্ত শয়তান থেকে পানাচাই। ( আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন-) ‘সেদিন আমি জাহান্নামকে জিজ্ঞেস করবো, তুমি কি পূর্ণ হয়েগিয়েছো? জাহান্নাম বলবে; (এখানে পাঠানোর জন্যে) আরও আছে কি? জান্নাতকে মোওাকীদের কাছে আনাহবে, এতে কোন দূরত্ব থাকবে না এবং (বলা হবে) এই হচ্ছে সেই বস্তু যার প্রতিশ্রুতি তোমাদের দেয়া হয়েছিলো প্রত্যেক আল্লাহ অভিমুখী, হেফাযতকারীর জন্যে, যারা না দেখে দয়াময় আল্লাহকে ভয় করেছে এবং বিনীত ভাবে তাঁর সামনে উপস্থিত হয়েছে, তাদেরকে বলা হবে ‘প্রশান্তির সাথে এতে তোমরা প্রবেশ করো। এ হচ্ছে অনন্ত জীবনের দিন। এখানে তারা যা কিছু কামনা করবে তাই পাবে এবং আমার কাছে রয়েছে তারও অধিক।’

২.    শিরক
‘হযরত আবু মূসা আশআরী (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন,
আমাদের উদ্দেশে খোতবা প্রদানের সময় একদিন রসূল (সা.) বললেন, হে লোক সকল! এই শেরেক থেকে বাঁচো। কেননা তা পিঁপড়ার পায়ের থেকেও সূক্ষ্ম,। এ কথা শুনার পর আল্লাহ তায়ালা যাকে জিজ্ঞেসা করার জন্য পছন্দ করেছেন, সে রসূল (সা.) কে জিজ্ঞেসা করলো, হে আল্লাহর রসূল! তা যখন পিঁপড়ার পায়ের থেকেও সূক্ষ্ম, তাহলে আমরা কিভাবে তা থেকে বাঁচতে পারি? জবাবে রসূল (সা.) বলেছেন, তোমরা (এই দোয়া ) পড়ো- ‘ হে আল্লাহ আমরা জেনে বুঝে তোমার সাথে কাউকে শরীক করা থেকে পানাহ চাইএবং না জেনে বুঝে শরীক করার জন্যে তোমার কাছে ক্ষমা চাই।’

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY