আউযুবিল্লাহ্-এর তাফসীর এবং তার বিধান

0
196

আল্লাহ তায়ালা বলেন-‘(হে মোহাম্মদ, এদের সাথে) তুমি ক্ষমার নীতি অবলম্বন করো, নেক কাজের আদেশ দাও এবং এ মূর্খ লোকদের তুমি এড়িয়ে চলো। কখনো যদি শয়তানের কুমন্ত্র তোমাকে একান্তভাবে প্ররোচিত করে, তাহলে তুমি আল্লাহ তায়ালার কাছে আশ্রয় চাও; অবশ্যই তিনি (সব কিছু) শোনেন এবং (সব কিছু) জানেন।’ (সূরা আল আরাফ, আয়াত ১৯৯-২০০)

অন্যত্র আল্লাহ তায়ালা বলেন ‘(হে নবী, তারা তোমার সাথে) কোনো খারাপ ব্যবহার করলে তুমি এমন পন্থায় তা দূর করার চেষ্টা করো, যা হবে নিতান্ত উত্তম; আমি তো ভালো করেই জানি ওরা তোমার ব্যাপারে কি বলে। (হে নবী) তুমি (বরং) বলো, হে আমার মালিক, শয়তানদের যাবতীয় ওয়াসওয়াসা থেকে আমি তোমার পানাহ চাই। (আরো বলো, হে আমার মালিক,) আমি এ থেকেও তোমার পানাহ চাই যে, শয়তান আমার (ধারে) কাছে ঘেঁষবে।’ (সূরা আল মোমেনুন, আয়াত ৯৬-৯৮)

আল্লাহ তায়ালা আরো বলেন ‘তুমি ভালো (কাজ) দ্বারা মন্দ (কাজ) প্রতিহত করো, তাহলেই (তুমি দেখতে পাবে) তোমার এবং যার সাথে তোমার শত্র“তা ছিলো, তার মাঝে এমন (অবস্থা সৃষ্টি) হয়ে যাবে, যেন সে (তোমার) অন্তরংগ বন্ধু। আর এ (বিষয়)-টি শুধু তাদের (ভাগ্যেই লেখা) থাকে যারা ধৈর্য ধারণ করে  এবং এ  (সকল) লোক শুধু তারাই হয় যারা সৌভাগ্যের অধিকারী। যদি কখনো শয়তানের কুমন্ত্রণা তোমাকে প্ররোচিত করেই বসে তাহলে তুমি আল্লাহ তায়ালার কাছে আশ্রয় চাও; অবশ্যই তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।’ (সূরা হা-মীম আস সাজদা, আয়াত ৩৪)

উপরের তিনটি আয়াতের সমার্থক অন্য কোনো আয়াত নেই। আল্লাহ তায়ালা এই আয়াতগুলোর মাধ্যমে তাঁকে, মানুষের দুশমনের সাথে ক্ষমাশীল, সহনশীল ও উদার ব্যবহার করতে বলেছেন। এরকম ব্যবহারে শত্র“র অন্তর্নিহিত স্বাভাবিক সুপ্ত সদগুণাবলী প্রকাশিত হবে এবং নিজের নিকৃষ্ট আচার আচরণের জন্যে সে লজ্জিত হবে। এমনকি সৎ ও ভদ্র ব্যবহার করতে উদ্বুদ্ধ হবে। মূলত শয়তান নামক শত্র“র আক্রমণ থেকে রক্ষার জন্যে এ আয়াতসমূহে আল্লাহ তায়ালা শুধু তার কাছে পানাহ চাইতে উপদেশ দিয়েছেন। কারণ, শয়তান মানুষের মহৎ, উদার ও ক্ষমাশীল ব্যবহারের কোনো মূল্য দেয় না। সে মানব জাতির আদি পিতা হযরত আদম ও তার মধ্যকার তীব্র শত্র“তার কারণে মানুষের ধ্বংস ছাড়া অন্য কিছুতেই সন্তুষ্ট ও তৃপ্তি পায় না।

আল্লাহ তায়ালা বলেন-‘হে আদম সন্তানরা, শয়তান যেভাবে তোমাদের পিতা মাতাকে জান্নাত থেকে বের করে দিয়েছে, তেমনি করে তোমাদেরও সে যেন প্রতারিত করতে না পারে,’ (সূরা আল আরাফ, আয়াত ২৭)

আল্লাহ তায়ালা আরো বলেন-‘অবশ্যই শয়তান তোমাদের শত্রু “, অতএব তোমরা তাকে শত্রু “ হিসেবেই গ্রহণ করো; সে তার দলবলদের এ জন্যেই আহ্বান করে যেন তারা (তার আনুগত্য করে) জাহান্নামের বাসিন্দা হয়ে যেতে পারে; (সূরা আল ফাতের, আয়াত ৬)

আল্লাহ তায়ালা অন্য জায়গায় বলেন-‘(যে এতো বড়ো নাফরমানী করলো) তোমরা কি তাকে এবং তার বংশধরদের আমার বদলে তোমাদের অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করবে, অথচ (প্রথম দিন থেকেই) সে তোমাদের (প্রকাশ্য) দুশমন; (চেয়ে দেখো,) যালেমদের কি নিকৃষ্ট বিনিময় (দেয়া হয়েছে)।’ (সূরা আল কাহাফ, আয়াত ৫০)

শয়তান হযরত আদম (আ.)-কে কসম দিয়ে বলেছিলো, নিশ্চয়ই সে তার কল্যাণ চায়। এ থেকেই সহজেই বুঝা যায় যে, সে আমাদের সাথে কি রকম ব্যবহার করবে। শয়তান তো বলেই রেখেছে-‘(শয়তান বলবে) তোমার ক্ষমতার কসম, আমি তাদের সবাইকেই বিপথগামী করে ছাড়বো, তবে তাদের মধ্যে যারা তোমার একনিষ্ঠ বান্দা তাদের ছাড়া।’ (সূরা সোয়াদ, আয়াত ৮২-৮৩)

আল্লাহ তায়ালা বলেন-‘অতপর তোমরা যখন কোরআন পড়বে তখন বিতাড়িত শয়তানের (ওয়াসওয়াসা) থেকে আল্লাহ কাছে আশ্রয় চাও। যারা (আল্লাহ ওপর) ঈমান আনে এবং (যাবতীয় কার্যকলাপে) তাদের মালিকের ওপর ভরসা করে, তাদের ওপর (শয়তানের) কোনোই আধিপত্য নেই। তার সব আধিপত্য তো তাদের ওপরই (চলে), যারা তাকে বন্ধু (ও অভিভাবক) হিসেবে গ্রহণ করেছে, (উপরন্তু) যারা আল্লাহ সাথে শরীক করেছে।’ (সূরা আন নাহল, আয়াত ৯৮-১০০)

ক্বারীদের একটি দল ও ফকীহ্ বলেন যে, তেলাওয়াতকারী কোরআন শরীফ তেলাওয়াত শেষে বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে পানাহ চাইবে। তারা উপরের আয়াতের এ রকম অর্থই করেন। তারা বলেন-আয়াতে আল্লাহ তায়ালা তেলাওয়াত শেষে তার কাছে শয়তান থেকে পানাহ চাইতে নির্দেশ দিয়েছেন। তারা আরো বলেন, তেলাওয়াতের ইবাদত শেষ করার পর এবাদাতের একটা অহংবোধ তেলাওয়াতকারীর মনে জাগতে পারে। তা দূর করাই শয়তান থেকে আল্লাহর পানাহ চাওয়ার অন্যতম উদ্দেশ্য। সুতরাং তা তেলাওয়াতের পরেই হওয়া উচিত ও যুক্তিযুক্ত।

(চলবে)

 

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY