নূহের মহাপ্লাবনের পানির সন্ধান!

0
100

কয়েক হাজার বছর আগে বিশ্বে এক মহাপ্লাবন ঘটে। সে সময় বিশ্বের প্রায় সব প্রাণী বিলীন হয়ে যায়। নবী নূহ  (আ.)-এর সময় ওই মহাপ্লাবন হয়েছিল বলে ধর্মমতে জানা যায়। পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরআন এবং বাইবেলে সে কাহিনির বর্ণনা আছে। এই মহাপ্লাবনের বিষয়টি ঘটেছে বলে বিজ্ঞানীরাও অনেক আগে থেকে সায় দিয়ে আসছিলেন। এবার তারা দাবি করছেন, নূহ (আ.)-এর সময়কার সেই মহাপ্লাবনের পানির সন্ধান তারা পেয়েছেন!

রাশিয়ার একদল বিজ্ঞানী বিশ্বের সবচেয়ে গভীর গর্ত খুঁড়ে ওই পানি পেয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। এত দিন মনে করা হয়েছিল, পৃথিবীর অভ্যন্তরভাগে মূলত পাথর আছে। ১২ কিলোমিটার পর্যন্ত গভীর গর্ত খুঁড়ে বিজ্ঞানীরা পানির অস্তিত্ব পাওয়ায় ওই ধারণা ভুল প্রমাণিত হলো। পাথর বা মাটির পরিবর্তে বিপুল পরিমাণ পানির সন্ধান পেয়ে বিজ্ঞানীরা খুবই আশ্চর্য হয়েছেন। রাশিয়ার কোলা এলাকায় কোলা সুপারডিপ বোরহোলের মাধ্যমে এ তথ্য জানা গেছে। সেই ১৯৭০ সাল থকে পৃথিবীর গভীরে খনন করছিলেন এই প্রকল্পের গবেষকরা। তবে ১৯৯০-এর দশকে রহস্যজনক কারণে খননকাজ বন্ধ করা হয়। বলা হয় পৃথিবীর গভীরে প্রচণ্ড উত্তাপ গবেষণা বন্ধের কারণ। তবে গুজব ছড়িয়েছিল যে গবেষকরা মাটির তলদেশে নরকের সন্ধান পেয়েছেন। ফলে তারা ভয় পেয়েছিলেন।মাটির গভীর তলদেশ থেকে নাকি শাস্তি পাওয়া আত্মার চিৎকারও শুনেছেন অনেকে। এমনই অভিজ্ঞতার কথা জানা যায় আলাস্কার ফেয়ারব্যাংকসের একটি তেলের খনির শ্রমিকদের কাছ থেকে। তারা নাকি একপর্যায়ে গভীর তলদেশ থেকে সাক্ষাৎ শয়তানের মতো কিছু একটা ওপরে উঠে আসতে দেখেছেন। যদিও সেসবের কোনো প্রমাণ নেই।তবে দীর্ঘ গবেষণার পর কোলা বোরহোল প্রজেক্টের গবেষকরা এখন বলছেন, পৃথিবীর প্রায় ১২ কিলোমিটার গভীরে নূহের মহাপ্লাবনের সময়কার পানি, যা এত দিন খুঁজে পাওয়া যায়নি, তার সন্ধান পেয়েছেন তারা। মহাপ্লাবনের পর বাকি পানি আমাদের পরিচিত মহাসাগর, সাগর, নদী ইত্যাদিতে বিভক্ত হয়ে যায় বলে তাদের ধারণা। এ ছাড়া গবেষক দল পৃথিবীর তলদেশে হিলিয়াম, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের পকেট খুঁজে পেয়েছেন। এটি অসম্ভব বলেই এত দিন জেনে আসছিলেন বিজ্ঞানীরা।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY