আদব কায়দা একটি মানবিক গুন

0
188

তোমরা সবাই জানো, আদব কায়দা হচ্ছে মানুষের এমন একটি গুণ যেটা না থাকলে মানুষের অন্য কোনো গুনই কাজে লাগে না। এটা না থাকলে অন্য অন্যান্য গুণ থেকেও লাভ হয় না; কিন্তু অন্য কিছু না থাকলেও যদি এই একটি গুণ মানুষের মধ্যে থাকে, তাহলে সে ব্যক্তি বিরাট কিছু হতে না পারলেও অন্য মানুষের স্নেহ ভালোবাসা থেকে সে কখনোই বঞ্চিত হয় না। তুমি কি তোমার সংক্ষিপ্ত এই বিগত জীবনে এমনটি দেখোনি, যে, একটি ছেলে কিংবা মেয়ে- যার গুণ অনেক, পড়ালেখা ভালো, চেহারা সুরতও ভালো; কিন্তু হলে কি হবে সে একটু বেয়াদব। মানুষদের সাথে ভালো ব্যবহার করে না। সহপাঠীদের কাউকেই পাত্তা দেয় না। তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে কথা বলে। শিকদের সমীহ করে না, পিতা মাতাকে ভক্তি করে না। এমন কোনো ছেলে মেয়ে যদি তোমার কাশে থাকে তাহলে তুমি তার সম্পর্কে কি বলবে, তার এতো বাইরের গুণ থাকা সত্ত্বেও তুমি তার বন্ধু হতে চাইবে না- তাকেও তুমি তোমার বন্ধু বানাতে চাইবে না। এর কারণ কিন্তু একটাই-ছেলেটা আস্ত একটা বে আদব।

আবার তারই পাশাপাশি তোমার কাশে আরেকটি ছাত্র আছে যে লেখাপড়ায় তেমন কোনো ভালো নয়, দেখতে শুনতেও খুব সুবিধের নয়-কিন্তু ছেলেটির আদব লেহায খুবই ভালো, পিতামাতাও শিকদের সে ভক্তি শ্রদ্ধা করে। কাউকেই সে অবহেলা করে না। সব ব্যাপারে সে অন্যদের সাথে সহযোগিতা করে। বলো তো এমন ছেলেটি সম্পর্কে তোমার ধারণা কি, সে যদি তোমাকে বন্ধু বানাতে চায় তুমি কি তার বন্ধু হতে চাইবে না? তার ভালো আচরণের জন্যে কি তাকে তোমার বন্ধু বানাতে চাইবে না? আমি জানি তুমি এর উভয়টিই চাইবে।

এই যে গুণগুলো যার মধ্যে পাওয়া যায় তাকে সবাই ভালোবাসে। আসলে এর নামই হচ্ছে আদব কায়দা, বাংলা ভাষায় এর আরেকটি শব্দ হচ্ছে শিষ্ঠাচার। ইংরেজীতে একে বলা হয় ম্যানার, গুড বিহেভিয়ার, আরেকটি শব্দও এর জন্যে ব্যবহৃত হয়, তাহচ্ছে এটিকে উর্দু ফার্সি আরবীতে বলা হয় আদব লেহায আদব আখলাক। বিভিন্ন ভাষার বিভিন্ন নাম হলেও মূল কথা একটাই, আর তা হচ্ছে মানুষের এমন কিছু গুণ- যে গুণে সবাই গুণানি¦ত হতে চায়। সত্যিকার কথা হচ্ছে, আমি তুমি আমরা কেউই চাই না যে অন্য লোকেরা আমার কোনো দোষত্র“টির কথা জানুক এবং তারা আমার চরিত্রের কোনো খারাপ দিক নিয়ে আমাকে কিছু কথা বলুন, এতেই আমরা ভালো মানুষ হওয়ার গুরুত্বটা বুঝতে পারি।

আমাদের প্রিয় নবীকে একদিন তার একজন সাথী জিজ্ঞেস করেছিলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ভালো ও মন্দ কাজের পরিচয়টা কি? তিনি বললেন, তোমার জীবনের সে কাজটাই হচ্ছে খারাপ কাজ- যেটা তুমি চাও না যে, তোমার বন্ধু বান্ধব ও আপনজনেরা জানুক। অর্থাৎ যে কাজ তুমি তোমার সাথীদের কাছ থেকে লুকোতে চাও তাই হচ্ছে খারাপ কাজ, তাই হচ্ছে অন্যায় ও গুনাহর কাজ। ঠিক এর বিপরীতে যে কাজ মনে মনে তুমি কামনা করো যে, অন্য লোকেরা জানুক-তোমার এ কাজগুলোর কথা লোকেরা জানলে তোমার মুখটা বড়ো হবে, সত্যিকার অর্থে সেটাই হচ্ছে তোমার নেকী-তোমার ভালো কাজ।

আরেকবার প্রিয় নবী কোনটা নেক কাজ কোনটা বদ কাজ- এটা বোঝানোর জন্যে একটি মুল্যবান কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, যে কাজ তোমার মনে আনন্দ দেয়, যে কাজ করলে তোমার মনটা ভালো লাগে তাই হচ্ছে তোমার নেক কাজ, আবার যে কাজ করলে তোমার অশ্বস্তি লাগে যে কাজ করার পর তোমার নিজেরই মনে হয় যে, এ কাজটা না করলেই মনে হয় ভালো হতো, অর্থাৎ যে কাজটি তোমার মনে এক ধরনের অপে সৃষ্টি করে তাই হচ্ছে তোমার বদ কাজ।

আসলে মানুষের শরীরে তার মনটাই হচ্ছে তার নিয়ামক। মানুষ যখনি কোনো কাজ করার ইচ্ছা পোষণ করে তখন তার মনটাই তাকে বলে দেয় কাজটা ভালো কি মন্দ। মন মানুষকে কখনো ভুল পথে পরিচালিত করে না। এ কারণেই প্রিয় নবী আমাদের বলেছেন- কোনো কিছুর ভালো মন্দের ব্যাপারে দ্বিধাদ্বন্দ থাকলে কিংবা কোনো কাজ করার ইরাদা করলে তুমি আগে তোমার মনটাকেই জিজ্ঞেস করো। প্রথম জিজ্ঞাসাতেই তোমার মন তোমাকে বলে দেবে তোমার এ কাজটা করা ঠিক হচ্ছে কি না।

এতে করে আমরা বুঝতে পারলাম যে, মানুষের ন্যায় অন্যায়ের পরিচয় জানার জন্যে তার কোনো স্কুল কলেজ মাদ্রাসা মক্তবে যাবার প্রয়োজন নেই।

কিশোরদের আদব কায়দাম্ব বই থেকে নেওয়া-

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY