‘জানি না’ বলা লজ্জাজনক নয় সাহসিকতার পরিচয়

0
68

কোরআনে কারিমে ইরশাদ হচ্ছে, ‘বলুন, যারা জানে এবং যারা জানে না; তারা কি সমান হতে পারে? চিন্তা-ভাবনা কেবল তারাই করে, যারা বুদ্ধিমান।’ -সূরা জুমার: ৯

উল্লেখিত আয়াতে মহান আল্লাহ হজরত রাসূলুল্লাহকে (সা.) বিপথগামীদের জিজ্ঞাসা করতে বলছেন, যারা জেনে কাজ করে আর যারা না জেনে কাজ করে তারা কখনও সমান হতে পারে কিনা। এর উত্তর হচ্ছে, এটা চিরসত্য কথা- জেনে কাজ করা ব্যক্তি, না জেনে কাজ করা ব্যক্তির চেয়ে সব দিক দিয়ে উত্তম। বক্তব্যটির সরল অর্থ হলো, জ্ঞানী ব্যক্তি মূর্খব্যক্তির চেয়ে সর্বদিক দিয়ে উত্তম।

কিন্তু আমাদের অনেকেই ‘জানি না’ বলাটাকে সাহসের বিষয় বলে মনে করেন না। কিন্তু এটাই আসল সাহসিকতার পরিচায়ক। না জেনে কিছু মূলত লজ্জাজনক বিষয়। যারা জানি না বলতে লজ্জা পায়, অথচ বেঠিক অসত্য ও ভুল কথা বলতে লজ্জা পায় না- তাদের পরিণতি মোটেও ভালো হয় না। তারা একদিন এমন সমস্যায় পড়ে যার থেকে মুক্তি পাওয়া খুব কঠিন।

প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে মানুষের জ্ঞানের পরিধি অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এই উন্নতির পেছনে যে জিনিসটি ক্ষতিকর তা হচ্ছে-  মানুষের অহংকার। সেই সঙ্গে সব বিষয়ে মানুষের সবজান্তা শমসের ভাব। যা কোনোভাবেই কাম্য। এমন মনোভাবের কারণে মানুষকে অযাচিত অনেক বিড়ম্বনা পোহাতে হয়।

মানুষ যদি জানার ক্ষেত্রে নিজেকে স্বনির্ভর মনে করে তাহলে সে উন্নতি করতে পারবে না। তাকে আরও বেশি জানার জন্য অবশ্যই প্রশ্ন করতে হবে এবং যে বিষয়ে জ্ঞান রাখে না তা স্বীকার করতে হবে।

আলেমরা বলেন, সেই ব্যক্তি উন্মাদ যার কাছে যে বিষয়ে প্রশ্ন করা হবে সে জানুক বা না জানুক তার জবাব দেয়। আর জ্ঞানী সেই ব্যক্তি- যে না জানা বিষয়ে বলে যে আমি জানি না।

ইমাম গাজালি (রহ.) বলেছেন, কেউ যদি তোমার কাছে কোনো প্রশ্ন করে আর তুমি তার জবাব না জানো তাহলে বলবে, আমি জানি না।

দার্শনিক ও মহামানবদের এসব উপদেশের ওপর আমল করা অতি কঠিন এবং যাদের মধ্যে অহংকার রয়েছে তারা নিজেকে অন্যের কাছে ছোট না করার ভয়ে না জানা বিষয়েও নিজের মতামত প্রকাশ করে থাকে যার পরিণতি অতি ভয়াবহ হয়।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY