হাসি কৌতুক সম্পর্কে রসূলুল্লাহ (স)-এর কর্মপদ্ধতি

0
105

হযরত আবু উমামা (রা.) বলেন, সবার মাঝে রসূলুল্লাহ (স.) সবচাইতে বেশী হাসিমুখ এবং খোশ মোযাজের মানুষ ছিলেন। (তাবারানী)

হযরত আবুদ দারদা (রা.) বলেন, রসূলুল্লাহ (স.) মুচকি হাসি ব্যতীত কোনো কথাই বলতেন না। (মোসনাদে আহমদ)

তাঁর কখনো অট্টহাসির অভ্যাস ছিলো না।

হযরত জাবের বিন সামুরা (রা.) বলেন, রসূলুল্লাহ (স.) কখনো অনিয়ন্তিত হাসি হাসতেন না; তিনি সব সময়ই মুচকি হাসি হাসতেন।

(মোয়াত্তা ইমাম মালেক, তাবারানী)

হযরত মোররা (রা.)-এর পিতা বলেন, বেশী হাসি আসলে রসূলুল্লাহ (স.) মুখের ওপর হাত রাখতেন। (বাগাবী, কানযুল ওম্মাল, চতুর্থ খণ্ড)

জান্নাতে বৃদ্ধদের প্রবেশ

হযরত হাসান (রা.) বলেন, একবার এক বৃদ্ধা রসূলুল্লাহ সাললাহু আলাইহে ওয়া সাল্লামের কাছে এসে নিবেদন করলেন, ইয়া রসূলুল্লাহ সাললাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম, দোয়া করুন যেন আমি জান্নাতে যেতে পারি। তিনি বললেন, ওহে অমুকের মা, কোনো বৃদ্ধা তো জান্নাতে যাবে না। এ কথা শুনে আগন্তুক মহিলা কেঁদে কেঁদে চলে যাচ্ছিলেন। রসূলুল্লাহ (স.) উপস্থিত লোকজনদের বললেন, বৃদ্ধাকে বলে দাও, সে বৃদ্ধাবস্থায় জান্নাতে যাবে না; বরং যুবতী হয়েই যাবে। (শামায়েলে তিরমিযী)

 

আমাদের কার্যনির্বাহী

হযরত ইমাম রাযী (র.) ‘রাব্বুল আলামীন’ (সৃষ্টিকুলের রব— মালিক) আয়াতের তাফসীর প্রসঙ্গে হযরত যুনন–ন মিসরী (র.)-এর একটি ঘটনা উলে–খ করেন। একদিন তিনি কাপড় ধোয়ার জন্যে নীল নদীর পাড়ে যান। সেখানে তিনি একটি মোটা তাজা বিচ্ছু দেখতে পান, সেটি পাড়ের দিকে যাচ্ছিলো। বিচ্ছুটি পাড়ে পৌঁছলে পানির মধ্য থেকে একটি কচ্ছপ ভেসে ওঠলো। বিচ্ছুটি কচ্ছপকে দেখতে পেয়ে দৌড়ে এসে সেটির পিঠে ওঠলো। কচ্ছপ বিচ্ছুটিকে বহন করে নদীর অপর পাড়ের দিকে চলে গেলো।

হযরত যুনন–ন (র.) বলেন, আমি লুঙ্গি পরে নদীতে নেমে পড়ি এবং বিচ্ছু ও কচ্ছপের কর্মকান্ড দেখতে থাকি। দেখতে দেখতে কচ্ছপটি নদীর অপর পাড়ে পৌঁছে যায় এবং বিচ্ছুটিও কচ্ছপের পিঠ থেকে নেমে পড়ে। আমিও নদী থেকে উঠে সেটির পেছনে পেছনে চলতে থাকি। চলতে চলতে একখানে দেখলাম, ঘন বৃক্ষরাজির ছায়ায় এক যুবক গভীর নিদ্রায় আচ্ছন্ন হয়ে আছে। আমি মনে মনে ভাবলাম, এ যুবককে দংশন করার জন্যেই বুঝি বিচ্ছুটি নদীর ওপার থেকে এসেছে। আমি একথাই ভাবছিলাম, হঠাত্ দেখলাম একটি বিষধর সাপ। সেটি ফণা উঠিয়ে যুবকের প্রতি এগুচ্ছিলো, কিন্তু সাপটি নিদ্রাচ্ছন্ন যুবকের কাছে পৌঁছামাত্রই বিচ্ছুটি সামনে অগ্রসর হয়ে সাপটির টুঁটি চেপে ধরে। কিছুক্ষণের মধ্যেই সাপটি মরে যায় এবং বিচ্ছুটি আবার নদীর পাড়ের দিকে ফিরে আসে। সেখানে বিচ্ছুটিকে বহনকারী কচ্ছপ অপেক্ষা করছিলো। তার পিঠে চেপে বিচ্ছুটি পুনরায় নদীর অপর পাড়ে চলে গেলো।

হযরত যুনন–ন মিসরী (র.) বলেন, এ আজব ঘটনা দেখে আমি নিম্নোক্ত কবিতা পংক্তি আবৃত্তি করতে থাকি—

‘রব্বে জলীল তাকে সব অনিষ্ট থেকে হেফাযত করছেন, অথচ সে কিছুই জানতে পারেনি। তার হেফাযত সম্পর্কে কিছুই সে জানতে পারলো না।’ তার চোখ কিভাবে মালিক মনিব রাব্বুল আলামীন থেকে বেখবর হয়ে নিদ্রায় আচ্ছন্ন হয়ে আছে। অথচ তাঁর কাছ থেকেই যাবতীয় কল্যাণ এবং নেয়ামত বর্ষিত হচ্ছে। হযরত যুনন–ন মিসরী (র.) বলেন, আমার কবিতা আবৃত্তির আওয়ায শুনে যুবকটি জেগে ওঠে। আমি তাকে পুরো ঘটনা শুনাই। যুবকটির ওপর এ ঘটনা এতো বেশী প্রভাব বিস্তার  করে যে, সে খেল তামাশা, আনন্দ বিলাসের জীবন থেকে তাওবা করে এবং সমগ্র জীবন আল্লাহর নিদর্শন দেখার জন্যে পর্যটনে কাটিয়ে দেয়।

(তাফসীরে কবীর, তারীখুল ইয়াফেঈ)

আজব তালাক

কাযী আবু বকর ইবনুল আরাবী (র.) বলেন, যেকালে মনসুর বাগদাদের খলীফা ছিলেন, তখন ম–সা বিন ঈসা হাশেমী নামক এক ব্যক্তি ভালোবাসার আতিশয্যে স্ত্রীকে বললো, তুমি চাঁদের চেয়ে সুন্দর না হলে তোমাকে তিন তালাক। এতে স্ত্রী ভীষণ অস্থির হয়ে পড়ে। সে মনে করে, তালাক তো হয়েই গেছে। তাই সে স্বামীর সম্মুখে আসাও বন্ধ করে দেয়। স্বামী তো এ বাক্যটি স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসার আতিশয্যেই বলে ফেলেছে, কিন্তু হুশ আসলে সেও চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। সারা রাত তার অত্যন্ত অস্থিরতায় কাটে। খুব কষ্টে তার ভোর হয়। ভোরে সে খলীফা মনসুরের কাছে গমন করে এবং তাকে ঘটনা বলে। মনসুর অনতিবিলম্বে শহরের বড় বড় আলেম এবং ফেকাহবিদদের একত্র করে আলোচ্য মাসয়ালা তাদের সামনে উপস্থাপন করেন। অধিকাংশ ফেকাহবিদের অভিমত হলো, তালাক হয়ে গেছে। কেননা, তার স্ত্রী তো আর চাঁদের চেয়ে সুন্দরী নয়, কিন্তু ফেকাহবিদদের একজন অভিমত প্রকাশ করলেন, তালাক হয়নি। তাকে এর কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, তালাক না হওয়ার কারণ, আল্লাহ তায়ালা কোরআন মজীদে এরশাদ করেন—

‘নিসন্দেহে আমি মানুষকে অত্যন্ত সুন্দর  অবয়বে সৃষ্টি করেছি।’

খলীফা মনসুর ফেকাহবিদের এ জবাব খুবই পছন্দ করেন এবং ম–সা বিন ঈসা হাশেমীকে বলে পাঠান, তোমার স্ত্রী তালাক হয়নি। (হায়াতুল হায়ওয়ান লিদ দামিরী, প্রথম খণ্ড, শব্দঃ ইনসান)

 

 

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY