আমাদের সভ্যতার বৈশিষ্ট্য

0
134

 

কোনো কোনো লেখক সভ্যতার পরিচয় উল্লেখ করতে গিয়ে লিখেছেন, সভ্যতা হচ্ছে এমন সম্মিলিত ব্যবস্থা যা মানুষকে সাংস্কৃতিক ফলাফল অর্জনে অধিক থেকে অধিকতর সাহায্য করে। সভ্যতা চারটি মৌলিক উপাদানে তৈরী হয়। এগুলো হচ্ছে, অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, রাজনৈতিক ব্যবস্থা, চারিত্রিক নীতিমালা এবং জ্ঞান ও শিা সংগঠন।

সভ্যতার বিকাশ এবং উন্নতির জন্যে ভৌগোলিক অর্থনৈতিক এবং মনস্তাত্ত্বিক উপাদান অত্যাবশ্যক। উদাহরস্বরূপ বলা যায়- ধর্ম, ভাষা, জ্ঞান ও প্রশিণ একান্ত প্রয়োজনীয় বিষয়। সভ্যতার পতন এবং বিলুপ্তির জন্যেও কতিপয় উপাদানের প্রয়োজন হয়। সভ্যতার বিকাশ এবং উন্নতির বিপরীতধর্মী কিছু উপাদান আছে। এসব উপাদানের কয়েকটি হচ্ছে, নৈতিকতা এবং চিন্তার অধঃপতন, ব্যবস্থাপনা ও আইনের প্রতি উদাসীনতা, যুলুম অত্যাচারের প্রসার, বেপরোয়া মনোভাবের ব্যাপকতা, নিষ্ঠাবান এবং সুযোগ্য নেতৃত্বের অনুপস্থিতি।

মানুষ যখন পৃথিবীতে শান্তিপূর্ণ এবং স্থিতিশীল জীবন যাপন করতে শুরু করে তখন থেকে সভ্যতার এই কাহিনী শুরু হয়। সভ্যতার উপাদান একটির সঙ্গে অন্যটি ওতপ্রোতভাবে গ্রথিত। এসব উপাদান প্রত্যেক জাতি পরবর্তী জাতির কাছে স্থানান্তর করতে থাকে। সভ্যতা কোনো বংশধারা অথবা ভূখন্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকে না; বরং বলতে গেলে উপরোক্ত উপাদান থেকেই সভ্যতার জন্ম হয়। সম্ভবত ইতিহাসে এমন কোনো জাতি আসেনি যারা ঐতিহাসিকভাবে সভ্যতার পাতায় কিছু না কিছু ভূমিকা রাখেনি। তবে একটি সভ্যতা অবশ্যই অন্য সভ্যতার চেয়ে স্বাতন্ত্রের পরিচয় বহন করে। এই স্বাতন্ত্র হচ্ছে সভ্যতা সৃষ্টির বুনিয়াদী শক্তিগুলো। যে বুনিয়াদী শক্তির ওপর সভ্যতার বিকাশ ঘটে। এই বুনিয়াদী শক্তি হচ্ছে এমন সব নিদর্শন যা সমগ্র মানবজাতির জীবন মান নিরূপণ করে। যে সভ্যতা তার মিশনে এবং পয়গামে কতো বেশী বিশ্বজনীনতার প্রকাশ ঘটাতে সম হয় এবং মানব কল্যাণে ভূমিকা রাখতে পারে, বাস্তবতার পরিচয় দিতে গিয়ে সে সভ্যতা ততো বেশী ঐতিহাসিক গুরুত্ব লাভ করে এবং ইতিহাসে ততো বেশী স্থায়ী আসন লাভে সম হয়।

মানব সভ্যতার ধারায় আমাদের সভ্যতার বিরাট ভূমিকা রয়েছে। আমাদের সভ্যতার আগেও অনেক সভ্যতা বিলীন হয়ে গেছে, পরবর্তীকালেও আরো বহু সভ্যতার বিস্তার ঘটবে। আমাদের সভ্যতা বিকশিত হওয়ার কিছু উপাদান রয়েছে এবং এই সভ্যতা লালিত হওয়ারও কিছু উপাদান রয়েছে। কিন্তু যেসব প্রসঙ্গ এই আলোচনার সাথে সম্পর্কহীন। কারণ আমার আলোচনার বিষয় হচ্ছে আমাদের সভ্যতা সূচনার দিকে কেমন ছিলো তা বলা?

এই সভ্যতার বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আলোচনা করার আগে আমি দেখাতে চেষ্টা করবো- মানুষের উন্নতি অগ্রগতির ইতিহাসে এই সভ্যতা কতোটুকু অবদান যোগাতে পেরেছে। বিশ্বাস জ্ঞান, শিল্প সাহিত্য, শাসন ব্যবস্থার ক্ষেত্রে বিশ্বের বিভিন্ন জাতির ওপর এই সভ্যতা এক সময় একটা স্থায়ী এবং অয় ভূমিকা রাখতে পেরেছিলো। সে বিষয়ে এখানে কিছু কিছু আলোচনা করা হবে। আমাদের সভ্যতা সম্পর্কে যারা জানতে চান অধ্যয়ন করতে চান এই সভ্যতা নিজের প্রতি তাদেরকে এমনিই আকৃষ্ট করে। মোটামুটি যেসব বৈশিষ্ট্যের কারণে আমাদের সভ্যতা মানুষকে আকৃষ্ট করে সেসব হচ্ছে এই,

প্রথম বৈশিষ্ট্য

এই সভ্যতার ভিত্তি হচ্ছে তাওহীদ বিশ্বাস। একমাত্র এই সভ্যতাই মানুষকে এক ও অদ্বিতীয় আল্লাহর প্রতি দাওয়াত দেয়। আল্লাহর বাদশাহী এবং রাজত্বে কেউ তাঁর অংশীদার নেই। মানুষকে একমাত্র আল্লাহরই এবাদাত বন্দেগী করতে হবে এবং তাঁকেই জীবনের লক্ষ ও উদ্দেশ্যে পরিণত করতে হবে। সূরা ফাতেহায় বলা হয়েছে, ‘আমরা তোমারই বন্দেগী করি এবং তোমার কাছেই সাহায্য চাই।’ তিনিই সম্মান দান করেন এবং তিনিই অপমানিত করেন। মা এবং দয়ার দান তাঁর একক নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

আকাশ এবং যমীনের সবকিছুই তাঁর নিয়ন্ত্রণে। তাওহীদের মূলমন্ত্র এবং তাৎপর্য মনে মগযে ধারণ করার এটা হচ্ছে মূলকথা। তাওহীদ বিশ্বাস একজন মানুষকে উচ্চমর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছে এবং মানুষকে দুনিয়ার সব বাদশাহ আমীর ওমারা এবং পোপবাদ ব্রাহ্মান্যবাদ থেকে মুক্ত করেছে। শাসক এবং শাসিতের সম্পর্ককে পরিশীলিত করেছে। মানুষের দৃষ্টিকে এক অদ্বিতীয় আল্লাহর প্রতি ফিরিয়ে দিয়েছে। আল্লাহ তায়ালা হচ্ছেন সমগ্র মাখলুকের সৃষ্টিকর্তা এবং সমগ্র বিশ্বজগতের প্রতিপালক।

এই বিশ্বাস ইসলামী সভ্যতার ওপর প্রচন্ড এক প্রভাব বিস্তার করেছে। এর ফলে এই সভ্যতা প্রাচীনকালের সকল সভ্যতার চেয়ে স্বতন্ত্র একটি মর্যাদা লাভ করেছে। এই আকীদা বিশ্বাস কাব্যে ও সাহিত্যে মূর্তি পূজার সকল মলিনতা থেকে মুক্ত থেকেছে। মুসলমানরা পৌত্তলিক বিশ্বাসের ধারক গ্রীক সাহিত্য অনুবাদ থেকে নিজেদের মুক্ত রেখেছে। স্থাপত্য ভাষ্কর্য এবং লিপি শিল্পে দতা এবং পারদর্শিতা সত্ত্বেও মূর্তি তৈরী ছবি অঙ্কনে তারা কোনো ভূমিকা গ্রহণ করেনি।

ইসলাম মূর্তিপূজার বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। ইসলাম মুসলমানদের নবী, নেতা, বিজয়ী ও বীরদের মূর্তি তৈরীর অনুমতি দেয়নি। অথচ এ রকমের মূর্তি তৈরী করাকে এক সময় প্রাচীন ও আধুনিক সভ্যতার উল্লেখযোগ্য অনুষাঙ্গ মনে করা হতো। কারণ এ সভ্যতাগুলো ইসলামের তওহীদ বিশ্বাসের মর্যাদা অর্জনে সম হয়নি।

তাওহীদ বিশ্বাস একত্ববাদের এমন রং তৈরী করেছে যার প্রকাশ আমাদের সভ্যতার সকল নিদর্শন এবং উপাদানে বিস্তারিতভাবে বিধৃত রয়েছে। এ কারণেই তাওহীদের পয়গাম এবং সভ্যতার ল্যস্থলের মধ্যে অভিন্নতা রয়েছে। আইন কানুন প্রণয়নের েেত্র অভিন্নতা রয়েছে। জনগণের উদ্দেশ্য ও ল্েযর মধ্যে সমাজের সার্বিক কর্মকান্ডে তাওহীদের প্রকাশ রয়েছে। চিন্তা চেতনায় ঐক্য এবং অভিন্নতা রয়েছে। ইসলামের আলোকে যারা শিল্পচর্চা করেছে তাদের শিল্প সৃষ্টির মূলেও এই একত্ববাদের প্রকাশ রয়েছে। স্পেনে হাতীর দাঁতে তৈরী শিল্পকর্ম, মিসরে তৈরী পোশাক শিল্প, সিরিয়ায় তৈরী মাটির পাত্র, ইরানে তৈরী অলংকার- এর সব কিছুতে নানা বৈচিত্র সত্ত্বেও একই রকমের ছাপ অঙ্গিত রয়েছে।

 

দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য

আমাদের সভ্যতার দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য হচ্ছে যে, এই সভ্যতা সমগ্র মানবতার ওপর প্রভাব বিস্তার করেছে। এই সভ্যতার আবেদন বিশ্বজনীন এবং সার্বজনীন। মানুষের বর্ণ, গোত্র, ভাষা, দেশ-এর পার্থক্য সত্ত্বেও কোরআনের আল্লাহ তায়ালা বলেন,

‘হে মানব সম্প্রদায়, আমি তোমাদের একটি পুরুষ ও একটি নারী থেকে সৃষ্টি করেছি, তারপর আমি তোমাদের জন্যে জাতি ও গোত্র বানিয়েছি, যাতে করে (এর মাধ্যমে) তোমরা একে অপরের সাথে পরিচিত হতে পারো, কিন্তু আল্লাহর কাছে সর্বাধিক মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি হচ্ছে সে, যে (আল্লাহ তায়ালাকে) বেশী ভয় করে, অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা সব কিছু জানেন এবং সবকিছুর (পুংখানুপুংখ) খবর রাখেন।’ (সূরা হুজুরাত, আয়াত ১৩)

কোরআনের এই ঘোষণা মানুষের ঐক্য এবং অভিন্নতার কথাই সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ করেছে। ফলে ইসলামের এই সভ্যতা বিনির্মাণে বর্ণ ভাষা অঞ্চল নির্বিশেষে সকল মানুষই ভূমিকা রাখতে সম হয়েছে। ইসলাম সকলের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে বিজয় পতাকা উড্ডীন করেছে। অন্যান্য সভ্যতা মাত্র একটি জাতির বীরদের নিয়ে গর্ব করে কিন্তু ইসলামী সভ্যতা গর্ব করতে পারে বিভিন্ন গোত্র ও ভাষার লোকদের নিয়ে। কারণ তারা সবাই ইসলামী সভ্যতা বিনির্মাণে ভূমিকা রেখেছে। আবু হানিফা, মালেক, শাফেয়ী, আহমদ, আল খলিল, সীবওয়ায়হ, আলকিন্দি, আলকারা, আল ফারাবী, ইবনে রুশদ এবং তাঁর মতো অন্যান্য ব্যক্তিদের মধ্যে যারা বিখ্যাত ছিলেন তারা বিভিন্ন জাতির সঙ্গে সম্পর্ক রাখা সত্ত্বেও ছিলেন ইসলামেরই সৈনিক। তাদের মাধ্যমে ইসলামী সংস্কৃতি মানুষের সামনে সুস্থ চিন্তাচেতনার উৎকৃষ্ট ফলাফল উপস্থাপন করতে পেরেছিলো।

তৃতীয় বৈশিষ্ট্য

আমদের সভ্যতার তৃতীয় বৈশিষ্ট হচ্ছে নীতি নৈতিকতার অগ্রাধিকার প্রদান করা, এই বৈশিষ্ট্যটা ইসলামী ব্যবস্থাকে অন্য সব তৎপরতার ওপর প্রথম স্থান দান করেছে। নীতিমালা থেকে কখনো দৃষ্টি ফেরানো হয়নি এবং একে কখনো শাসক, দল বা ব্যক্তির বস্তুবাদী কল্যাণের মাধ্যম করা হয়নি। সরকার পরিচালনায় জ্ঞান বুদ্ধির পরিশীলন, আইন কানুন তৈরী, সন্ধি যুদ্ধ অর্থনীতি, রাজনীতিসহ এবং অন্যান্য সকল েেত্র নৈতিক নীতিমালাকে সব সময়েই অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। এেেত্র ইসলামী নীতিমালা যে চূড়ান্ত পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে এবং এ সভ্যতা যেসব নিদর্শন রেখে গেছে সেসব সত্যিই বিস্ময়কর। বরং এই সভ্যতাই বলতে গেলে একমাত্র সভ্যতা যা মানুষের জন্যে নিষ্কলুষ সৌভাগ্যের নিশ্চয়তা দিয়েছে এবং দুর্ভাগ্যের ছায়া থেকে তাকেও রা করেছে।

চতুর্থ বৈশিষ্ট্য

চতুর্থ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে যে, এই সভ্যতা জ্ঞানের সত্যিকার নীতিমালার ওপর বিশ্বাসী ছিলো। পরিচ্ছন্ন নীতিমালাকেই এই সভ্যতা নিজের কেন্দ্র বিন্দু হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। এই সভ্যতা বিবেক এবং অন্তরকে হামেশা একই সঙ্গে সম্বোধন করেছে এবং চিন্তা এবং প্রেরণাকে একই সঙ্গে উদ্বুদ্ধ করেছে। দৃষ্টিভঙ্গির দিক থেকে এই সভ্যতা নানা বৈশিষ্টে বৈশিষ্ট্যমন্ডিত। এই বৈশিষ্ট্যের েেত্র এই সভ্যতার কোনো অংশীদার নেই। আমাদের সভ্যতার আরেকটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে যে, এই সভ্যতা সত্য এবং ন্যায়নীতির ভিত্তিতে একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা তৈরী করেছে যে ব্যবস্থা ধর্ম এবং বিশ্বাসের ওপর দাঁড়ানো ছিলো। এই ব্যবস্থা ব্যতীত ধর্ম এবং রাষ্ট্রের উন্নতির লালন এবং বিকাশে বাধা সৃষ্টি হয়। ধর্ম হচ্ছে এই ব্যবস্থার উন্নতির ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। বাগদাদ, দামেশক, কায়রো, কর্ডোভা এবং গ্রানাডার মসজিদগুলোর দেয়াল থেকে জ্ঞানের যে আলোর বিচ্ছুরণ ঘটে, সেই বিচ্ছুরণ সমগ্র বিশ্বজগতকে উজ্জ্বল এবং আলোকমন্ডিত করে দিয়েছে।

ইসলামী সভ্যতা হচ্ছে এমন একটি সভ্যতা যা ধর্মকে রাষ্ট্র থেকে কখনো আলাদা করেনি। কিন্তু তা সত্ত্বেও এ দুটির সমন¦য় সেরকম কোনো অকল্যাণ সৃষ্টি হয়নি যেমনটি দেখা দিয়েছিলো ইউরোপে। সত্য ন্যায় প্রতিষ্ঠায়ই হচ্ছে এই সভ্যতার প্রধান ল্য। রাষ্ট্রপ্রধান হচ্ছেন এখানে মুসলমানদের খলীফা এবং আমীর এবং আইন প্রণয়ন করা শরীয়ত বিশেষজ্ঞদের কাজ। জ্ঞানীদের সকল শ্রেণীর ওপর একটি বিশেষ খেদমতের দায়িত্ব রয়েছে, কিন্তু আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান। অন্য মানুষের সেবার ওপরই মানুষের মর্যাদা এবং তাকওয়ার পরিচয় নির্ভর করে। ফাতেমা নামে একজন নারীর বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছিলো। তাকে অভিযোগের শাস্তি থেকে রেহাই দেয়ার জন্যে রসূল (স.)-এর কাছে সুপারিশ করা হয়েছিলো। রসূল (স.) ক্রুব্ধ কণ্ঠে বললেন, যদি মোহাম্মদের কন্যা ফাতেমাও চুরি করতো তবু আমি তার হাত কেটে দিতাম। (বোখারী, মুসলিম)

রসূল (স.) একবার বলেছিলেন, সমগ্র সৃষ্টি হচ্ছে আল্লাহর পরিবার। এই পরিবারের মধ্যে আল্লাহর কাছে তারাই প্রিয় যারা সৃষ্টির কল্যাণ সাধন করে।

এই হচ্ছে সেই দ্বীন যার ওপর আমাদের গোটা সভ্যতার প্রাসাদ দাঁড়িয়ে আছে। এই দ্বীনে কোনো ধনী ব্যক্তি কোনো ধর্মীয় নেতা, কোনো পরিবারিক পরিচয়ে বিশিষ্ট ব্যক্তির জন্যে বিশেষ কোনো বৈশিষ্ট্য নেই।

আল্লাহ তায়ালা তার রসূলকে শিখিয়ে দিয়েছেনÑ ‘বলে দাও, আমিও তোমাদের মতোই একজন মানুষ।’ (সূরা আল কাহাফ, আয়াত ১১০)

পঞ্চম বৈশিষ্ট্য

এই সভ্যতার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হচ্ছে মানুষের প্রতি ভালোবাসা। ধর্মের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত অন্য কোনো সভ্যতার মধ্যেই এ রকম বৈশিষ্ট্য পাওয়া যায় না। যারা ধর্মের ওপর বিশ্বাস করে না এবং আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসী নয় হয়তো তারা সকল ধর্মকে একই দৃষ্টিকে দেখে এবং ধর্মের অনুসারীদের সঙ্গে একই রকম আচরণ করে থাকে। কিন্তু যারা নিজেদের ধর্মকে সত্যধর্ম মনে করে তাদের বিশ্বাসই সবচেয়ে সত্য এবং নির্ভুল।

তারপর তারা যদি তলোয়ার উঠানো, দেশ জয় করা এবং শাসন কার্য পরিচালনা করা, বিচারকের আসনে বসার সুযোগ পায় তখন তারা যুলুম অত্যাচার করার এবং সত্য ন্যায় সুবিচার থেকে নিজেদের দূরে রাখার কথা চিন্তা করে না। কারণ ধর্ম তাদেরকে এ রকম কোনো অনুমতিই প্রদান করে না। মানুষকে তারা জোরপূর্বক ইসলাম গ্রহণে বাধ্য করে না। এ রকম মানুষকে সত্যিই ইতিহাসে বিস্ময়কর সৃষ্টি বলে মনে করা হবে। কাজেই এটা বিস্ময়ের ব্যাপারে যে, ইতিহাসে এমন একটি সভ্যতা বিদ্যমান রয়েছে যার ভিত্তি ধর্মের ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং ধর্মের নীতিমালার ওপর, যার সঠিক বুনিয়াদ প্রতিষ্ঠিত। এই সভ্যতা মানুষের প্রতি সর্বাধিক তার ভালোবাসার পরিচয় দিয়েছে এবং সর্বাধিক ইনসাফ এবং মানবতার পরিচয় এই সভ্যতায় দিয়েছে। এই কৃতিত্ব আমাদের সভ্যতাই দেখাতে পেরেছে। পরবর্তী আলোচনায় এ সম্পর্কিত অনেক উদাহরণ পেশ করা হবে। এখানে আমাদের জন্যে এটা জেনে নেয়াই যথেষ্ট যে, এ ক্ষেত্রে আমাদের সভ্যতা সম্পূর্ণ স্বাতন্ত্রের দাবীদার। আমাদের দ্বীন একটি সভ্যতা স্থাপন করেছে কিন্তু এর বরকতে বিশ্বে সকল সভ্যতাই উপকৃত হয়েছে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY