শেরকের বিপদ

0
116

শেরকের বিপদ সম্পর্কে আমি রসূল (স.) প্রদত্ত আর একখানা খোতবা শোনাবো। যা তাফসীরে ইবনে কাছীর ১ম খন্ডে উল্লেখ করা আছে। উম্মুল মোমেনীর হযরত আয়শা সিদ্দীকা (রা.) মাতৃকূলের ভাই হযরত তোফায়ল বিন সানজরা (রা.) বলেছেন যে, রসূল (স.) খোতবা দানের উদ্দেশে দাঁড়ান। এরপর আল্লাহ ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু’-এর ব্যাপক হামদ সানা বর্ণনা করার পর বললেন- ‘হে লোকেরা! তোফায়েল একটি স্বপ্ন দেখেন যা তোমাদের অনেকের কাছে সে প্রকাশও করেছে। তোমাদের মুখ থেকে একটি কথা বলতে তবে আমারও ইচ্ছা ছিলো যে, আমি তোমাদের থামিয়ে দিতাম। কিন্তু কোন কারণে আজ পর্যন্ত আমি বলতে করতে পারিনি। সে জন্যে আমি বিশেষভাবে নিষেধ করে যাচ্ছি যে, সাবধান! কখনো কোনো সময় একথা বলবে না যে, ‘আল্লাহর রসূল চাইলে’ বরং একথা বলো যে, ‘যা কেবল আল্লাহ তায়ালা ইচ্ছা করেন’।

প্রিয় মুসলিম ভাইয়েরা আমার! আল্লাহর রসূলের কথাগুলো আপনাদের সামনে রয়েছে। স্মরণ রাখুন, একথা কখনো যেন বলবেন না যে, আল্লাহর রসূল ইচ্ছা করলো- কোনো সৃষ্টির ইচ্ছা আল্লাহ তায়ালার ইচ্ছার কাছে কিছুই না। কেন আপনারা কোরআনের ওই আয়াত পড়েননি? ‘তোমরা যা ইচ্ছা করো তা কখনো কোনো কাজ হবে না; বরং আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যা ইচ্ছা করেন তাই হবে।’ তাফসীরে ইবনে কাছীরে উদ্ধৃত হাদীসে বলা হয়েছে- এক ব্যক্তি রসূল (স.)-এর সামনে এসে বললো- ‘যা আল্লাহ চান এবং আপনি যা চান’। একথা শুনতেই রসূল (স.) খুবই রাগান্বিত হয়ে  যান এবং বলতে থাকেন- তুমি কি আমাকে আল্লাহর শরীক সাব্যস্ত করেছো? একথা বলো না; বরং বলো যে, যা আল্লাহ তায়ালা একাই ইচ্ছা করেন।’ আফসোস, আজকাল কোনো কোনো মুসলমানের মুখে এমন কথাও বের হচ্ছে। তাদের উচিত এই শেরেকী যবানের ব্যাপারে তওবা করা এবং এরকম কথা বলা ত্যাগ করা। হ্যাঁ, আমি এ সঙ্গে এটাও বলবো যে, যে স্বপ্নের দিকে হুজুর (স.) তার খোতবায় ইঙ্গিত করেছেন সেটা কি ছিলো? এটাও তাফসীরে ইবনে কাছীরে রয়েছে যে, হযরত তোফায়ল (রা.) বলেছেন, আমি স্বপ্নে দেখলাম কতিপয় ইহুদী বসা আছে। আমি তাদের কাছে গেলাম এবং তাদের বললাম তোমরা তো বড়ো ভালো লোক কিন্তু আফসোস, তোমাদের কাছে এটাই বড় খারাপ যে, তোমরা হযরত ওযায়র (আ.)-কে আল্লাহর সন্তান বলো। জবাবে তারা বললো যে, তোমরাও তো খুব ভালো মানুষ কিন্তু তোমাদের মাঝেও তো একটা দোষ আছে। তোমরা বলছো যা আল্লাহ চায় এবং মোহাম্মদ (স.) চায়। এবার আমি সামনে এগিয়ে গিয়ে খৃস্টানদের একটা দলকে বসা দেখতে পেলাম। আমি তাদেরকেও একই কথা বললাম, তোমরা খুব ভালো মানুষ কিন্তু তোমাদের দোষ একটাই, তোমরা হযরত ঈসা (আ.)-কে আল্লাহর সন্তান বলছো, তারা বললো, তোমরাও খুব ভালো মানুষ তবে তোমাদের তো একটা দোষ আছে- তোমরা বলো যে, যা কিছু আল্লাহর রসূল চায়। সকালে ঘুম থেকে উঠার পর আমি কয়েকজন সাহাবীর কাছে আমার স্বপ্নের কথা বলে দেই। এরপর যখন পিয়ারা নবী মোহাম্মদ (স.)-এর দরবারে আসি তখন আমি রসূল (স.)-এর কাছেও এই স্বপ্নের কথা বলি। তিনি বললেন, তুমি কি আর কারো কাছে এই স্বপ্নের কথা বলেছো? আমি বললাম জ্বি হাঁ। এরপর রসূল (স.) একটি খোতবা প্রদান করেন।

ভাইয়েরা আমার! আসুন আমি আপনাদের সেই খোতবা শোনাবো যা রসূল (স.) তার মৃত্যুর পাঁচদিন পূর্বে সাহাবাদের উদ্দেশে দিয়েছিলেন। (হাদীসটি তিবরানীতে হযরত কাব বিন মালেক (রা.) কর্তৃক বর্ণিত যে, হুজুর (স.) তার প্রদত্ত খোতবায় বলেন)- ‘প্রত্যেক নবীর জন্যেই তার উম্মতদের মধ্যে কেউ না কেউ ওলী, বন্ধু অবশ্যই হয়। আমার এ রকম বন্ধু দোস্ত, হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.)। শোনো, তোমাদের নবীকে আল্লাহ তায়ালা তার নিজের খলীল বানিয়ে নিয়েছেন। শোনো এবং খুব ভালো করে শুনে রাখো, তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতরা মাসজিদকে কবর বানিয়ে নিয়েছে। অর্থাৎ তাদের কবরের ওপর, তাদের কবরের পাশে তারা এমন কাজ করতে লাগলো যা মসজিদে আল্লাহর সামনে করতে হয়। যেমন সেজদা করা, রুকু করা, হাত বেঁধে আদবের সাথে দাঁড়ানো এবং দোয়া করা ইত্যাদি)। সাবধান! আমি তোমাদের এসব কাজ থেকে বিরত থাকতে বলছি। আর এসব কাজ তোমাদের প্রতি হারাম করা হয়েছে।

হে আমার উম্মতেরা! আল্লাহকে হাজির নাযির জেনে সত্য করে বলো তো আমি কি তোমাদের কাছে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের পয়গাম পৌঁছে দিয়েছি? (আমরা বললাম, জি হাঁ) তিনবার এভাবে তিনি আমাদের কাছ থেকে স্বীকৃতি আদায় করে তিনবার আল্লাহকে সাক্ষী রেখে বলেছেন, হে আল্লাহ সাী থাকুন। এরপর কিছুণ পর রসূল (স.) হুশ হারিয়ে ফেলেন। এরপর যখন হুশ ফিরে আসে তখন আবার বলেন- দেখো আমি তোমাদের গোলাম এবং অধীনস্তদের ব্যাপারে আল্লাহকে বেশী বেশী স্মরণ করতে বলছি, শোনো- তাদের পেট ভরে খাবার খেতে দিও। তাদের কাপড় চোপড় দিও। আর তাদের সাথে বিনয় নরম মেযাজে তাদের সামনে এসো। আল্লাহ তায়ালা তার নবীর প্রতি লাখো দরূদ ও সালাম প্রেরণ করেন। জীবনের শেষ মুহূর্তে এসেও এ সন্দেহ ছিলো যে, পূর্বেকার উম্মতদের ন্যায় কখন না জানি আমার উম্মতরাও কবর পূজায় লিপ্ত হয়ে যায়। সে জন্যে রোগাগ্রস্ত হয়ে যাওয়া ও শক্তিহীন না হওয়ার আগে তাদের বুঝাতে থাকো এবং কবর পূজা করতে নিষেধ করো। কিন্তু আফসোস, উম্মতরা রসূলের দেয়া শেষ ওসিয়তটির ওপরও আমল করে না বরং তার বিপরীত করছে এবং সরাসরি কবর পূজা শুরু করে দিয়েছে।

ভাইয়েরা আমার! সেজদা পাওয়ার একমাত্র উযুক্ত অধিকারী আল্লাহ তায়ালা। মনের বাসনা এবং তোমার প্রয়োজনীয় জিনিস তুমি তার কাছেই চাও। শোনো কোরআন কি বলছে- ‘আল্লাহ তায়ালা ছাড়া আর যাদের তোমরা ডাকছো, তারাও তো আল্লাহরই বান্দা।’ কোরআন আরো বলছে- ‘যমীন ও আসমানের সৃষ্টিকূল তারই কাছে আরাধনা করে। সুতরাং আল্লাহ তায়ালা ছাড়া এবাদতের যোগ্য আর কেউ নেই।’

মুসলমান ভাইয়েরা আমার! নিজের সেই কলেমাটি পুনরায় পড়ে নিন- ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মোহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ’। অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া ইবাদতের উযুক্ত আর কেউ নেই এবং মোহাম্মদ (স.) ছাড়া আনুগত্য করার গ্রহণযোগ্যতা আর কারো নেই। সুতরাং ইসলাম ধর্মের মূল বক্তব্য এটুকুই যে, আল্লাহ ও আল্লাহর সৃষ্টির হকসমূহ আদায় করো এবং রসূল (স.)-এর অন্তিম সময়ে এজন্যেই সংপ্তি শব্দের মাধ্যমে সম্পূর্ণ দ্বীনকে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, আল্লাাহর হক আদায় করো। অর্থাৎ তার সাথে কোনো নবী, অলী, ফকীর, পীর, শহীদ, ফকীরকে শরীক করো না। মাখলুকের হক আদায় করো, এমনকি যে তোমার অধীনে রয়েছে, তাদের প্রতি পুরোপুরি খেয়াল রাখো।

আসুন! এবার আমি আপনাদের কাল আদালতে আখেরাতে গুনাহগার উম্মতের কান্ডারী সুপারিশকারী, প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মদ (স.)-এর আরও একটি খোতবা শোনাবো। আবু দাউদ, তিরমিযী, ইবনে মাজাসহ প্রমুখ হাদীস গ্রন্থে হযরত খারীম বিন ফাতেক (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, রসূল (স.) দাঁড়িয়ে আমাদের উদ্দেশে প্রদত্ত খোতবায় বলেন-

‘হে লোকেরা! মিথ্যা স্যা দান আল্লাহর সাথে শিরক করার সমান। এই কথা রসূল (স.) তিনবার বলেছেন। এরপর প্রমাণস্বরূপ তিনি কোরআনের একখানা আয়াত তেলাওয়াত করেন। ‘হে লোকেরা তোমরা আবর্জনা অর্থাৎ মূর্তিপূজা থেকে নিজেকে রা করো এবং মিথ্যা কথা বলা থেকে দূরে থাকো। এমনভাবে আল্লাহর প্রতি মনোনিবেশ করো এবং তার সাথে কোনো শরীক করো না। এরপর পূর্ণ আয়াতের অর্থ হচ্ছে- আল্লাহর সাথে শেরেক কারীর অবস্থা এমন যে, যেন সে আসমান থেকে ছিটকে পড়লো। তারপর (মাঝপথেই) কোনো পাখী যেন তাকে ছোঁ মেরে নিয়ে গেলো কিংবা (আসমান থেকে যমীনে পড়ার আগেই) বাতাস তাকে উড়িয়ে দূরে কোনো (অজ্ঞাতনামা) স্থানে ফেলে দিলো (যেখানে সে কিছুই দেখতে পেলো না)। মোটকথা! শেরেক খুবই খারাপ একটি ব্যারাম। সব গুনাহ মাফ করা হবে কিন্তু শিরকের পাপ মোচন করা হবে না। মোশরেকের জন্যে জান্নাত হারাম। জাহান্নাম তার চিরস্থায়ী আবাস। এলাহী! তুমি আমাদেরকে শিরক ও কুফরী থেকে রা করো। কোনো ব্যক্তি যখন তাওহীদের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকে তার জন্যে সব কিছুই সহজ হয়ে যায়।

রসূল (স.) ঐতিহাসিক ময়দানে প্রদত্ত খোতবায় হামদ ও সানা শেষে বলেছেন-

‘আমি আল্লাহকে হাজির নাযির জেনে স্যা দিচ্ছি, যে ব্যক্তি ‘আল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীক’ হওয়ার এবং আমাকে সত্য রসূল হিসেবে স্যা দিবে এবং তার ওপর অটল অবিচল থাকবে এবং নিজেকে সংশোধনের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে তবে তার মৃত্যুর সাথে সাথে সে জান্নাতে চলে যাবে।’ (আহমদ)

হযরত জাবের বিন আবদুল্লাহ (রা.) বলেছেন, হুজ্জাতুল বিদা’র সময় আইয়্যামে তাশরীক (জিল হজ্জ মাসের ৯-১৩ তারিখ পর্যন্ত) সময়ের মাঝামাঝি রসূল (স.) তাঁর খোতবায় বলেছেন- ‘হে মানুষেরা! তোমাদের প্রতিপালক (রব) একজন, আর তোমরা হচ্ছো একই পিতার সন্তান। শোনো! কোনো আরবের অনারবের কোনো প্রকার প্রাধান্য নেই। কোনো অনারব ব্যক্তিরও কোনো আরবের প্রতি শ্রেষ্ঠত্ব নেই। শ্বেতাংগের ওপর কৃষ্ণাঙ্গের কোনো প্রাধান্য, কোনো কৃষ্ণাঙ্গেরও শ্রেষ্ঠত্ব নেই কোনো শ্বেতাংগের ওপর একমাত্র তাকওয়া ছাড়া। আল্লাহ তায়ালার মর্যাদাবান সেই ব্যক্তি যে তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে তাকওয়া সম্পন্ন। কোরআন বলছে, তোমাদের মধ্যে আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বুযর্গ সে ব্যক্তি, যার অন্তরে সবচেয়ে বেশী তাকওয়া রয়েছে। এবার আমাকে বলো, আমি কি তোমাদের কাছে আল্লাহর দ্বীনের তাবলীগ করেছি? সকলে সমস্বরে জবাব দিলো- জ্বি হাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ। অবশ্যই আপনি আল্লাহর দ্বীনের তাবলীগ অত্যন্ত আমানতদারীর সাথে সম্পন্ন করেছেন। এরপর তিনি বললেন, সুতরাং এখন তোমরা যারা উপস্থিত আছো, তাদের ওপর কর্তব্য হলো যারা অনুপস্থিতি রয়েছে তাদের কাছে আমার এ বক্তব্য পৌঁছে দিবে। এরপর তিনি বললেন, মুসলমানদের মধ্যে পরস্পরের রক্ত, ধনসম্পদ ও ইযযত সবকিছু হারাম করে দেয়া হয়েছে। সুতরাং কোনো মুসলমান অপর মুসলমানের ওপর হাত উঠানো নিষিদ্ধ করা হলো। তার সম্পদ নষ্ট করা নিষিদ্ধ করে দেয়া হয়েছে এবং একে অপরের ইযযত নষ্ট করা হারাম করে দেয়া হয়েছে।’প্রিয় মুসলিম ভাইয়েরা! প্রিয় নবীর সর্বশেষ খোতবার প্রতি পুনরায় দৃষ্টি নিপে করুন। সুতরাং এক আল্লাহর প্রতি এবং নিজেদের প্রতি পরস্পর রহম দিল হও। আল্লাহ তায়ালা আমাদের এবং তোমাদের এ হুকুম পালনে সামর্থ দান করুন। আমীন ॥

সহীহ বোখারীতে রয়েছে, রসূল (স.) সাহাবীদের সাথে হোদায়বিয়ার ময়দানে উপস্থিত ছিলেন। সেখানে রাতে খুবই বৃষ্টি হয়। সকাল বেলা তিনি সকলকে নিয়ে ফজরের নামায পড়েন। নামায শেষে তিনি সকলের উদ্দেশে একটি খোতবা প্রদান করেন- ‘তোমরা কি জানো, তোমাদের রব তোমাদের কি বলেছেন? সাহাবারা বললেন, আল্লাহ ও তার রসূলই ভালো জানেন। এরপর তিনি বললেন, আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেছেন- এই বৃষ্টি বর্ষণের মাধ্যমে অনেক বান্দাকে ঈমানদার বানিয়ে দিয়েছেন এবং অনেক বান্দাকে কাফের বানিয়ে দিয়েছেন। যারা বলেছেন, এই বৃষ্টি কেবল আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়ায় হয়েছে। তারা আমার প্রতি ঈমান রেখেছে এবং তারকার প্রতি কুফরী করেছে। আর যারা বলেছে, এই বৃষ্টি এই এই বিশেষ কারণে এবং অমুক অমুক তারকার কারণে হয়েছে তারা আমার সাথে কুফরী করেছে এবং তারকার ওপর ঈমান এনেছে।’ সুতরাং প্রিয় নবীর পবিত্র যবানীর প্রতি খেয়াল করুন। এবং প্রতিটি নেয়ামত আল্লাহ তায়ালার প থেকেই কেবল আসছে এই ধারণা রাখুন। কোরআনে পাকে যেমন বলা হয়েছে- ‘মা বিকুম মিন নিমাতিল ফামিনাল্লাহে’ অর্থাৎ ‘তোমাদের কাছে যে নেয়ামত রয়েছে, এইসব আল্লাহ ওয়াহিদের কাছ থেকে এসেছে।’ দুনিয়াতে যতো বড়ো জিনিসই হোক আর যতো বড়ো নেয়ামতই হোক তা কেউ দিতে পারে না। লাভ তি উন্নতি অবনতি সবকিছুর বাগডোর একমাত্র আল্লাহ তায়ালার হাতে। এমনকি কোরআনে কারীমে নবী (স.)কে উদ্দেশ্যে করে বলা হয়েছে যে, তুমি তোমার উম্মতের কান খুলে দাও। তাদের জানিয়ে দাও- ‘লা আমলিকু লিনাফসী নাফআঁও ওয়ালা দাররান’ অর্থাৎ আমি নিজের জীবনেও কোনো লাভ তি কোনো কিছুই করার এখতিয়ার নেই। বরং এসব কিছুর মতা একমাত্র আল্লাহ তায়ালার। কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন- ‘সকল কিছুর বাদশাহী আল্লাহ তায়ালার হাতে।’ কোরআনে আরো বলছে- ‘তাবারাকাল্লাযী বিয়াদিহিল মুলকু …. কাদীর’। অর্থা ‘সমস্ত বরকত সেই সত্তার জন্যে যার হাতে রয়েছে গোটা রাজ্য, যিনি সকল জিনিসের মালিক এবং সকল কিছুর ওপর মতাবান।’

এবার আসুন! আমি আপনাদের জানিয়ে দিচ্ছি- সকল গুনাহ থেকে বড়ো গুনাহ হচ্ছে শেরেক। শাফিউল মুজনেবীন’ রাহমাতুল লিল আলামীন (স.) বিদায় হজ্জের দিনের ভাষণে বলেন,

‘অবশ্যই আল্লাহর অলী তো তারাই যারা নামাযের পাবন্দ। যারা পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাযের যথানিয়মে এবং যথাসময়ে আদায় করেছে এবং সৎ উদ্দেশে সাওয়াব অর্জনের জন্যে রমযানের ফরজ রোযা এবং খুশী মনে পুরস্কার পাওয়ার আশায় যাকাত প্রদান করে। আর যেসব কবীরা গুনাহ করতে আল্লাহ তায়ালা নিষেধ করেছেন তা মেনে চলে। তবে সে আমার পড়শী হয়ে উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন জান্নাতে যাবে। যার দরজা হবে স্বর্ণ নির্মিত। এ খোতবা শুনে এক সাহাবী প্রশ্ন করলো, হে আল্লাহর রসূল সেই কবীরা গুনাহগুলো কি কি? জবাবে রসূল (স.) বললেন, সেগুলো হচ্ছে ৯টি গুনাহ। যথা ঃ (১) আল্লাহর সাথে শেরেক করা (২) কোনো ঈমানদারকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা (৩) জিহাদের ময়দান থেকে পালিয়ে যাওয়া (৪) পবিত্রা নারীদের ওপর (মিথ্যা) অপবাদ দেয়া (৫) যাদু করা (৬) ইয়াতীমের সম্পদ খাওয়া (৭) সূদখোরী করা (৮) মুসলমান মা বাবার নাফরমানী করা (৯) বায়তুল্লাহ শরীফের ইযযত সম্মান রা না করা যা তোমাদের কেবলা তা।

জীবনে বেঁচে থাকতে এবং মৃত্যুর পরও। শোনো, যে ব্যক্তি এইসব অপরাধ থেকে এবং এই কবীরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকবে এবং নামায যাকাতের পাবন্দী হবে সে জান্নাতে আমার সাথী হবে। (তাবারানীও এই হাদীসকে তার কবীর নামক গ্রন্থে হযরত হাসান (রা.)-এর সূত্রে বর্ণনা করেন)।

প্রিয় মুসলমান ভাইয়েরা আমার! এবার আমি আপনাদের সেই খোতবা শোনাবো, যা রসূল প্রায় খুতবায়ই বলে থাকেন। হযরত আনাস (রা.) বলেছেন- ‘রসূল (স.) তাঁর খোতবায় প্রায়শ:ই বলতেন- ‘হে লোকেরা! সেই লোকের ঈমান নেই, যে ব্যক্তি আমানত রা করে না, আর সেই ব্যক্তির কোনো দ্বীনধর্ম নেই যে প্রতিশ্র“তি রা করে না।অতএব, ঈমানদারের কর্তব্য হলো, আমানত খেয়ানত না করা এবং প্রতিশ্র“তি রা করা। তার ব্যত্যয় না করা। কেননা এটা তো মূলত মোনাফেকী। রসূল (স.) বলেছেন- ‘চারটি বেদআত যার মধ্যে বিদ্যমান আছে সে তো খাঁটি মোনাফেক। আর সেই চারটির যে কোনো একটি থাকলে সেটি হচ্ছে নেফাকি। যতোণ না তা থেকে বিরত হবে। (ক) আমানত খেয়ানত করা (খ) মিথ্যা কথা বলা (গ) ওয়াদা ভঙ্গ করা (ঘ) ঝগড়া ঝাটির সময়ে গালাগালি করা।

আল্লাহ তায়ালা এইসব বদ অভ্যাস থেকে আমাদের রা করুন।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY