0
128

বিস্মৃতি এবং স্মরণ

আল্লামা ইবনে আবেদীন শামী (র.) হেশাম কালবী (র.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, একবার আমি এমন তীক্ষ্ণ স্মরণশক্তির প্রমাণ দিয়েছি যা সম্ভবত অন্য কেউ দিতে পারেনি। আবার একবার আমার থেকে এমন এক বিস্মৃতির ঘটনাও ঘটেছে, যা সম্ভবত অন্য কারো থেকে প্রকাশ পায়নি। আমার স্মরণশক্তির অবস্থা তো ছিলো এমন যে, আমি মাত্র তিন দিনে সমগ্র কোরআন শরীফ মুখস্থ করে ফেলেছি। আর আমার বিস্মৃতির ঘটনাটি হচ্ছে, একদিন আমি ক্ষৌর কর্ম করার জন্যে বসে দাড়ি মুষ্টিবদ্ধ করে নীচের বাড়তি অংশ কাটতে চাচ্ছিলাম, কিন্তু ভুলে মুষ্টির ওপরের দাড়ি কেটে ফেলি, ফলে দাড়ি সব আমার হাতে এসে যায়। (রদ্দুল মোহতার)

 

সবর ও শোকর

ইমরান বিন হাত্তান ছিলেন খারেজী সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট বাগ্মী, ভাষালংকার জ্ঞানসম্পন্ন স্পষ্টভাষী একজন প্রসিদ্ধ কবি। তার মেধা ও বুদ্ধিমত্তার অনেক কাহিনীই প্রসিদ্ধ রয়েছে।

আল্লামা যমখশরী (র.) বর্ণনা করেন, ইমরান বিন হাত্তান খারেজী অত্যন্ত কুৎসিত কদাকার এবং কালো বর্ণের লোক ছিলেন। তিনি ছিলেন যেমন কুৎসিত কদাকার, তেমনি তার স্ত্রী ছিলো অপরূপ সুন্দরী। একদিন ইমরান পত্নী অনেকক্ষণ পর্যন্ত স্বামীর চেহারার দিকে তাকিয়ে দেখে আচানক বলে ওঠলেন- আল হামদু লিল্লাহ।

ইমরান জিজ্ঞেস করলো, কি ব্যাপার? কোন্ কথায় তুমি আল হামদু লিল্লাহ বললে? ইমরান পত্নী বলল, আমরা উভয়ে জান্নাতী।

ইমরান জিজ্ঞেস করলো, তা কিভাবে?

ইমরান পত্নী বললেন, তুমি আমার মতো সুন্দরী স্ত্রী পেয়ে শোকর আদায় করেছো, আর আমি তোমার মতো কৃষ্ণকায় কুৎসিত কদাকার স্বামী পেয়ে সবর করেছি। আল্লাহ তায়ালা শোকরগোযার ও ধৈর্যশীল উভয়ের জন্যে জান্নাতের ওয়াদা করেছেন। (কাশশাফ, প্রথম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৫৭২, কায়রোতে মুদ্রিত, ১৩৬৫ হিজরী সন)

 

হযরত ওসমান (রা.)-এ আংটি

জনৈক ব্যক্তি হযরত আবদুল্লাহ বিন আব্বাস (রা.)-কে জিজ্ঞেস করলেন, হযরত ওসমান (রা.)-এর আংটির ওপর কি কথা অংকিত ছিলো?

হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) বললেন, তিনি খাঁটি নিয়তে তার আংটির ওপর এ বাক্যটি অংকিত করিয়েছিলেন- ইয়া আল্লাহ, আমাকে পুণ্যময় জীবন এবং শহীদী মৃত্যু দান করো।

অতপর হযরত ইবন আব্বাস (রা.) বললেন, আল্লাহর কসম, তিনি পুণ্যময় জীবন এবং শহীদী মৃত্যু উভয়টাই লাভ করেছেন।

(মোস্তাদরাকে হাকেম, তৃতীয় খণ্ড, পর্ব : মারেফাতুস সাহাবা- হায়দরাবাদ)

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY