স্বর্নযুগের মানুষ

    0
    76

    হযরত জাবের (রা)-এর মেহমানদারি

    মুসলমানদের সামনে তখন ছিল কঠিন বিপদের সময়। কাফেররা মদীনা আক্রমন করে বসল। শহর রার জন্য তখন শহরের চার দিকে পরিখা খনন কাজ শুরু হয়েছে। রসুল (সা) ও তার সাথীরা প্রয়োজনীয় খাদ্যের অবাবে শারীরিক ভাবে দুর্বল, পরিশ্রমে সবাই কান্ত। কেউ কেউ পেটে পাতর বেঁদে নিয়েছে ক্ষুধার জ্বলায়। এমনি অবস্থায় হযরত জাবের (রা) অত্যন্ত ব্যস্ত হয়ে পড়লেন রসুল (সা) কে কিছু খাবার খাওয়ানের জন্য।
    হযরত জাবের রসুল (স.) কে বললেন, “হুযুর, আমাকে একটু বাড়ি যাওয়ার অনুমতি দিন।”
    রসুল (স.) তাকে বাড়ি যেতে অনুমতি দিলেন। তিনি বাড়ি পৌঁছে স্ত্রীকে বললেন, “আমি রসুল (স) কে খুব ক্ষুধার্ত অবস্থায় দেখেছি। তাঁর কষ্ট সহ্য করার মতো নয়। তোমার কাছে কি কিছু আছে?”
    স্ত্রী জওয়াব দিলেন, “আমার কিছু যব ও একটা ছাগল ছানা আছে।”
    হযরত জাবের ছাগল ছননাটি জবাই করলেন এবং যব পিষলেন। অতঃপর গোশত ডেকচিতে চড়িয়ে দিয়ে ছুটে গেলেন রসুল (স.) এর কাছে। ইতিমধ্যে আটা রুটি তৈরীরর উপযুক্ত হয়ে গেল এবং উনুনের ডেকটিতে গোশত রান্ন হয়ে গেল। জাবের (রা) রসুলের কাছে ছুটে গিয়ে বললেন, “হুযুর, অল্প খাবারের ব্যবস্থা করেছি। দয়া করে আপনি ও সাথে দু’একজন লোক নিয়ে চলুন।”
    হুযুর বললেন, “আমরা কত জন আসব?”

    হযরত জাবের রসুলকে খাদ্যের পরিমাণ জানালেন। রসুল (স.) হযরত জাবেরের কথা শুনে বললেন, ‘আমরা বেশী সংখ্যাই উত্তম। তুমি তোমার স্ত্রীকে বলো, আমি না আসা পর্যন্ত যেন সে ডেকচি না নামায় এবং উনুন থেকে রুটি বের না করে।
    এবার রসুল (স.) তাঁর সাহাবাগণকে বললেন, সকলেই চলো।
    হযরত জাবের ছুটে গেলেন বিবির কাছে। খুশীতে আত্নহারা জাবের। তিনি বিবিকে বললেন, তোমার উপর আল্লাহর রহমত নাজিল হোক। রসুল (স.) আসনার, মুহাজির ও তাঁর সাথের সবাইরক নিয়ে এসে গেছেন।
    ইতিমধ্যে জাবের তাঁর স্ত্রীকে রসুলের বাণী শুনালেন। নবী করিম (স.) এবার নিজের হাতেই খাদ্য পরিবেশনের দায়িত্ব নেলেন।
    তিনি সাহাবাগণকে বললেন, “ভিতরে এস। তাড়াহুড়া কর না।” অতঃপর রসুল (স.) নিজ হাতে রুটি গুলো টুকরো টুকরো করে তার উপরে গোশত দিতে লাগলেন এবং ডেকচি ও উনুন ঢেকে দিলেন। তিনি নিজ হাতে গোশত ও রুটি এনে সাহাবাদেরকে দিতে লাগলেন। এ ভাবে তিনি রুটি টুকরো টুকরো করতে লাগলেন এবং তাতে গোশত দিতে থাকলেন। সকলেই অতি তৃপ্তি সহকারে পেট পুরে খেলেন। এর পরেও কিছু গোশত ও রুটি বেচে গেল। হুযুর জাবের (সা) এর বিবিকে বললেন, “এগুলো তুমি খাও এবং অন্যদেরকে হাদিয়া দাও।”

    এভাবে খোদার করুণায় প্রায় এক হাজার সাহাবী একটি ছাগল ছানা দিয়ে তৃপ্তি সহকারে খেলেন।

    todays-amazing-picture1037-from-dhaka-guide
    কুদরতী ঝর্ণা

    মাটি ফুঁড়ে ঝর্ণা বের হয়, কিন্তু আংগুল ফুঁড়ে ঝর্ণা বের হতে পারে এমন কথা সহজে বিশ্বাস করা যায় না। কিন্তু এমনটি ঘটেছিল রসুল (স.) এর জীবনে।
    এক বার রসুল (স.) প্রায় একশত সাহাবী নিয়ে এক জায়গায় বসে ছিলেন। এমন সময় নামাজের সময় হয়ে গেল। সে জায়গাতে পানির কোন ব্যবস্থা ছিল না। তাই অনেকে নিজ নিজ ঘরে ওজু করতে চলে গেলেন। এখন অনেক লোক বাকি, তাদের ওজুর ব্যবস্থা করতে হবে। হুজুর (স.) এক সাহাবীকে একটি পানির পাত্র নিয়ে আসার জন্য বললেন। সাহাবী একটি বিরাট পাত্র হাজির করলেন। তাতে সামান্য মাত্র পানি ছিল। হুযুর পাত্রটির ভিতরে তাঁর পবিত্র আংগুল রাখলেন। কি আশ্চার্য! সাহাবারা দেখতে পেলেন হুজুরের আংগুল ফুঁড়ে ঝর্ণার ন্যায় পানি বেরিয়ে আসছে, আর তাতে পাত্রটি কানায় কানায় ভরে গেল। বাকি সমস্ত লোক পাত্রের বরকতী পানি দিয়ে ওজু করে নিলেন। এই বরকতী পানি দিয়ে কত জনে ওজু করে নিলেন?

    এর জওয়াবে হযরত আনাস বলেন, আমি অনুমান করলাম যারা ওজু করলেন তাদের সংখ্যা সত্তর থেকে আশি জনের মধ্যে ছিল। মহান আল্লাহ তাঁর প্রিয় রসুলের আংগুল থেকে কুদরতী ঝর্ণা প্রবাহিত করে দেখালেন তিনি হক নবী।

    এমন আর একটি ঘটনা ঘটেছিল হুদায়বিয়ার যুদ্ধের সময়। যুদ্ধের সময় এক দিন লোকেরা পিপাসার্ত হয়ে পড়ল। সে সময় মাত্র একটি চর্ম-পাত্র ভর্তি পানি রসুল (সা) এর কাছে ছিল। তিনি তা দিয়ে ওজু করলেন। পরে লোকেরা তাঁর কাছে আসলে তিনি তাদেরকে ব্যাপার কি জানতে চাইলেন। তার বলল “ হে আল্লাহর রসুল! আপনার চর্ম-পাত্রের পানি ছাড়া আমাদের কাছে পান করার বা ওজু করার মতো কোন পানি নেই।” এ কথা শুনে নবী (স.) চর্ম-পাত্রের মধ্যে হাত ঢুকিয়ে দিলেন আর সাথে সাথে তাঁর আংগুলগুলোর মাঝখান থেকে ঝর্ণা ধারার মতো পানি ফেটে বের হতে লাগল। সাহাবীরা সে পানি পান করে পিপাসা নিবারণ করলেন এবং তা দিয়ে ওজুও করলেন।

    সাহাবীদের সংখ্যা কত ছিল জানতে চাইলে হযরত জাবের বলেন-“আমাদের সংখ্যা এক লাখ হলেও সেই পানি আমাদের জন্য যথেষ্ট হতো। কিন্তু আমাদের সংখ্যা ছিল মাত্র পনেরশ’ মাত্র।” এগুলি ছিল নবী জীবনের মোযেযা।

    untitled-2213466388_1756071501281077_2073791806686577968_n

    NO COMMENTS

    LEAVE A REPLY