দ্বীনের পরিপূর্ণতা

0
112

প্রিয় ভাইয়েরা আমার! ৯ম হিজরীতে তাবুক যুদ্ধের ময়দানে ২৩ হাজার মুজাহিদের সামনে প্রদত্ত রসূল (স.)-এর খোতবা। এতে রসূল (স.) আল্লাহর দ্বীনের পরিপূর্ণ একটি বর্ণনা তুলে ধরেছেন। আমি আশা করবো আপনারা এটিকে এটির প্রতিটি শব্দকে জীবনের কর্মসূচী বানাবেন। এটাও আমাদের সৌভাগ্য যে, আজ ১৪শ’ বছর পরও আমরা রসূলের ঐ বকতপূর্ণ হাদীস শুনতে পাচ্ছি- যেভাবে আল্লাহ তায়ালা চেয়েছেন সেভাবেই রসূল (স.) আমাদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছেন। আমাদের এই হাদীসের আমল করার তাওফিক আল্লাহ তায়ালা দান করুন। আমীন।
প্রথমে আল্লাহ তায়ালার প্রশংসাসূচক বক্তব্য দান করেন। এরপর বলেন-
তোমরা জেনে নাও এবং পরিপূর্ণভাবে বিশ্বাস করো এবং মেনে নাও যে, সবচেয়ে উত্তম কালাম হচ্ছে আল্লাহর কালাম ‘কিতাবুল্লাহ’। আর সবচেয়ে খাটি তাকওয়ার কালেমা হচ্ছে আল্লাহর ভয়ের কালেমা। সবচেয়ে উত্তম দ্বীন হচ্ছে দ্বীনে ইবরাহীম। সবচেয়ে উত্তম পথ হচ্ছে আল্লাহর রসূলের তরীকা (হযরত মোহাম্মদ (স.)-এর তরীকা)। সবচেয়ে উত্তম যিকির হচ্ছে আল্লাহর যিকির, সবচেয়ে উত্তম কাসাস হচ্ছে আল কোরআন। সবচেয়ে উত্তম কাজ হচ্ছে যা মানুষ বিবেক খাটিয়ে করে। আর সবচেয়ে নিকৃষ্ট কাজ হচ্ছে আল্লাহর দ্বীনের নামে নতুন কিছু চালু করা। সেগুলোকে ধর্মীয় কাজ মনে করা এবং আমল করা। সবচেয়ে উত্তম পথ হচ্ছে নবীদের দেখানো পথ। সবচেয়ে উত্তম মৃত্যু হচ্ছে যুদ্ধের ময়দানে কাফেরের সাথে লড়াই করা শাহাদাত বরণ করা। সবচেয়ে বড়ো অন্ধ হচ্ছে তারা যারা আল্লাহর পক্ষ থেকে হেদায়াত পাওয়ার পরও গোমরাহীকে বেছে নেয়।
শোনো! উত্তম আমল তো সেটা যা উপকার বয়ে আনে। আর উত্তম হেদায়াত হচ্ছে সেটা যার ওপর আমল করা হয়। সবচেয়ে নিকৃষ্ট অন্ধ তো সে যার মনের চোখও ফুটা হয়ে গেছে। নীচের হাত থেকে উপরের হাত উত্তম। যে জিনিস যথেষ্ট হয়ে যায় চাই সেটা কম হলেও উত্তম। জিনিস বেশী হলে কি হবে তা যদি আল্লাহর কাজে অমনোযিগতার দিকে নিয়ে যায়? অর্থাৎ ধনীর ধনের লোভ যদি তাকে আল্লাহর কাজ মেনে নিতে বাধাগ্রস্ত করে। তার থেকে সেই ব্যক্তি উত্তম যার সম্পর্কে কম সে আল্লাহর স্মরণে নিজেকে নিয়োজিত রাখে। ওযর আপত্তি যা আছে তা আজ করে নাও মৃত্যুর সময়ে কোনো ওযর আপত্তি চলবে না। অনুরূপ আজ যদি নিজের পাপের জন্যে লজ্জিত হও তবে লাভ হবে। কেয়ামতের দিন লজ্জিত হয়ে কোনো লাভ হবে না।
শোনো, ওরা কেমন লোক! যারা খুব দেরী করে জুমআতে আসে। আশ্চার্য লাগে যাদের অন্তরে আল্লাহর যিকির বসেনি তাদের যবান থেকেও আল্লাহর যিকির খুব কমই আদায় হচ্ছে। সবচেয়ে বড়ো পাপ হচ্ছে মিথ্যা বলা। সবচেয়ে ধনী তো সে যার মন ধনী। পুঁজি জোগাড় করার অর্থ দুনিয়ার সম্পদ পুঞ্জীভূত করা নয়; আসল পুঁজি হচ্ছে তাকওয়া। মনে আল্লাহর ভয় গেঁথে নেয়া। আল্লাহর ভয়ই হচ্ছে সবচেয়ে উত্তম কথামালা। অন্তরে যে জিনিস জমে যায় তার মধ্যে সবচেয়ে উত্তম হচ্ছে ঈমান ও আকীদা। শোনো! দ্বীনী আকায়েদে বিশ্বাসে চুলচেরা করা, সংশয় সন্দেহ পোষণ করা কুফরী। মৃতদের জন্যে চিৎকার করে মাতম করা, কাপড় ছেঁড়া, বুক চাপড়ানো, দড়ফড়ানি করা জাহেলী যমানার কাফেরদের অভ্যাস।
শোনো! খেয়ানতের শাস্তি হচ্ছে জাহান্নাম। শরাব খাওয়া দোযখের আগুনের দাগ লাগানো, কবিতা, অশ্লীল ও শরীয়ত বিরোদী গান গজল ইবলিসের কাজ। মনে রাখবে সকল পাপের মূল নেশা করা এবং নেশাজাতীয় জিনিসের ব্যবহার। এতিমের সম্পদ যুলুম করে খাওয়ার চেয়ে বড়ো পাপ আর নেই। ভাগ্যবান ও ভালো মানুষ তো সে যে অপরকে দেখে সতর্ক হয়ে যায়। আর বদনসীব ও খারাপ মানুষ সে যার মায়ের পেটেই খারাপ লিখে দেয়া হয়েছে।
হে লোকেরা! তোমরা ভালোভাবে বুঝে নাও। নিজের কর্মের প্রতি খেয়াল করো। অবশেষে চার হাত সংকীর্ণ ও অন্ধকার গর্তে যেতে হবে এবং দুনিয়া শেষ হয়ে যাবে। তারপর আসল জীবন হবে আখেরাতে। শোনো, কর্মের ফলাফল নির্ভর করে তার শেষ কর্মের ওপর। না দেখেই বলে ফেললে যে, আমি এই স্বপ্ন দেখেছি, এটা কবীরা গুনাহ। দুনিয়ার এই দৃশ্যাবলীও একটি স্বপ্ন। যা তাবীর (ব্যাখ্যা) করে চলে যাবে। যা ভবিষ্যতে আসবে তাকে নিকটবর্তী হিসাবে গণ্য করো।
হে মুসলমানরা! ঈমানদারদের গালাগালি করা ফাসেকী, মোমেনদের হত্যা করা কুফরী, মোমেনের গীবত করা আল্লাহর সাথে নিমক হারামী করা, মোমেনের সম্পদের মর্যাদা ও তার জীবনের ইজ্জতের সমান। আল্লাহর নামে বানিয়ে কথা বলো না। এমন লোকদের আল্লাহ তায়ালা মিথ্যায় প্রতিপন্ন করেন। অপরের দোষ ক্ষমা করে দিবে। আল্লাহ তায়ালা তোমাদের গুনাহও মাফ করে দিবেন। অন্যের ভুল ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবে, আল্লাহও তোমাদের ভুল ত্র“টি ক্ষমা করে দিবেন। রাগ দমন করো, তাতে আল্লাহ তায়ালা অনেক সওয়াব দান করবেন। যে বিপদে ধৈর্য ধরে আল্লাহ তায়ালা তাদের পুরস্কার ও বিনিময় দান করবেন। অহংকারীদের শাস্তি সবাইকে দেখিয়ে শুনিয়ে অত্যন্ত অপমানের সাথে হবে।
ধৈর্যের অনুশীলনকারীদের ধৈর্যের সাওয়াব আল্লাহ তায়ালা বাড়িয়ে পুরস্কার দান করবেন। আল্লাহর নাফরমানী করা থেকে দূরে থাকো। আল্লাহর শাস্তি পাওয়ার জন্যে প্রস্তুত থেকে না। হে আল্লাহ তায়ালা আমাদের ভুলগুলো ক্ষমা করে দিন। হে আল্লাহ! আমরা তোমার কাছে ক্ষমাপ্রার্থী।’
হে আল্লাহ! সকল মোমেন মুসলিম নারী পুরুষকে ক্ষমা করো। আর আমাদের জীবিতদের এবং মৃতদেরও ক্ষমা করো। হে আল্লাহ! যে ব্যক্তি দ্বীনের সাহায্য করেছে তাকে তুমি সাহায্য করো এবং তাদের সাথে আমাদেরকে শামিল করো। আর যে ব্যক্তি মুসলমানদের বেইজ্জতি করেছে তাদের তুমি বেইজ্জতি করো। আর তাদের সাথে আমাদেরকে জড়িত করো না। হে আল্লাহর বান্দাগণ! আল্লাহ তায়ালা তোমাদের প্রতি দয়া করুন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা ন্যায় ইনসাফ ও অনুগ্রহের আদেশ দান করেছেন। আত্নীয়-স্বজনকে দান করতে বলা হয়েছে এবং অশ্লীল কার্যক্রম এবং অন্যায় ও বিরোধিতা করতে নিষেধ করেছেন। নসীহত করা হলো আশা করি তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করবে। তোমরা তার যিকির করো তিনি তোমাদের স্মরণ করবেন। তার কাছে দোয়া করো তা তিনি কবুল করবেন। আল্লাহর যিকিরই সর্বোচ্চ এবাদত ও গুরুত্বপূর্ণ স্থায়ী সর্বশ্রেষ্ঠ।
untitled-2213466388_1756071501281077_2073791806686577968_n

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY