নামায ও আধুনিক বিজ্ঞান

0
130

নামায ও বিপদ মুক্তি

নামায প্রকৃতপে এমন এক ব্যবস্থা যা মানুষকে তার রূহের কাছাকাছি পৌঁছে দেয়। মানুষ যখন নিজের রূহ সম্পর্কে জানতে পারে তখন সে বুঝতে পারে, স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা তাকে পথনির্দেশ করছেন। এ বোধ জাগ্রত হলে মানুষ বুঝতে পারে, সে আল্লাহর কতোটা কাছাকাছি পৌঁছেছে, মানুষের নিজের মর্যাদা কতো মহান। এরপর মানুষের প্রতিটি তৎপরতা আল্লাহর বিধি বিধানের ভিত্তিতে হয়ে থাকে।

এ বিষয়টির মনস্তাত্ত্বিক গভীরতার প্রতি ল্য করলে বুঝতে পারবেন, মানুষ যখন শুধু আল্লাহর জন্যে কোনো কাজ করে তখন সে কতোটা আনন্দিত হয়। এ আনন্দ তার ভেতরে প্রবেশ করে তার রূহকে আলোকিত করে। এ আনন্দের ফলে তার রূহ এতোটা সজীব হয়ে যায় যে, সে তার দেহের কথা ভুলে যায়। আমাদের পূর্ববর্তী বুযুর্গদের জীবনকথার প্রতি দৃষ্টি দিলে একথা দিবালোকের মতো স্পষ্ট হয়ে যায় যে, বাহ্যিক দৃষ্টিতে তারা সাধারণ মানুষের মতো জীবন যাপন করেছে ঠিকই, কিন্তু গভীরভাবে পর্যবেণ করলে দেখা যাবে, সাধারণ মানুষের জীবন যাপনের সাথে তাদের অনেক পার্থক্য রয়েছে। আর তা হচ্ছে, তারা জীবন যাপনের স্বাদ জানতেন। অথচ আমরা সেটা জানি না, বুঝি না।

আমাদের বুযর্গদের জন্যে যা সম্ভব ছিলো রসূল (স.)-এর সকল উম্মতের জন্যে কি সেটা সম্ভব নয়? অবশ্যই সম্ভব, কিন্তু আমরা গাফিলতির মধ্যে নিমজ্জিত রয়েছি।

আমাদের বুযর্গরা সেই স্বাদ সম্পর্কে অবগত হয়ে নামায আদায় করতেন। তাদের সে নামাযই ছিলো প্রকৃত নামায। সে নামাযের বরকতে তারা এমন একটি বিপ্লবী দলে পরিণত হয়েছিলেন, যাদের প্রচেষ্টায় দুনিয়ার চেহারা পাল্টে গিয়েছিলো, কিন্তু পরবর্তীকালে নোংরা বস্তুবাদী সভ্যতার সংস্পর্শে এসে আমরা এবাদাতকে একটি রসম রেওয়াজে পরিণত করেছি। ফলে আল্লাহ তায়ালা আমাদের কাছ থেকে নেতৃত্ব কেড়ে নিয়েছেন। চিন্তা, চেতনা, মননশীলতায় এসেছে দৈন্য, জ্ঞান প্রজ্ঞা রূহানিয়াত দূরে চলে গেছে। নামাযের মধ্যে বিনয় নম্রতা, আল্লাহভীতি, নিজেকে ভুলে যাওয়ার আÍদর্শন আমরা ভুলে গেছি। নামাযে যদি খুশুখুজু তথা বিনয় নম্রতা না থাকে, তবে সে নামায হয় আত্নবিহীন দেহের মতো। যদি আমরা আল্লাহ তায়ালা এবং তাঁর রসূল (স.)-এর প্রদর্শিত নিয়মে নামায আদায় করি তবে আমাদের নামায হবে না কেন?

আমরা কেন সে সকল পুরস্কার এবং বরকত থেকে বঞ্চিত হচ্ছি যেসব পুরস্কার এবং বরকত আমাদের পূর্বপুরুষরা লাভ করেছিলেন? আল্লাহ তায়ালা এবং তাঁর রসূল (স.)-এর বক্তব্য অনুযায়ী নামায আমাদের সকল দুঃখ কষ্ট মুছে দেয়, নামায সকল রোগের প্রতিষেধক, কিন্তু আমরা নিজেদের উদাসীনতার কারণে এ নামাযকে নিষপ্রাণ করে ফেলেছি।

নামাযকে যে সকল দুঃখ কষ্ট থেকে মুক্তির উপায় বলা হয়েছে সে দুঃখ কষ্ট কি শুধু আখেরাতের, নাকি দুনিয়ারও? প্রকৃতপে নামায দুনিয়া এবং আখেরাতের সকল দুঃখ কষ্ট থেকে মানুষকে মুক্তি দেয়, কিন্তু সেটা কখন? মুসলমানের কালেমা যখন সঠিক হবে, আমল যখন সঠিক মাপকাঠি অনুযায়ী হবে, তখন মুসলমানরা বিজয়ী হবে, কাফেররা পরাজিত হবে। যখন থেকে আমরা কালেমা এবং নামাযের জন্যে পরিশ্রম ত্যাগ করেছি, তখন থেকে নামাযের বিশেষত্ব আমাদের মন থেকে মুছে গেছে। আর এটা তো খুবই স্বাভাবিক, যে জিনিসের বিশেষত্ব থাকে না সে জিনিসের প্রভাবও বিদ্যমান থাকে না।

বর্তমানে আমাদের নামায কেন সজীব এবং প্রাণবন্ত হচ্ছে না? এখনকার মতো চারটি সাজদার দুই রাকাত নামাযের মাধ্যমেই তো সাহাবায়ে কেরাম, আহলে বাইত, আওলিয়ায়ে কেরাম গোটা বিশ্বব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটিয়েছিলেন। এর কারণ হলো, তাদের নামায ছিলো বিশেষত্বপূর্ণ আর আমাদের নামায হচ্ছে বিশেষত্বহীন।

উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, কেউ বাঘ হত্যার উদ্দেশে গুলী করছে, কারণ সে শুনেছে রাইফেলের গুলীতে বাঘ মারা যায়, কিন্তু দেখা গেলো, বাঘ হত্যা করা দূরে থাক সে বহুকষ্টে নিজের জীবন রা করেছে। তখন সে ভাবতে বসে গেলো, সত্যিই কী রাইফেলের গুলীতে বাঘ মারা যায়? একজন বিজ্ঞ ব্যক্তি তাকে বোঝালো, রাইফেলের এই গুলী যখন রাইফেলের ভেতর ঢোকানো হয় তখনই এর কার্যকর শক্তি তৈরী হয়। রাইফেলের ভেতর না ঢোকালে রাইফেলের গুলীর কার্যকারিতা প্রমাণ করা যায় না। ঠিক একইভাবে আমাদের নামায অর্থাৎ রাইফেলের গুলী রয়েছে, কিন্তু ঈমান, তাকওয়া বিনয় ও নম্রতার রাইফেল না থাকায় গুলী কোনো কাজে আসছে না।

নামায কোনো প্রভাব সৃষ্টি করতে পারছে না। এরকম প্রভাববিহীন নামায দিয়ে দুনিয়ার উপকারই হচ্ছে না, তা হলে আখেরাতের উপকার আর কী হবে? চিন্তার কথা হচ্ছে, সে নামায দ্বারা কিভাবে জান্নাত পাওয়া যাবে? জান্নাতের দৈর্ঘ এ বিশ্বজগতের দৈর্ঘের চেয়েও অধিক।

মুসলমান এবং কাফেরের মধ্যে সবচেয়ে বড়ো পার্থক্য হচ্ছে নামায। মুসলমান নামায আদায়ের মাধ্যমে পরকালে যেমন কল্যাণ লাভ করে তেমনি দুনিয়ায়ও কল্যাণ লাভ করে। আসুন, পর্যবেকের দৃষ্টিতে দেখা যাক, নামায দ্বারা দুনিয়ার কতো সব নেয়ামত ও পুরস্কার পাওয়া যায়।

নামায এবং শারীরিক সুস্থতা

নামায হচ্ছে একটি উত্তম ব্যায়াম। দুর্বলতা অলসতা এবং বেআমলের এ যুগে নামাযই এমন ব্যায়াম এবং এমন ক্রীড়াশৈলী, যার মাধ্যমে দুনিয়ার সকল দুঃখ কষ্ট দূর হতে পারে। তবে সেই নামায সঠিকভাবে আদায় করতে হবে।

নামাযের ব্যায়ামের মাধ্যমে দেহের বাহ্যিক অংগ প্রত্যংগের সৌন্দর্য যেমন বজায় থাকে তেমনি হৃৎপিন্ড, লিভার, কিডনি, ফুসফুস, মস্তিষ্ক, পাকস্থলী, অন্ত্র, মেরুদন্ড, ঘাড়, বুক এবং সকল প্রকার গ্লান্ড পুষ্টি ও সুস্থতা লাভ করে। নামায দেহকে সুডৌল এবং সৌন্দর্যমন্ডিত করে।

নামায এমন একটি ব্যায়াম যার মাধ্যমে মানুষের আয়ু বৃদ্ধি পায় এবং মানুষ অসাধারণ শক্তির অধিকারী হয়ে উঠে। নামাযের মাধ্যমে চেহারার সৌন্দযর্ও বৃদ্ধি পায়।

খেলাধুলা এবং ব্যায়ামের নানা রকম পদ্ধতি রয়েছে। বড়োদের জন্যে এক রকম, ছোটোদের জন্যে অন্যরকম, মহিলাদের জন্যে আবার আরেক রকম। কিন্তু নামায এমন একটি ব্যায়াম যা সকলের জন্যে এক সমান। যে কোনো বয়সের মানুষ- নারী পুরুষ, শিশু, যুবক, বৃদ্ধ সকলের জন্যে নামায একই নিয়মে আদায় করতে হয়।

নামায ও ব্যায়ামের চার্ট

মানুষ রাতভর ঘুমিয়ে থাকে, ফলে অংগ প্রত্যংগ স্থবির হয়ে রক্ত জমে যায়। এমতাবস্থায় রক্ত চলাচল স্বাভাবিক করার জন্যে ব্যায়ামের প্রয়োজন। এ কারণে তাহাজ্জুদ এবং ফজরের নামাযের বিধান দেয়া হয়েছে। তারপর কিছুণ বিরতি দিয়ে এশরাক, তারপর চাশত নামাযের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তারপর দীর্ঘ বিরতির পর কর্মব্যস্ততার মধ্যে সময় বের করে যোহরের নামায আদায় করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যোহরের নামাযের পর আছর, তারপর মাগরেব, তারপর এশার নামায আদায় করার আদেশ দেয়া হয়েছে। এশার নামাযে বেশী রাকাত রাখা হয়েছে, কারণ রাতে মানুষ বেশী পানাহার করে, বেশী রাকাত নামায আদায়ের মাধ্যমে হজমশক্তি বৃদ্ধি পায়। আর যে খাবার হজম হয় না তা স্বাস্থ্যের জন্যে তিকর।

একজন অমুসলিম বিশেষজ্ঞের বিস্ময়

এ, আর, কমর নামে একজন বিশেষজ্ঞ তার ইউরোপের ডায়রিতে লিখেছেন, ‘আমি নামায আদায় করছিলাম। একজন ইংরেজ গভীর মনযোগ দিয়ে আমার নামায আদায় প্রত্য করছিলেন। নামায শেষ হওয়ার পর তিনি বললেন, আপনি ব্যায়ামের এ পদ্ধতি আমার লেখা বই থেকে শিখেছেন? কারণ আমিও ব্যায়ামের এ রকম পদ্ধতিই আমার বইতে উল্লেখ করেছি। যে ব্যক্তি এ রকম পদ্ধতিতে ব্যায়াম করবে সে কখনো জটিল কোনো রোগে আক্রান্ত হবে না।’

সেই ইংরেজ তারপর ব্যাখ্যা করে বললেন, দাঁড়ানো অবস্থা থেকে সরাসরি সাজদার ব্যায়ামে চলে গেলে হৃৎপিন্ডের ওপর চাপ পড়ে। এ কারণেই আমি আমার বইতে এ রকম ব্যায়াম করতে নিষেধ করেছি। আমি লিখেছি, প্রথমে দাঁড়িয়ে ব্যায়াম করতে হবে এবং হাত বাঁধতে হবে। এরপর খানিকটা ঝুঁকে হাত এবং কোমরের ব্যায়াম অর্থাৎ রুকু করতে হবে। তারপর মাথা মাটিতে ঠেকিয়ে ব্যায়াম অর্থাৎ সাজদা করতে হবে। শুধু বিশেষজ্ঞদের দ্বারাই এরকম ব্যায়াম করানো সম্ভব।

ইংরেজ লোকটির কথা শেষ হওয়ার পর আমি তাকে জানালাম, আমি একজন মুসলমান। ইসলাম এভাবেই নামায আদায় করার জন্যে নির্দেশ দিয়েছে। আপনার লেখা বই আমি কখনো দেখিওনি, পাঠও করিনি। দিনে পাঁচ বার আমরা এ নিয়মে নামায আদায় করে থাকি।

আমার কথা শুনে তার বিস্ময়ের অবধি রইলো না। তিনি ইসলাম সম্পর্কে আমার কাছে আরো নানা তথ্য জানতে চাইলেন।

একজন চিকিৎসকের প্রতিক্রিয়া

একজন বিখ্যাত চিকিৎসক তার দেহের অংগ প্রত্যংগের ব্যথা এবং দুর্বলতার চিকিৎসা নামাযের মাধ্যমে করেছেন। নিয়মিত নামাযের পদ্ধতিতে চিকিৎসা করে তিনি সম্পূর্ণ রোগমুক্ত হয়েছেন। অন্য সকল ওষুধ ব্যবহার ছেড়ে দিয়েছেন। তারপর থেকে তিনি তার প্রত্যেক রোগীকে নিয়মিত নামায আদায়ের জন্যে তাকিদ দিতেন। দেখা গেলো, এতে তার কাছে আসা রোগীরা তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে যাচ্ছেন।

অস্ট্রেলিয়ার একজন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ

পাকিস্তানের একজন হৃদরোগী তার হৃদরোগের নানা রকম চিকিৎসা নিতে নিতে একপর্যায়ে অস্ট্রেলিয়ায় যান। সেখানে হার্ট স্পেশালিস্ট তাকে পরীা করার পর কিছু ওষুধ দেন এবং ব্যায়াম করার পরামর্শ দেন। ব্যায়ামের ব্যাপারে ডাক্তার বলেন, আপনাকে আমার ফিজিও ওয়ার্ডে আমার তত্ত্বাবধানে আট দিন ব্যায়াম করতে হবে। রোগী ব্যায়াম অনুশীলন করে দেখলেন, সে ব্যায়াম হচ্ছে সম্পূর্ণ নামাযের মতো। রোগী সঠিক নিয়মেই ব্যায়াম অনুশীল করছিলেন। ডাক্তার এ অবস্থা দেখে অবাক হয়ে বললেন, আপনি কিভাবে এতো কঠিন ব্যায়াম এতো তাড়াতাড়ি আয়ত্ত করলেন? আমার অন্য রোগীদের তো এ ব্যায়াম অনুশীলনে কমপে আট দিন সময় লেগে যায়। রোগী জানালেন, আমি একজন মুসলমান। আপনার শেখানো ব্যায়াম তো সম্পূর্ণই নামাযের মতো। এ কারণেই এ ব্যায়াম অনুশীলনে আমার কোনো সমস্যা হয়নি। ডাক্তার পরদিনই রোগীকে কিছু ওষুধ এবং কিছু পরামর্শ দিয়ে বিদায় করে দিলেন।

ফিজিওথেরাপিস্টের শিা ও নামায

পাকিস্তানী ডাক্তার মাজেদ যামান ওসমানী ইউরোপে ফিজিওথেরাপিতে উচ্চ ডিগ্রীর জন্যে গেলেন। সেখানে তাকে ব্যায়াম সম্পর্কে যা কিছু শেখানো হলো সেই পাঠ ছিলো পুরোপুরি নামাযের মতো। তিনি অবাক হয়ে বললেন, এ যাবত শুধু ধর্মীয় দায়িত্ব হিসেবে আমি নামায আদায় করেছি, কিন্তু এখানে দেখতে পাচ্ছি বিস্ময়কর ব্যাপার। নামাযের মতো ব্যায়ামের মাধ্যমে বড়ো বড়ো রোগ ভালো হয়ে যাচ্ছে। ডাক্তার সাহেব লেখে দিলেন, এ ব্যায়াম অনুশীলনের মাধ্যমে যেসব রোগ আরোগ্য হতে পারে তা হলো-

১. মস্তিষ্কের রোগ বা মেন্টাল ডিজিজ। ২. স্নায়বিক রোগ ৩. মানসিক রোগ ৪. অস্থিরতা ও অবসাদজনিত রোগ ৫. হৃদরোগ ৬. আর্থারাইটিস ৭. ইউরিক এসিড থেকে সৃষ্ট রোগ ৮. পাকস্থলীর ক্যান্সার ৯. ডায়াবেটিস এবং এর প্রতিক্রিয়ায় সৃষ্ট অন্যান্য রোগ, ১০ চোখ এবং গলার রোগ।

একটি বিশেষ অভিজ্ঞতা

আমার অভ্যাস হলো, আমি যে কোনো বিষয়ে মনোযোগ দিয়ে গবেষণা করি। আমি আমার অভিজ্ঞতায় প্রমাণ পেয়েছি, সারাদিন কাজেকর্মে ব্যস্ত থাকার পর মসজিদে গিয়ে যোহরের সুন্নত এবং ফরয নামায আদায়ের পর দেহ মনে নতুন শক্তি এবং সজীবতা তৈরী হয়। এ নামায আদায়ের পর দেহের কান্তি দূর হয়ে যায় এবং দেহ পুনরায় চাংগা হয়ে ওঠে।

একবার কোনো কাজে আমি করাচী গিয়েছিলাম। মার্কেটে বিশেষ কাজে ঘোরাঘুরি করতে গিয়ে বেশ কান্ত হয়ে পড়লাম। বন্ধু বললেন, কাছেই মসজিদ রয়েছে, চলো নামায আদায় করে আসি। তাই করলাম। বিস্ময়ের সাথে ল্য করলাম, নামায আদায় করার পর সম্পূর্ণ সজীবতা অনুভব করছি। দীর্ঘ দিন পর এখনো আমি নামায আদায় করে সে রকম সজীবতা অনুভব করি।

ডাঃ বার্থাম জোশেফের অভিজ্ঞতা

বিখ্যাত একজন আমেরিকান ডাক্তার তার এক সাাৎকারে নামায এবং ইসলাম সম্পর্কে তার জীবনের অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, নামায হচ্ছে একটি পরিপূর্ণ ও ভারসাম্যপূর্ণ ব্যায়াম। এতে শারীরিক ও পাশবিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার প্রশ্ন দেখা দেয় না। যিনি নামাযের এ ব্যবস্থা প্রবর্তন করেছেন তিনি সম্ভবত আধুনিক যুগের যান্ত্রিক এবং মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা বিবেচনা করেই এ পদ্ধতির বিন্যাস ঘটিয়েছেন।

নামাযে হাত তোলা, হাত বাঁধা, নীচের দিকে চোখ রাখা, আবার হাত ছেড়ে দেয়া, নত হওয়া বা ঝুঁকে যাওয়া, মন মস্তিষ্ককে কেন্দ্রীভূত রাখা, অধিক রক্ত সঞ্চালনের সুযোগ দেয়া, কিছুণ বিরতি দিয়ে দিয়ে হাঁটু ভেংগে বসা, এসব কিছুই হচ্ছে একটি পরিপূর্ণ ব্যায়ামের পদ্ধতি।

নামায ও যোগব্যায়াম

যোগব্যায়ামের বিশেষজ্ঞরা নামাযকে নিশ্বাস প্রশিণের একটি সহজ পদ্ধতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এতে তিনটি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। একটি হচ্ছে কেয়াম বা দাঁড়ানো, সাজদার জায়গায় দৃষ্টি দেয়া এবং দৃষ্টি কেন্দ্রীভূত রাখা। দ্বিতীয় হচ্ছে রুকু, এ রুকুতে পায়ের জায়গায় দৃষ্টি রাখা। তৃতীয়ত সাজদা এবং সাজদায় নিশ্বাস প্রশ্বাসের উঠানামা।

ইটালীর বিশেষজ্ঞের দৃষ্টিতে নামায

ইটালীর একজন নও-মুসলিম জামাল আবদুর রহমান বিশিষ্ট মনস্তত্ত্ববিদ। তিনি নামাযের ব্যায়াম কৌশল বর্ণনা প্রসংগে বলেছেন, আপনি ঘাড় বা দেহের অন্য কোনো অংগ প্রত্যংগের ব্যথা বেদনা দূর করতে চান তবে প্রথমে শরীরের গ্রন্থিগুলো ঢিলে করে দিন, তারপর সোজা হয়ে দাঁড়ান। বিভিন্ন রোগের জন্যে ভিন্ন ভিন্ন রকমের বৈঠক বা আসন রয়েছে। যেমন মেরুদন্ডের ব্যথা দূর করার জন্যে আলাদা উপায়ে বসতে হবে, হৃদরোগ দূর করার জন্যে আলাদা পদ্ধতি রয়েছে, কিডনির সমস্যা দূর করার জন্যে আলাদা উপায় রয়েছে।

নামাযের শর্তাবলী ও আধুনিক বিজ্ঞান

নামায একটি পরিপূর্ণ জীবন পদ্ধতির অংশ, একটি পূর্ণাংগ এবাদাত এবং দুনিয়া আখেরাতের আলোকবর্তিকা। নামায শুরুর প্রাক্কালে ইসলাম কিছু শর্তাবলী দিয়েছে এবং নামাযেরও বিভিন্ন রকমফের রয়েছে। যেমন ফরয নামায, সুন্নত নামায, ওয়াজেব নামায, মোস্তাহাব নামায ইত্যাদি।

যে কোনো প্রকারের ব্যায়াম শুরুর আগে কিছু প্রস্তুতি নেয়া প্রয়োজন। কেননা ব্যায়ামের পদ্ধতি সম্পর্কে জানলেই তো তা বাস্তবায়ন করা হয়। নামায যেহেতু একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ব্যায়াম, কাজেই নামায শুরুর আগে নামায সম্পর্কে অবগত হতে হবে।

দুঃখী মানুষের জন্যে নামায হচ্ছে চিকিৎসা। এ কারণে চিকিৎসামূলক কাজ শুরুর আগে যেসব প্রস্তুতি গ্রহণ করা আবশ্যক সেসব হচ্ছে নামাযের শর্ত।

রোগ নিরাময়ের ওষুধ তৈরীর জন্যে যেমন লতাপাতা বা কেমিকেল দরকার, ঠিক তেমনি নামাযের আমল শুরুর আগেও প্রস্তুতি গ্রহণ আবশ্যক।

ফরয নামায এবং বৈজ্ঞানিক বাস্তবতা

এখানে ফরয, ওয়াজেব, সুন্নত, মোস্তাহাব নামায সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক ভিত্তিতে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। ইসলাম স্বভাবসম্মত ধর্ম বা ফেতরাতের ধর্ম। কাজেই শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ইসলামের প্রতিটি বিধান কল্যাণকর। স্থান কাল পাত্র পার্থক্য হতে পারে, কিন্তু আল্লাহর আদেশ অপরিবর্তনীয়, এর কোনো পরিবর্তন নেই।

জায়গা পবিত্র হওয়া

নামায যেহেতু একটি পরিপূর্ণ আমল, এ কারণে নামায আদায়ের জন্যে এ রকম জায়গা দরকার যেখানে কোনো রোগজীবাণু থাকবে না। আমরা অনেক সময় যেসব জায়গাকে নাপাক মনে করি সেখানে ছোঁয়াচে রোগের জীবাণু থাকে। যেমন বলা যায় গোবরে টিটেনাসের জীবাণু বিদ্যমান থাকে। এছাড়া কলেরা, টাইফয়েডের জীবাণুও বিভিন্ন নাপাক জিনিসে ল্য করা যায়। ইসলাম শত শত বছর আগেই এ সম্পর্কে আমাদের অবগত করেছে।

জায়গা পাক পবিত্র হওয়ার পর দৈহিক পরিচ্ছন্নতার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। কারণ নামাযী যখন নামাযের জন্যে মসজিদে যাবে তখন তার দেহ যদি পরিচ্ছন্ন না থাকে তবে নানারকম সমস্যা দেখা দিতে পারে। দেহ পাক পবিত্র না হলে দেহে বিভিন্ন ধরনের রোগজীবাণুর সংক্রমণ হতে পারে এবং অন্য নামাযীদের দেহে সে জীবাণু সংক্রমিত হতে পারে। তাছাড়া অন্য নামাযীরা এ নামাযীকে ঘৃণা করবে। মানুষ তার কাছে আসতে চাইবে না। নামাযীর জামা কাপড়, পোশাক পরিচ্ছদ যদি অপরিচ্ছন্ন থাকে তবে তার মাধ্যমে নানারকম রোগের বিস্তার ঘটতে পারে।

সার্জারীর বিশিষ্ট সার্জন রবার্ট স্মীথ বলেছেন, আমরা পবিত্রতা পরিচ্ছন্নতার শিা ইসলাম থেকে লাভ করেছি।

সামাজিক প্রভাব

একটি সুস্থ সুন্দর সমাজের জন্যে প্রয়োজন হচ্ছে সমাজের অধিবাসীদের মধ্যে পারস্পরিক প্রীতি, ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও সৌহার্দ্য বিদ্যমান থাকবে। অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, যাদের পোশাক পরিচ্ছদ অপরিষ্কার থাকে, সব মানুষ তাদের অপছন্দ করে। নামাযের মাধ্যমে ইসলাম মানুষকে সমাজে বসবাস করার এবং সম্মানজনক জীবন যাপনের নিয়ম শিা দিয়েছে। ইসলাম পবিত্রতা পরিচ্ছন্নতার ওপর এ কারণেই গুরুত্ব আরোপ করেছে যে, পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন মানুষকে সবাই ভালোবাসে।

মানুষ সম্পর্কে কথা বলার সময়ে সাধারণত আমরা বলে থাকি, মানুষ সামাজিক জীব। অর্থাৎ মানুষ অন্য মানুষের সাথে মিলেমিশে বসবাস করতে বাধ্য। ইসলামও এ বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করে। হাদীসে বলা হয়েছে, ইসলামে বৈরাগ্য বা সন্ন্যাসব্রত নেই। সমাজবিহীন বিচ্ছিন্ন জীবন যাপন ইসলাম অনুমোদন করে না। সমাজে অবস্থান করেও আলাদা জীবন যাপন করা যায় না। হাদীসে আরো বলা হয়েছে, গোটা মুসলিম জাতি হচ্ছে একটি দেহের মতো। দেহের এক অংশে ব্যথা হলে সারা দেহে (যেমন) সে ব্যথা অনুভূত হয়, (তেমনি) একজন মুসলমানের কোনো কষ্ট হলে সে কষ্টও সকল মুসলমান অনুভব করে।

এই দৃষ্টিভংগির কারণে জামায়াতে নামায আদায়ের জন্যে তাকিদ দেয়া হয়েছে। শুধু তাকিদই নয়; বরং জামায়াতে নামায আদায়ের ব্যাপারে কঠোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। প্রতিদিন পাঁচ বার মানুষ যখন একত্রিত হবে তখন অবশ্যই পরস্পরের মধ্যে মতবিনিময় হবে। একে অন্যের দুঃখকষ্ট সম্পর্কে অবগত হতে পারবে। একজন অন্য জনের সমস্যা জেনে সেই সমস্যা সমাধানে সহায়তা করতে পারবে।

untitled-2213466388_1756071501281077_2073791806686577968_n

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY