নতুন বছরের শুভেচ্ছা

0
160

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
গত রোববারে আমরা আরেকটি ইংরেজী বছরে প্রবেশ করলাম। ২০১৭ সালের প্রথম দিনে আমরা পা দিলাম। একটি বছর কারো জীবনেই খুব কম সময় নয়, সেটা ব্যক্তি হোক সমাজ হোক জাতি হোক সবার জন্যেই একটি বছর- অনেকগুলো সময়। এই পরিমাণ সময় যখন কোনো ব্যক্তি ও সমষ্টির জীবন থেকে অতিবাহিত হয়ে যায়, তখন তার কতোটুকু সত্যিকার অর্থে তারা কাজে লাগিয়েছে তাও ভেবে দেখা উচিত। যদি কোনো কারণে এর অধিকাংশ সময় তারা কাজে লাগাতে না পারে, তাহলে পরবর্তী বছরের জন্যে অন্তত এ সিদ্ধান্ত করা দরকার যে, আগামীতে কোনো সময়ই তারা অবহেলা করে কাটাবে না। সমাজ সভ্যতার হালখাতায় যখন আমরা পুরনো বছরের হিসাব মেলাই, তখন প্রায়ই এখানে পাওয়া না পাওয়ার প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির মাঝে একটা বড়ো রকমের ফারাক থাকে, আর বাইরের লোকদের কাছ থেকে এই ফারাককে ঢেকে রাখার জন্যে আমরা প্রায়ই নানা গোজামিলের আশ্রয় নেই। এটা আমরা করি- শুধু নিজেকে সান্ত্বনা দেয়ার জন্যে, কিন্তু গোজামিলের সান্ত্বনা আমাদেরকে পরবর্তী বছরে আরো নিষ্কর্ম, আরো অথর্ব বানিয়ে দেয়।
২০১৬ সালটি সাত মিলিয়ন পৃথিবীবাসীর জন্যে যাই হোক না কেন- পোনে ২ বিলিয়ন মুসলমানদের জন্যে নিতান্ত হতাশা ব্যঞ্জক ও দুঃখ দুর্দশার বছর ছিলো এতে কোনো সন্দেহ নেই। অনেকগুলো বছর ধরে বিশ্বের এই মানচিত্রটি এমনিই মুসলমানদের রক্তে লাল হয়ে আছে, অবশ্য এবার নতুন যখমে নতুন কিছু স্থায়ী রক্তের দাগ পড়েছে বার্মা ও কাশ্মীরের ভূখণ্ডে। ফিলিস্তিন, ইরাক, সিরিয়া, ইয়ামান ও লিবিয়ার কোটি কোটি মুসলমানদের দুঃখ দুর্দশা হতাশা বঞ্চনা অবিচার দেখে দেখে যখন ২০১৬ সালের প্রায় সবকটি দিনের সবকটি নিউজ চ্যানেলের বড়ো সংবাদ পাঠক সংবাদ দর্শক ক্লান্ত পরিশ্রান্ত ও নিরাশ হয়ে পড়েছেন, তখন হঠাৎ করেই যেন ২০১৬ সালটি আমাদের বিদায় জানিয়ে চলে গেলো। জানি না এতো ব্যর্থতা এতো যুলুম অত্যাচারের পরও এ রক্তান্ত ভূখন্ডগুলো নতুন বছরে নতুন আশার কোনো আলো দেখবে কি না। অন্যদের ঘৃণা বিদ্বেষ ও নিজেদের দলাদলি হানাহানি কোনোটারই সমাপ্তির আশু কোনো সম্ভাবনা না দেখেও আমরা আগামীর শুভ কামনা করি। আল্লাহ তায়ালা মুসলমানদের রক্ষা করুন। কেননা আল্লাহ তায়ালাই একমাত্র ভরসা।

হাফেজ মুনির উদ্দীন আহমদ

untitled-22

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY