বর্ষ বরণে করণীয়-বর্জনীয়

0
80

বর্ষ বরণে করণীয়-বর্জনীয় :
কালের পরিক্রমায় আমরা এক খৃষ্ট সনের পরিসমাপ্তি ও আরেক নতুন খৃষ্ট সনের আগমন সন্দিক্ষণে উপস্থিত, আধুনিক বিশ্বে যাকে থার্টি ফাস্ট নাইট নামে নাম করণ করে। এ রজনীতে আমাদের কিছু মুসলিম যুব সমাজ বিজাতীদের সভ্যতা আলিঙ্গণ করে, অমুসলিমদের মাঝে একাকার হয়ে নারী- পুরুষ সংমিস্রণে এক উম্মাদের সাজে সজ্জিত হয় । আবার কিছু মহল তাদের পার্থিব হীন স্বার্থ হাসিলের লক্ষে আনুষ্ঠানিকতার নামে উলঙ্গ-বেহায়াপনা ও নৃত্য মনরঞ্জের আয়োজন করে । একবার ও ভাবেনি একজন মুসলিম সন্তান হিসেবে আমার জন্য এটা বৈধ কি ? ইসলামী কালচার কি আমাকে এগুলো করার অনুমদন দিচ্ছে ? পার্থিব এ আনন্দময় জীবন কি আমার পরকালের জীবনের সহায়ক না বেদনায়ক ? আমার সমাজ আমাকে কিভাবে দেখছে ? ইত্যাদি!
বর্জনীয়:
১.বর্ষ বরণ উপলক্ষে কোন অনুষ্ঠান করা বা তাতে অংশ গ্রহণ করা হারাম। চাই সেটা বাংলা নববর্ষ হোক বা খৃষ্ট নববর্ষ হোক বা হিজরী নববর্ষ হোক না কেন !
২. খৃষ্ট নববর্ষেখ কাউকে অভিনন্দন জ্ঞাপন করা বা পাঠানো হারাম । কারণ এটি কাফেরদের কালচার, যা তাদের নিজস্ব ধর্মীয় ঐতিহ্য ও নিদর্শন বহন করে । সুতরাং কোন মুসলীমের এমন কাজ করা কাফেরদের ধর্ম ও কালচারের প্রতি সমর্থন ও সন্তুষ্টির সমিল ।
قال الإمام ابن القيم: “وأما التهنئة بشعائر الكفر المختصة به ، فحرام بالاتفاق”
অর্থাৎ : ইমাম ইবনুল কাইয়েম (র:) বলেন: কাফের ও কুফরীর নিদর্শনে সংস্লিষ্ট বিষয়ে অভিনন্দন ও স্বাগতম বিনিময় সর্বাক্যমতে হারাম ।
৩.এমন কি কোন ভাল কাজ অথবা ইবাদত বর্ষবরণ বা বর্ষবিদায় দিনের সাথে খাচ বা সুনির্দিষ্ট করে করা ও শরিয়াত সমর্থন করে না। কারণ দলিল ব্যতীত নির্দিষ্ট কোন সময়ের সাথে কোন ইবাদতকে সুনির্দিষ্ট করা বিদায়াত। সুতরাং ইবাদতই যেখানে অনুমদিত নয়,সেকানে অভিভাদন জ্ঞাপন ও বিজাতিদের কালচারের স্থান কোথায় ?
قال الشاطبي -رحمه الله- : إنه ينبغي للمسلم اجتناب تخصيص نهاية العام أو بداية العام الجديد بشيء من العبادات؛ (الاعتصام ).
অর্থাৎ : ইমাম শাতেবী (রা:) বলেন: বছরের সমাপ্তি বা বছরের সূচনার সাথে কোন ইবাদাতকে সুনির্দিষ্ট করা থেকে বিরত থাকাই একজন মুসলিমের উচিত।
৪. বিজাতীয় সভ্যতায় নিজেকে বিলিন করে নববর্ষে আতসবাজি , গানের আসর, নৃত্যের আসর, খাবারের আয়োজন, নারী-পুরুষের চেহারা ও দেহে রুপ সজ্জা ও অংকন,এবং নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেসা ইত্যাদি আয়োজন করা এবং তাতে অংশ গ্রহন করা ইসলামে ঘৃনিত ও অবৈধ ।
قَالَ رَسُولُ اللّهِ صلى الله عليه وسلم : ( خَالِفُوا الْمُشْرِكِينَ) مسلم (555).
অর্থাৎ : রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন : তোমরা মুশরিকদের বিরোধপূর্ণ কাজ করবে। (সহীহ মুসলিম ৫৫৫)
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم (من تَشَبَّه بقومٍ فهو منهم ) رواه أحمد (5106) وأبو داود (3040).
অর্থাৎ : রাসুলুল্লাহ  (স.)আরো বলেছেন : যে তাদের(কাফেরদের) সাদৃস্যপুর্ন কাজ করবে সে তাদের অন্তর্ভুক্ত। (আহমদ ৫১০৬, আবু দাউদ ৩০৪০)
৫. শাইখ মুহাম্মদ সালেহ আল উসাইমীন (র:) কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল: হিজরী নববর্ষে অভিনন্দন জ্ঞাপন করার হুকুম কি? জবাবে তিনি বলেন : কেউ আপনাকে অভিনন্দন জ্ঞাপন করলে তার উত্তরে অভিনন্দন দেয়া যাবে তাতে কোন দোষ নেই, কিন্তু নিজে প্রথমে অন্যকে অভিনন্দন জ্ঞাপন করা যাবে না । যেমন : কেউ যদি বলে : আপনাকে নববর্ষের অভিনন্দন , তখন আপনি বলবেন : আল্লাহ আপনাকে কল্যাণে অভিনন্দিত করুক! বা আগত বছর আল্লাহ আপনার জন্য কল্যানময় করুক । এ সকল বিষয় হিজরী সনের ক্ষেত্রে, কারণ এটি শরয়ী বছর, পক্ষান্তরে খৃষ্ট বছরের ক্ষেত্রে কোন অভিনন্দনই জায়েজ নেই, কারণ তা শরয়ী বছর নয় ।
৬. Happy new year, এসো হে বৈশাখ, মঙ্গল সোভা যাত্রা, নববর্ষের আগমন হোক কল্যানময়, নতুন বছর কল্যান নিয়ে এসেছে, নতুন বছরের নতুন দিন অতীতের গ্লানি দূর করে কল্যান নিয়ে এসেছে, ইত্যাদি । এ জাতীয় শব্দ অধিকাংশই শিরক ও কুফরীতে ভরপুর। কারণ দিন- ক্ষণ , সময়-আগমণ- প্রত্যাগমন ইত্যাদি মানুষের কোন কল্যান বা অকল্যান সাধন করতে পারেনা । কল্যান করার একমাত্র মালিক আল্লাহ তায়ালা । সুতরাং এ জাতীয় শব্দ পরিহার করাই একজন মুমিনের কর্তব্য । তাই শব্দ চয়ন এমন ভাবে করা উচিত যাতে কল্যানের প্রার্থনা হবে আল্লাহর নিকট, এবং অকল্যান থেকে মুক্তি চাওয়া হবে একই ভাবে আল্লাহর নিকট। বছরের বিদায় ও আগমণ কোনটাই কল্যান দিতে ও পারে না , নিতে ও পারে না ।
قال رسول الله صلى اله عليه وسلم : إِذَا سَأَلْتَ فَاسْأَلِ اللَّهَ، وَإِذَا اسْتَعَنْتَ فَاسْتَعِنْ بِاللَّهِ، وَاعْلَمْ أَنَّ الأُمَّةَ لَوْ اجْتَمَعَتْ عَلَى أَنْ يَنْفَعُوكَ بِشَيْءٍ لَمْ يَنْفَعُوكَ إِلَّا بِشَيْءٍ قَدْ كَتَبَهُ اللَّهُ لَكَ، وَلَوْ اجْتَمَعُوا عَلَى أَنْ يَضُرُّوكَ بِشَيْءٍ لَمْ يَضُرُّوكَ إِلَّا بِشَيْءٍ قَدْ كَتَبَهُ اللَّهُ عَلَيْكَ .( سنن الترمذي2516)
অর্থাৎ : রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন : তুমি যখন কিছু চাইবে আল্লাহর নিকটেই চাইবে, আর যখন সাহায্য চাইবে আল্লাহর নিকটেই সাহায্য চাইবে। আর জেনে রাখ ! সমগ্র বিশ্ব যদি তোমার কোন উপকার করতে একত্রিত হয় , তারা তোমার কোন উপকার করতে পারবে না, একমাত্র আল্লাহ তয়ালা যা তোমার জন্য লিখেছেন তাহা ব্যতীত । আর যদি তারা তোমার কোন ক্ষতি করতে একত্রিত হয় , তারা তোমার কোন ক্ষতিই করতে পারবে না, একমাত্র আল্লাহ তয়ালা যা তোমার উপর লিখেছেন তাহা ব্যতীত । (তিরমিজি ২৫১৬, আহমদ ২৬৬৯)
করণীয় :
১. বছরের প্রথম রজনী বা দিনকে অন্যান্য দিনের মতই স্বাভাবিক দিন হিসাবে মনে করা ।
২.ইসলমী শরিয়াতে এ রজনী বা দিনে বিশেষ কোন কাজ বা আমল নেই আবার কোন বিশেষ ফজিলত ও নেই ।
৩.কেউ কেউ বলেন : একজন মুসলিম চাইলে এ দিন তার বিগত দিন ও অতীত আমল নিয়ে ভাবতে পারে , চিন্তা করতে পারে , যদিও এটি মুমিনের দৈনিক কাজ । যেমন : আমি কি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতে পড়তে পেরেছি? আমি কি আল্লাহর সকল আহকাম পালন করতে পারছি ? আমার ইনকাম ও রোজগার কি শতভাগ হালাল? কতটুকু হালাল ? কতটুকু হারাম ? আমি কতজন লোকের উপকার করতে পেরেছি ? আমার দ্বারা কতজন লোকের ক্ষতি হয়েছে ? আমি কি গিবত ছাড়তে পেরেছি ? ধোকাবাজি ছড়তে পেরেছি ? ইত্যাদি প্রশ্ন করে নিজ জিবন থেকে উত্তর খুজে শিক্ষা নিতে পারে, পরিবর্তন আনতে পারে তার জীবনে ।
قَال عُمَرَ بْنِ الخَطَّابِ رضى الله عنه : ” حَاسِبُوا أَنْفُسَكُمْ قَبْلَ أَنْ تُحَاسَبُوا .(سنن الترمذي 2459)
অর্থাৎ : ওমর বিন খাত্তাব (রা:) বলেন : তোমার হিসাব নেয়ার আগেই তুমি নিজেই তোমার হিসাব- নিকাস কর !( তিরমিজি ২৪৫৯)
قال سيدنا الحسن البصري- رحمه الله – : كل يوم تشرق فيه الشمس ينادي هذا اليوم: يا ابن آدم أنا يوم جديد وعلى عملك شهيد فاغتنمني فإني إن ذهبت لا أعود إلى يوم القيامة.
অর্থাৎ : হাসান বসরী (র:) বলেন : দৈনিক সূর্য যখন উদিত হয় তখন ঐ দিনটি আহবান করে : হে বনী আদম ! আমি নতুন দিন , আমি তোমার কাজের সাক্ষী, সুতরাং আমাকে কাজে লাগাও, কারণ আমি যদি চলে যাই কিয়ামত পর্যন্ত আর প্রত্যাবর্তন করব না ।
পরিশেষ আল্লাহ তায়ালার নিকট সকলের জন্য হিদায়াত ও সাহায্য, সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গল প্রার্থনা করছি । আমিন ।
(ভুল ত্রুটির জন্য ক্ষমা প্রার্থী)

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY