হাদীসে জিবরাঈল

0
112

দ্বিতীয় খলীফা হযরত ওমর১ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, একদিন আমরা রসূলুল্লাহ (স.)-এর কাছে বসেছিলাম, এমন সময় হঠাৎ করেই একজন লোক আমাদের সামনে উপস্থিত হন, যার কাপড় ছিলো খুবই সাদা এবং চুল ছিলো খুবই কালো। তার ওপর সফরের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছিলো না। আমাদের মধ্যে কেউ তাকে আদৌ চিনতো না। তিনি নবী (স.)-এর কাছে গিয়ে বসেন এবং নিজের হাটু তাঁর হাটুর সঙ্গে মিলিয়ে দেন এবং নিজের হাত তাঁর উরুতে স্থাপন করে বলেন, ‘হে মোহাম্মদ! আমাকে ইসলাম সম্পর্কে বলুন।’ রসূলুল্লাহ (স.) বলেন, ‘ইসলাম হচ্ছে এই- তুমি সাক্ষ্য দেবে যে, আল্লাহ তায়ালা ছাড়া আর কোনো মাবুদ নেই এবং মোহাম্মদ (স.) আল্লাহর রসূল, নামায কায়েম করবে, যাকাত২ দান করবে, রমযানে রোযা রাখবে এবং যদি সামর্থ থাকে তবে (আল্লাহর) ঘরের৩ হজ্জ করবে।
তিনি বললেন, আপনি ঠিক বলেছেন। তার প্রতি আমাদের কিছুটা বিস্ময় হলো এ জন্যে যে, তিনি নিজে তাঁর কাছে জানতে চাচ্ছেন, আবার নিজেই তাঁর উত্তরকে সঠিক বলে ঘোষণা করছেন। তিনি বললেন, আচ্ছা আমাকে ঈমান৪ সম্পর্কে বলুন। তিনি বললেন, ঈমান হচ্ছে আল্লাহ তায়ালা, তাঁর ফেরেশতারা, তাঁর গ্রন্থসমূহ, তাঁর রসূলরা ও পরকালকে বিশ্বাস করা এবং তকদীরের ভালো মন্দকে বিশ্বাস করা। তিনি বললেন, আপনি সঠিক বলেছেন। তিনি বললেন, আমাকে এহসান সম্পর্কে বলুন। তিনি বললেন, তা হচ্ছে এই- তুমি এমনভাবে আল্লাহর এবাদত করবে যেন তুমি আল্লাহকে দেখতে পাচ্ছো, আর তুমি যদি তাঁকে দেখতে না পাও তবে এ কথা জানবে যে, তিনি তোমাকে দেখছেন। তিনি বললেন, কেয়ামতের বিষয়ে আমাকে অবহিত করুন, তিনি বললেন, যাকে জিজ্ঞেস করা হচ্ছে তিনি জিজ্ঞেসকারীর চেয়ে বেশী কিছু জানেন না। তিনি বললেন, আচ্ছা কেয়ামতের লক্ষণ সম্পর্কে বলুন। তিনি বললেন: তা হচ্ছে এই দাসী (কোনো কোনো ব্যাখ্যায় মহিলা) নিজের মালিককে জন্ম দেবে, জুতা বিহীন ও বিবস্ত্র দরিদ্র রাখালরা উঁচু উঁচু বাড়ী-ঘর বানাতে গিয়ে নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগীতা করবে।
তারপর লোকটি চলে গেলেন। আমি আরো কিছু সময় সেখানে বসে থাকলাম। এবার রসূল (স.) আমাকে বললেন, হে ওমর! তুমি কি জানো প্রশ্নকারী ব্যক্তিটি কে ছিলেন? আমি বললাম, আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রসূল (স.) ভালো জানেন। তিনি বললেন, তিনি ছিলেন জিবরাঈল। তিনি তোমাদেরকে তোমাদের দ্বীন শিক্ষা দিতে তোমাদের কাছে এসেছিলেন। (মোসলেম)
টীকাঃ
১. অর্থাৎ দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর (রা.)।
২. সম্পদের যাকাত- যা কোরআনের নির্ধারিত লোকদের প্রাপ্য। ধনীদের কাছ থেকে নির্ধারিত হারে আদায় করে গরীবদের মাঝে বিতরণ করা হয়।
৩. মক্কা নগরীতে অবস্থিত কাবা শরীফ।
৪. ঈমান বলতে ধর্মীয় বিশ্বাসকে বোঝায়; ইসলামের পরিভাষায় ঈমান- আল্লাহ, রসূল, আসমানী কিতাব, ফেরেশতা, তকদীরের ভালোমন্দ, আখেরাত ও মৃত্যুর পরবর্তী জীবনের প্রতি মনে প্রাণে বিশ্বাস করাকে ঈমান বলে।
৫. এহছান-এর ধর্মীয় তাৎপর্য রয়েছে। এর অর্থ হচ্ছে কোনো নেক কাজকে উত্তম রুপে সম্পাদন করা। অভিধানিক অর্থে সঠিক কর্মসম্পাদন, উত্তম দান, দায়িত্ব এবং পছন্দ ইত্যাদি।
৬. শেষ বিচারের দিন।
৭. এই শব্দের একাধিক অর্থ রয়েছে। এমনকি ঈমান আন নবাবীর মতে, একজন কৃতদাসী যখন কোনো পুত্র বা কন্যা জন্ম দেয় তবে সে নবজাতক হবে মুক্ত। ‘আমা’ শব্দের অর্থ কৃতদাসী। বস্তুত আমরা সকলেই মহান আল্লাহ তাআলার দাসদাসী। শব্দটি ব্যাপক অর্থ বহন করে। যদি দাসী তার বাচ্চা মনিবের জন্য জন্ম দেয় তাহলে একদিন তারা মা’দের প্রতি সম্মান হারিয়ে ফেলবে এবং চাকরের মতো উপহাস করবে। এখানে বর্ণনাকারী রাব্বা বলতে মনিব ও মহিলা মনিব দুই অর্থে ব্যবহার করেছেন।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY