খোতবা চলাকালীন সময়ে মসজিদে নিরবতা পালন

0
51

সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহ তায়ালার জন্যে। আমরা তার সাহায্যের মুখাপেক্ষী, আমরা তারই কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি, আমরা আমাদের বদ আমল এবং উদ্ধত্য থেকে তার আশ্রয় চাই, তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আল্লাহ তায়ালা যাদের পথ দেখান তাকে কেউ পথপ্রষ্ট করতে পারে না। আর যাকে তিনি তার হেদায়াতে থেকে দূরে সরিয়ে দেন তাকে কেউ হেদায়াত করতে পারে না। নিসন্দেহে আল্লাহ তায়ালাই একমাত্র এবাদাতের উপযুক্ত। অনুরূপ আমরা অন্তর থেকে ঘোষণা করছি- হযরত মুহাম্মদ (স.) তার বান্দাহ ও তারই নির্বাচিত নবী। যাকে আল্লাহ তায়ালা সত্য দ্বীন দিয়ে নিজের নবী করে পাঠিয়েছেন। যিনি সুসংবাদ শোনান এবং সতর্ক করেন। যাকে কেয়ামতের নিকটবর্তী সময়ে পাঠানো হয়েছে।
সত্যিকার অর্থে যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তার রসূলকে মেনে তার আনুগত্যে লিপ্ত রয়েছে, সে ব্যক্তি সফলতা অর্জন করে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তার রসূলের নাফরমানী করেছে যে ধ্বংস হয়ে গেছে।
আমরা আমাদের লালন পালনকারী মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করছি। তিনি যেন আমাদেরকে তার এবং তার রসূলের আনুগত্যকারীদের অন্তর্ভুক্ত করেন। তিনি যে কাজে সন্তুষ্ট সে কাজ আমাদের দিয়ে করিয়ে নেন এবং তার অসন্তুষ্টি ও নারাজিপূর্ণ কাজ থেকে আমাদের রক্ষা করুন। আমরা সবাই তার সাহায্যেই জীবন যাপন করি। আমরা তার গোলাম এবং তার রাজত্বের অধীনে রয়েছি।
ভাইয়েরা আমার! এই মাত্র যে খোতবা আমি আপনাদের উদ্দেশে পেশ করবো। এটি রসূল (স.)-এর একটি ঐতিহাসিক খোতবা। যা আবু দাউদ শরীফেরও বিদ্যমান আছে। আপনারা এর অনুবাদ শুনলেন। এরপর আমি সূরা তাবারাকার কিছু আয়াত তেলাওয়াত করেছি যাতে আল্লাহ তায়ালা তাঁর মাহাত্ন, শ্রেষ্ঠত্ব এবং রাজত্বির প্রকাশ করেছেন।

হযরত উবাই ইবনে কা’ব (রা.) থেকে বর্ণিত, রসূল (স.) জুমআর দিন মিম্বরে দাঁড়িয়ে খোতবা প্রদানকালে সূরা তাবারাকা’র কয়েকখানা আয়াত তেলাওয়াত করেন এবং আল্লাহ তায়ালার অনুগ্রহ, তার পবিত্রতা বয়ান করেন এবং লোকদের নসিহত করেন। ঐ খোতবা হযরত আবু যর শুনে হযরত উবাই বিন কা’ব (রা.) টোকা মেরে জিজ্ঞেস করেন এই আয়াত কবে কখন নাযিল হয়েছে? আমি তো আজই মাত্র শুনলাম! তিনি তাকে চুপ থাকার জন্যে ইশারা করলেন এবং মুখে কোনো কথাই  বললেন না। নামায শেষে হযরত আবু যর (রা.) অভিযোগ করে বললেন, তুমি আমার প্রশ্নের জবাব দিলে না কেন? তখন তিনি বললেন, আজকের নামাযে যে পরিভাষা তুমি শুনেছো এরচেয়ে বেশী কিছু আর পাওয়া যায়নি। একথা শুনে হযরত আবু যর সরাসরি রসূল (স.)-এর খেদমতে হাজির হয়ে পুরো ঘটনার কথা জানালেন। এরপর রসূল (স.) বললেন উবাই সত্যই বলেছে।
এর থেকে প্রমাণ হলো যে, খতীবের খোতবা দানকালে কোনো কথা বলা হারাম বরং জুমআর সাওয়াব নষ্ট হয়ে যায়। অন্য রেওয়ায়াতে রয়েছে, এরপর হুজুর (স.) এই বয়ানও করেন- অর্থাৎ ইমাম যখন খোতবা দিতে শুরু করেন তখন তুমি চুপ করে থাকো ইমামের খোতবা শেষ হওয়া পর্যন্ত।
সহীহ ইবনে খোযায়মাতে রয়েছে, হযরত আবু যর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, জুমআর দিন রসূল (স.) খোতবা পড়তেছিলেন, আমি হযরত উবাই ইবনে কাবের কাছে বসে পড়েছি, এ সময় রসূল (স.) সূরা বারাআর আয়াত পড়ছিলেন। এদিকে আমি উবাইকে প্রশ্ন করলাম। এ সূরা কবে নাযিল হয়েছে? তিনি আমার দিকে চোখ রাঙিয়ে তাকালেন এবং কোনো উত্তর করলেন না। কিছুক্ষণ পর আমি আবার প্রশ্ন করলাম, এবারও আগের মতো চোখ রাঙিয়ে কোনো কথা না বলে চুপ করে রইলেন। কিছুক্ষণ পর আমি অধৈর্য হয়ে পুনরায় আবার প্রশ্ন করলাম কিন্তু পূর্বের ন্যায় একই ব্যবহার করলেন এবং চুপ থাকলেন। নামায শেষে আমি তাকে তার এ কাজের জন্যে অভিযোগ করি। তিনি বললেন, বেশ আজকের নামাযে তো তুমি এমনি পরিস্থিতি হয়েছে যা তুমি করলে। আমার মনের আকুতি নিবারণ করতে আমি সোজা নবী করীম (স.) এর খেদমতে চলে যাই এবং পুরো ঘটনা বর্ণনা করি। জবাবে রসূল (স.) বললেন- উবাই সত্য বলেছে।
সহীহ ইবনে হাব্বানে কাছাকাছি এমনি একটি ঘটনার বর্ণনা হযরত ইবনে মাসউদ (রা.) করেছেন। তিনি খোতবা চলাকালীন মসজিদে আসেন এবং হযরত উবাই ইবনে কাব এর কাছে গিয়ে বসেন এবং কিছু প্রশ্ন করলেন। যার জবাব না পেয়ে বিরক্ত হলেন। নামায শেষে আমি হযরত উবাইকে জিজ্ঞেস করলাম- আপনি কি আমার ওপর অসন্তুষ্ট? যার জন্যে আমার প্রশ্নের কোনো জবাবই দিলেন না। তিনি বললেন, শোনো- তুমি তো আজ জুমআ পড়োই নাই। বললাম এটা কেন? বললেন, কেননা হুজুর (স.) খোতবা দিচ্ছিলেন আর তুমি সেখানে কথা বলছো। একথা শুনেই ইবনে মাসউদ (রা.) রসূল (স.)-এর খেদমতে হাজির হয়ে ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেন। জবাবে রসূল (স.) বলরেন, উবাই সত্য বলেছে, উবাই সত্য বলেছে। তুমি তার কথা মেনে নাও।

খুতবা চলাকালীন কেউ যদি মাসজিদে আসে তার প্রতি নির্দেশ হলো যে, সে যেন মূলত ২ রাকাত নামায পড়ে বসে এবং সেটা যেন সংক্ষেপে পড়ে। এ ব্যাপারে আবু দাউদ শরীফে রয়েছে-
রসূল (স.) জুমআর দিনে খোতবা দিচ্ছিলেন এ সময় হযরত খোলাইক গাতফানী (রা.) আসেন এবং দু’রাকাত নামায না পড়েই বসে পড়েন। তারপর রসূল (স.) তাকে জিজ্ঞেস হে অমুকের ছেলে তুমি কি দু’রাকাত নামায পড়ে বসেছো? সে বললো জ্বি না, তখন রসূল (স.) তাকে হুকুম করলেন- দাঁড়াও এবং দু’ রাকাত নামায আদায় করে বসে পড়ো। এরপর বললেন, হে লোকেরা! তোমাদের মধ্যে যখন কেউ মসজিদে পৌঁছে আর এ সময় ইমাম খোতবা পড়ছেন তখন তার উচিত সংক্ষেপে দু’রাকাত নামায পড়ে নেয়া। (মুসলিম, ইবনে মাজা, আবু দাউদ)

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY