সম্পাদকীয়

0
152

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

সূরা আর রোমের একটি আয়াতের বাংলা অনুবাদ দিয়ে আজকের লেখাটা শুরু করছি- ‘তার (কুদরতের) নিদর্শনের মধ্যে রয়েছে আকাশমালা ও যমীনের সৃষ্টিও- রয়েছে তোমাদের (পারস্পরিক) ভাষা ও বর্ণ (বৈচিত্র)। অবশ্যই জ্ঞানবান মানুষদের জন্যে এতে অনেক নিদর্শন রয়েছে।’ (আয়াত ২২)
এই সূরার আয়াত ২০ থেকে ২৫ পর্যন্ত আল্লাহ তায়ালা মানুষ জাতির প্রতি তাঁর কিছু দান ও নেয়ামতের কথা বলেছেন, এর সাথে রয়েছে সূরা আল হুজুরাতের ১০ থেকে ১৩ নং আয়াতও।
আমার প্রায়ই মনে হয়, কোরআনুল কারীমের সূরা আর রোম ও সূরা আল হুজুরাত হচ্ছে ইসলামের সামাজিক ও পারিবারিক ‘চার্টার’। এসব সোস্যাল চার্টারকে আমরা আমাদের ভাষা ও সংস্কৃতিতে ‘সনদ’ বলি। সনদ কিংবা চার্টার- নাম যাই হোক- এগুলো হচ্ছে এমন কতিপয় মৌলিক নীতিমালা, যার উপর পরিবার এবং সমাজ নামক দু’টো ইনিস্টিটিউশানের ভিত্তি স্থাপন করা হয়েছে। জাতিসংঘ বানাবার সময় বিশ্ব মোড়লরা বসে এর কিছু চার্টারে সই করেছিলেন- যেগুলোকে তারা নাম দিয়েছেন ‘হিউম্যান রাইটস চার্টার’ অর্থাৎ মৌলিক মানবাধিকার সনদ। মৌলিক মানবাধিকার বলতে মানুষের এমন কিছু অধিকারকে বুঝানো হয়- যেগুলো কোনো মানুষের নিজের অর্জন নয়। যে অধিকারগুলো তাকে কোনো মানুষ দেয়নি- মানুষরা তা দেয়নি বলে তার হরণ করার অধিকারও মানুষের নেই। এ যমীনে তাকে অযত্ন করা, অবহেলা করা, অপমান করার কারোও কোনো অধিকার নেই।
যেমন একজন মানুষ আরেকজন মানুষের জীবন দান করেনি, তাই এ জীবন হরণের কোনো অধিকার তার নেই, আল্লাহ তায়ালাই মানুষের মান-ইয্যত, ধন সম্পদ, তার গায়ে নানা রঙ বসিয়ে দিয়েছেন- তাই এগুলো হরণ করা, এগুলোকে পদদলিত করার অধিকার কোনো মানুষের নেই। আল্লাহ তায়ালা বিশ্বের সাত বিলিয়ন মানুষের মুখে হাজার হাজার ভাষার বিশাল একটা অভিধান তুলে দিয়েছেন, তাই ওখানেও কারো হাত দেয়ার অধিকার নেই। এগুলো সবই আল্লাহর দান, আল্লাহ তায়ালা এর সবকিছুকে তাঁর কুদরতের একেকটি নিদর্শন বলেছেন। এগুলোর মর্যাদা রার জন্যে আল্লাহ তায়ালা সকল মানুষকেই আদেশ দিয়েছেন। যে জিনিসটা আমার নয়, যেটা আমার কখনো ছিলোও না, তা বিনষ্ট করার অধিকার কারো নেই। মানুষের রক্ত বর্ণ ভাষা এর সবই হচ্ছে আমাদের প্রতি আল্লাহর দান। আল্লাহর দান বলে অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা আমাদের এ ব্যাপারে প্রশ্ন করবেন।

-হাফেজ মুনির উদ্দীন আহমদ

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY