সম্পাদকীয়

0
52

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
জুমাবারের গত সপ্তাহের সংস্করণে আমরা মানুষের বর্ণ, ভাষা, গোত্র ও অন্যান্য কিছু মৌলিক মানবাধিকারের কথা বলেছি। মানব সন্তানকে আল্লাহ তায়ালা বিভিন্ন ভাষা ও বর্ণ গোত্র এ জন্যেই দান করেছেন, যেন মানুষ এর মাধ্যমে একজন আরেকজনকে চিনতে পারে। ঠিক এ কথাটাই যে আল্লাহ তায়ালা তার কোরআনে বলেছেন- সে কথাও আমরা গত সংস্করণে আলোচনা করেছি।
ভাষা, বর্ণ, গোত্র, বংশ পরিচয় কোনো মানুষেরই নিজের অর্জন নয়। মানুষ চাইলেও নিজের রঙ বদলাতে পারে না। বংশ গোত্র কোনোটাই সে পাল্টাতে পারে না। তাই এগুলোকে যদি আমরা আল্লাহর ইচ্ছা অনুযায়ী শুধু পরিচিতি পর্যায়েই সীমাবদ্ধ রাখি, তা হলে পৃথিবীতে কোনো সমস্যা, দ্বন্দ্ব, হানাহানি দেখা দেয় না। পরিচিতির এই পর্যায় পর্যন্ত ভাষাকে সীমাবদ্ধ রাখলে এর জন্যে কোনো পক্ষেরই কোনো বাড়াবাড়ি করার দরকার হবে না। কারো উপর যেমন কোনো ভাষা চাপিয়ে দেয়া যায় না, তেমনি জাতীয়তা বাদের অন্ধত্ব ও উগ্রভাবে প্রভাবান্বিত হয়ে পৃথিবীর অন্য ভাষার প্রতি অনীহা, অবজ্ঞা, অবহেলাও করা কারো উচিত নয়। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে সুমতি দিন।
আমরা যে ভাষায় কথা বলি, এটা আমাদের ম য়ের ভাষা, এই ভাষা আল্লাহ তায়ালার মহান দান। অন্যের সাথে ঝগড়া ঝাটি, মারামারি করে আমরা এই মহান দানের অবমূল্যায়ন করবো না। যতো তাড়াতাড়ি আমরা আমাদের ভাষাকে বিশ্ব দরবারে পৌঁছাতে পারি, ততোই আমাদের ভাষা দ্রুত বিশ্বায়ন হবে। আমাদের প্রিয় মাতৃভাষা বিশ্ব সভায় যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা পাবে।
বছরের একটি দিন খালি পায়ে হেঁটে বর্নিল সাজ সজ্জার মাধ্যমে এ কাজটি অর্জিত হবে না। আজ যদি আমরা সবাই মিলে বিশ্বের সম্ভাব্য জ্ঞান ভাণ্ডারকে আমাদের ভাষায় ট্রান্সফার করতে পারি- নিজের ভাষায় যাবতীয় জ্ঞানের প্রবেশ ও আনাগোনাকে সুনিশ্চিত করতে পারি, একমাত্র তাহলেই আমাদের ভাষা বিশ্ব স্বীকৃতি পাবে। যে দেশে তথ্য প্রযুক্তির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শাখা ও বিভাগের কোনো অরিজিনাল ওয়ার্কই আমাদের হাতে নেই। নেই হাজার হাজার বই পুস্তকের কোন অনুবাদ। সেখানে এই ভাষার জন্যে বছরে বছরে অনুষ্ঠান সর্বস্ব কিছু কাজ করে আমরা ভাষার আসর চরিত্রে বিরাট রকমের পরিবর্তন আনতে পারবো না। আমরা আমাদের ভাষার জন্যে কতোটুকু কাজ অতীতে করেছি, কতোটুকু কাজ বর্তমানে করছি, আর ভবিষ্যতে কতোটুকু করবো, এর যথার্থ একটা আত্মসমালোচনা আমাদের সকলের প্রয়োজন।

হাফেজ মুনির উদ্দীন আহমদ

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY