সম্পাদকীয়

0
13

দেশে দেশে বাণিজ্য মেলা বসে- বসে আমাদের দেশেও। বাণিজ্য মেলায় দোকানদাররা নানা পণ্যদ্রব্য বিক্রি করে- দোকানী, ক্রেতা বিক্রেতা সবাই সেখানে একই উদ্দেশ্য নিয়ে আসে, আর সে উদ্দেশ্য হচ্ছে- নিত্য নতুন ব্রান্ডের জিনিস পত্রের কেনা বেচা। এই কেনা বেচার দৃষ্টিতে দেখতে গেলে বই মেলা মোটেই ব্যাতিক্রম কিছু নয়। এখানেও হাজার হাজার মানুষ বই বেচা কেনার জন্যে আসে।
অধিকাংশ মানুষই এখানে ক্রেতা। সামান্য কিছু লোকই হচ্ছে বিক্রেতা। এর মধ্যে আবার কিছু আছেন যারা সারা জীবন অন্যের বই ছাপেন, অন্যের বই বিক্রি করেন। এরা হচ্ছেন প্রকাশক। জানা কথাই- এই মেলা চত্বরে এদের দাপটই থাকে বেশী। এরা গোটা মেলাকে দাবড়ে বেড়ান। সাধারণ মানুষরা এদের প্রকাশ করা বই পুস্তক ইচ্ছায় হোক, অনিচ্ছায় হোক কেনে পড়ে- কিনতে বাধ্য হয়।
প্রতি বছরই আমাদের দেশে বই মেলা হয়, রাজধানী শহরের বিশাল এলাকা জুড়ে মেলার রমরমা কাজ কারবার চলে এক মাস ধরে। এ কারবারের সাথে জড়িত লক্ষ লক্ষ মানুষ নানা ভাবে এ মেলার দ্বারা উপকৃত হয়। প্রতি বছর এ মেলায় তিন চার হাজার নতুন বই আসে- বালক বালিকা, কিশোর কিশোরী, যুবক যুবতী, বৃদ্ধ বৃদ্ধা সবাই এসব বই কেনে, কিন্তু নিজের কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে কোন্ বইটি তিনি কিনে আনলেন, নানা ব্যস্ততায় তার দিকে তাকানোর সময়ও তার হয়নি।
এই বইগুলো এ জাতির নতুন প্রজন্মকে কতোটুকু জীবনের কথা বলে- জীবনের মূল্যবোধের কথা বলে- ‘খাও দাও ফূর্তি করো’ এই বস্তুবাদী দর্শনের ধ্বংসকারীতার কথা বলে- তাও দেখার সময় তাদের নেই। তারা শুধু নতুন বই কিনেই খুশী হন।
মনে রাখতে হবে, একটি ভালো বই যেমন একটি জাতি গড়ে, তেমনি একটি খারাপ বই একটি জাতিকে ধ্বংসও করে দেয়। এখন থেকে একটি বই কেনার আগে তার বইয়ের রঙিন মোড়কের ভেতরটাও আমরা একবার দেখে নেবো। এমন যেন না হয় যে, নিজের অজান্তে নিজেই নতুন প্রজন্মের হাতে এমন বিষ তুলে দিচ্ছি, যা তাদের বর্তমান ভবিষ্যত সবই পুড়ে ছারখার করে দেবে। সময় থাকতে সাবধান না হলে একদিন সবাইকে পস্তাতে হবে।

হাফেজ মুনির উদ্দীন আহমদ

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY