সম্পাদকীয়

0
49

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

পৃথিবীর আনাচে কানাচে বই মেলা হয়, বই ভালো হোক, খারাপ হোক তার প্রচার প্রসার ও প্রমোশনের জন্যে বই মেলার এই কালচার সারা দুনিয়াতেই আছে। এই মাত্র কয়েক মাস আগে ফ্রাঙ্কফুটে বিশ্বের বৃহত্তম বই মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো, তারও কিছু আগে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে আরেকটি বড়ো বই মেলা অনুষ্ঠিত হলো। দিল্লীতেও বড়ো আকারের মেলা বসলো- চললো অনেক দিন। কলকাতায়ও বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম বই মেলা হয়ে গেলো মাত্র কয়েক দিন আগে- মিসর থেকে যখন বন্ধু বান্ধবরা কায়রো বই মেলার ছবি ও নানা ফুটেজ পাঠালো- তখন জানলাম সেখানেও বড়ো বই মেলা হয়েছে।
আগামী ২ সপ্তাহর মধ্যে লন্ডনেও একটি বড়ো বই মেলা বসবে। শহরের অভিজাত সাংস্কৃতিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র অলিম্পিয়াতে, বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও ফেব্রুয়ারী মাস এলে মাসব্যাপী বড়ো আকারের বই মেলা বসে। অবশ্য পৃথিবীর অন্য সবকয়টি বই মেলার সাথে ঢাকার বই মেলার কিছু চারিত্রিক তফাৎ আছে, যা যে কোনো বই পাঠকেরই মনে নানা খটকার সৃষ্টি করে। প্রথম বিষয়টি হচ্ছে- এর বহুমাত্রিক রাজনীতিকরণ, পৃথিবীর যতোগুলো মেলার কথা আমি আপনাকে বলেছি এবং যেগুলোর কথা বলতে পারিনি- তার কোনোটাই সে দেশের কোনো রাজনীতিবিদ কিংবা প্রধানমন্ত্রী বিরোধীদলীয় প্রধানরা উদ্বোধন করেন না। আমার বিশ্বাস সেসব দেশের বই মেলার খবর তাদের দেশের মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীরা জানেনও না। আরেকটি বড়ো বিষয় হচ্ছে দুনিয়ার অন্যান্য দেশের বই মেলাগুলোতে বইর মতোই সার্বজনীন একটি সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারের প্রভাব থাকে। কিন্তু এখানকার বই মেলা দেখলে মনে হয়- এ দেশে বৃহত্তম জনোগোষ্ঠীর জীবনাদর্শ ও তাদের বিশাল সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারের বিরুদ্ধে এক ধরনের ঘৃণা ও ক্ষোভ প্রকাশের জন্যেই যেন বই মেলার আয়োজন করা হয়- বিষয়টি মেলায় আগত লক্ষ লক্ষ মানুষদেরই নয়, সবার দৃষ্টিতেই ধরা পড়ে।
বই’র দেশ জাতি বর্ণ ভাষা ও ভৌগলিক এলাকা থাকে না, বইকে এসব হীন মন মানসিকতা থেকে মুক্ত রাখতে পারলেই তা হয়তো আরো বড়ো আবেদন রাখতে পারবে।

হাফেজ মুনির উদ্দীন আহমদ

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY