উত্তম আচরণের আদর্শ নমুনা

0
118

 

সমাজ জীবনে মানুষকে অনেক সময় ঝগড়াঝাঁটিতে জড়িয়ে পড়তে হয়। ঝগড়াঝাঁটি করা ভাল কাজ নয়, তবুও মানবিক দূবলতার কারণে আমাদের দ্বারা অনেক সময় এ কাজটি হয়ে থাকে। তবে সাবধান থাকতে হবে ঝগড়াঝাঁটিতে জড়িয়ে পড়লে আমরা যেন কোন খারাপ শব্দ মুখে উচ্চারণ না করি।
রসুল (স.) ফরমান, “কিয়ামতের দিনে মুমিনদের পাল্লায় যে ভারী বস্তুটি রাখা হবে তা হচ্ছে চরিত্র। আল্লাহ অশ্লীল ভাষী বাচালকে ঘৃণা করেন।”

রসুল (স.) এর উপদেশ বাণী শুধু উপদেশের খাতিরেই ছিল না। তিনি অপরকে যে উপদেশ দিতেন তা নিজে আগে উত্তমরূপে আমল করতেন। বহু সংখ্যক হাদীসের বর্ণনায় দেখা যায়, এক দিন কিছু ইহুদী নবী করীম (স.) এর পাক দরবারে হাজির হল। তারা রসুলকে সম্বোধন করে বলল, “আসসামু আলাইকা ইয়া আবুল কাশেম।” তারা ইচ্ছা করে “আসসাম” শব্দটি এমনভাবে উচ্চারণ করল যে সাধারণ ভাবে যারা শুনেছিল তারা মনে করেছিল যে ওরা রসুলকে সালাম দিয়েছে। কিন্তু ব্যাপারটি ছিল ভিন্ন। তারা “সালাম” না বলে বলেছিল “সাম”- যার অর্থ তোমার মরণ হোক।

নবী করীম (স.) ওদের এমন অশোভনীয় আচরণে রেগে গেলেন না। হুযুর (স.) জওয়াবে বললেন, “ওয়া আলাইকুম।”

হযরত আয়েশা (রা) হুযুরের কাছেই ছিলেন। তিনি ইহুদীদের এমন অভদ্র আচরণে চুপ থাকতে পারলেন না। তিনি ইহুদীদেরকে লক্ষ্য করে বললেন, “ তোদের মরণ হোক। তোদের উপর পড়ুক খোদার অভিশাপ।”

নবী করীম (স.) হযরত আয়েশাকে লক্ষ্য করে বললেন, “হে আয়েশা, মুখ খারাপ করা ও খারাপ কথা বলা আল্লাহ তায়ালা পছন্দ করেন না।”

হযরত আয়েশা (রা) বললেন, “হে রসুল (স.), আপনি কি শুনতে পেয়েছেন এসব লোকেরা কি খারাপ কথা বলেছে?”

নবী (সা.) বললেন, “তুমি কি শোননি আমি ওদেরকে কী জওয়াব দিয়েছি? আমি বলেছি-তোমাদের উপরেও…”

আমরা দেখতে পেলাম রসুল (স.) কত মার্জিত ভাবে ওসব মুর্খদের সাথে ঝগড়ায় না জড়িয়ে সুন্দরভাবে উত্তম জওয়াব দিলেন। আসলে মুর্খদের কে সযত্নে এড়িয়ে চলাই মুমিনদের বৈশিষ্ট্য। মহান আল্লাহ বলেন, “ক্ষমাশীলতা অবলম্বন কর, সৎকাজের আদেশ দান কর এবং মুর্খ লোকদের এড়িয়ে চল।”

মুমিন কখন অশ্লীল ও কটু ভাষী হতে পারেনা। মুমিন কখনও অপবাদ ও অভিসম্পাত কারী হতে পারে না। সমাজে সাধারণভাবে একটা ধারণা প্রচলিত আছে যে, নারীরা সহজে ঝগড়ায় লিপ্ত হয়ে পড়ে। যদি নারী সমাজ এঘটনা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে তবে তারা পরিণত হবে উত্তম ও আদর্শ নারীতে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY