সম্পাদকীয়

0
45

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
সাহিত্যের একটি বড়ো উপাদান হচ্ছে বই। এই বই নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই আমরা কথা বলেছি। এর বড়ো একটি কারণ ছিলো জানুয়ারী ফেব্রুয়ারী মাসে দুনিয়ায় বাংলা সাহিত্যের ২টি বড়ো মেলা অনুষ্ঠিত হয়। একটি ঢাকায়, আরেকটি কলকাতায়। একই ভাষার বই পুস্তক নিয়ে অনুষ্ঠিত হলেও এ দুটো মেলার সাংগঠনিক কাঠামো ও রাজনৈতিক চরিত্রের মাঝে যে অনেক তফাৎ রয়েছে সে কথা আমরা আগে বলেছি। এই রাজনৈতিক সাংগঠনিক চরিত্রের কারণে কিভাবে আমাদের ভাষায় প্রকাশিত হাজার হাজার ভালো বই মেলায় প্রদর্শীত হবার সুযোগ পায় না- তাও আমরা কিছুটা বলেছি। এবার মেলা উপলক্ষে প্রকাশিত বই পুস্তকের সংখ্যা ও তার মান নিয়ে সামান্য কয়টি কথা নিবেদন করছি। কোনো একটি নির্দিষ্ট সময়ের ভেতর প্রকাশ করার বাধ্যবাধকতার কারণে প্রায়ই তার মান ধরে রাখা যায় না। তাছাড়া মেলার শেষে প্রকাশিত বইর সংখ্যা দিয়ে যখন মেলার সফলতার বিচার করা হয়, তখন জানা কথাই প্রকাশিত বইর মান বজায় রাখা যায় না। এমনি পরিস্থিতিতে সাহিত্য নিছক একটি কমার্শিয়াল পণ্যে পরিণত হয়ে যায়। লেখক ও প্রকাশকদের পক্ষে ভালো বই মানসম্মত বই প্রকাশ করা তখন অনেকটাই অসম্ভব হয়ে পড়ে।
সাম্প্রতিক সময়গুলোতে আমাদের সাহিত্যের অংগনে এটাই বারবার ঘটছে।
সাহিত্যকে সস্তা বাজারী পণ্য বানাবার এসব হীন মানসিকতার কারণে আমাদের এখানে হাজার হাজার বই বেরোয়- পাঠকরাও এসব নিম্নমানের বই পড়ে। আর ভাবে জ্ঞানের জগত আমরা বুঝি আসলেই জয় করে ফেলেছি। আমরা বিশ্বাস করি হাজার হাজার নিম্নমানের ক্ষেত্র বিশেষে জাতীয় চরিত্র বিধ্বংসী বই পুস্তকে বাজার ছেয়ে দেয়ার বদলে ১০টি ভালো বই বের করার মূল্য অনেক বেশী। সাহিত্যকে ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক স্বার্থোদ্ধারের শিকার না বানিয়ে জাতির সামনে- বিশেষ করে আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে এমন সব বই পুস্তক তুলে দেয়ার দরকার যা তাদের বাজারের পণ্য না বানিয়ে সত্যিকার অর্থেই মানুষ বানাবে। এ কারণেই আমরা বলি- ‘গাদায় গাদায় বই না ছাপিয়ে হাজার হাজার বই’র সংখ্যা না গুনে ভালো বই প্রকাশ করা, ভালো বই বিপনন বিতরণ করাই হচ্ছে সময়ের বড়ো প্রয়োজন। যাদের জন্যে এ নিবেদন তাদের যথাসময়ে বোধোদয় হোক- এই কামনা করি।

হাফেজ মুনির উদ্দীন আহমদ

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY