সম্পাদকীয়

0
65

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
চলতি সপ্তাহের ৮ তারিখকে জাতিসংঘ কয়েক বছর থেকেই বিশ্ব নারী দিবস হিসেবে পালন করে আসছে, যারা এ দিবসটি পালনের স্বপ্ন দেখেছেন তাদের কারো সাথেই আমাদের দেখা হয়নি, তাই সরাসরি তাদের মুখ থেকে তাদের এ স্বপ্নের পেছনের কথা নিয়ে কিছু শোনার সৌভাগ্যও আমাদের হয়নি তবে তাদের সেই স্বপ্ন প্যানেলের লেখকজনদের যেসব বিচ্ছিন্ন কথাবার্তা বিভিন্ন যোগাযোগ মাধ্যমে আমাদের দেখার ও শোনার সুযোগ হয়েছে, তার থেকে এ দিবসের মাহাত্ম্য সম্পর্কে যেটুকু কথা আমরা জানতে পেরেছি তার সারাংশ হচ্ছে, এ দিবসটি পালনের মাধ্যমে তারা বিশ্বের সকল নরনারীর কাছে এ কথাটি পৌঁছে দিতে চান যে, পরিবার সমাজ ও রাষ্ট্রের সর্বত্র একজন নর ও একজন নারী সমান। এর কোথাও তাদের অধিকারে কোনো অসমতা নেই, দৈহিক ও মানসিক প্রয়োজনে এদের মধ্যে কোনো তফাত নেই, কাজকর্মে চাকরী বাকরী, ব্যাবসায় বাণিজ্যে এদের একজনকে কখনো আরেকজনের ওপর প্রাধান্য দেয়া যাবে না। সহায় সম্পত্তির ভোগ ও উত্তরাধিকারেও এরা উভয়ে সমান।
বিশ্ব সংস্থার এ ঘোষণার পর প্রায় তিন দশক পার হয়ে গেলো, ইতিমধ্যে এ ঘোষণা বাস্তবায়নের ওপর আলোচনা পর্যালোচনার জন্যে কয়েক বছর পর বিশ্বেও বড়ো বড়ো শহরে জমকালো আয়োজনের মাধ্যমে নারী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ ক্ষুদ্র পরিসরে অতো বড়ো বড়ো সম্মেলনের সফলতা ব্যর্থতা আলোচনা করা কোনো মতেই আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়- আর সত্যিকারার্থে অতো বড়ো বড়ো মাথা থেকে বের হওয়া অতো বড়ো বড়ো গবেষণা পত্র গুলোর ভাব ভাষা ও মানব সন্তানের ওপর এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব নিয়ে কথা বলার যোগ্যতাও হয়তো আমাদের নেই। আমরা সে ধরনের কোনো প্রয়াস চালানোর জন্যেও এ ক্ষুদ্র লেখাটা শুরু করিনি।
আমরা সকলেই জানি, জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিগত সাত দশকে তারা যতোগুলো সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যতোগুলো প্রস্তাব পাশ করেছে, যতোগুলো প্রস্তাবে তারা ‘ভেটো’ দিয়েছে, তার খতিয়ান পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে, নিউইয়র্ক শহরের এ বিশ্ব সংস্থাটির মাল্টিস্টোরিড বিল্ডিংটা সত্তর বছরের নির্মম ব্যর্থতা, অপমান ও মানবীয় অধিকার লুণ্ঠন ও বঞ্চনার এক নিরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। প্রশ্ন হচ্ছে যে প্রতিষ্ঠানের ইতিহাসে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার অপচয় ছাড়া কোনো একটি সফলতাও নেইÑ তাদের মাথায় নারী ইস্যু নিয়ে ঘোষনা পত্র জারি করে হাজার বছরের সভ্যতা সংস্কৃতির মূলে কুঠারাঘাত করার প্রয়োজনীয়তার কথাটা হঠাৎ কেন জেগে উঠলো?
আল্লাহর যমীনের সামান্যতম একটি বিরোধও যারা সমাধান করতে পারেনি, তারা কিভাবে দুনিয়ার সাড়ে তিন বিলিয়ন নারীর কল্যাণ সাধনের জন্যে এ মহান কাজটি সম্পাদন করলেন, বিষয়টি নিয়ে আমাদের সকলেরই ভেবে দেখা দরকার।

-হাফেজ মুনির উদ্দীন আহমদ

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY