পবিত্রতা অর্জন ও তাথেকে পরিএানের উপায়।

0
135

নাজাসাত: অপবিত্র জিনিস।শরীর থেকে যেসব জিনিস বের হওয়ার কারণে শরীর নাপাক হয়ে যায় অথবা যেসব দ্রব্য কোন পাক বস্তুতে লাগলে তা নাপাক হয়ে যায়, তাকে ‘নাজাসাত’ (নাপাকী) বা অপবিত্র জিনিস বলা হয়।
নাজাসাত দুই প্রকার: যথা-
১.    নাজাসাতে হাকিকী এবং
২.    নাজাসাতে হুকমী।

১.নাজাসাতে হাকিকী
যাহা স্পর্শ করা যায় এবং দৃষ্টিগোচর হয়, তাকে নাজাসাতে হাকিকী বলে। যথা- প্রস্রাব, পায়খানা, রক্ত, বীর্য, মদ প্রভৃতি। পাক পানি দ্বারা এসব তালরূপে পরিষ্কার করলেই পাক পবিত্র হয়ে যায়।
২. নাজাসাতে হুকমী
যা স্পর্শ করা যায় না এবং দৃষ্টিগোচরও হয় না তাকে নাজাসাতে হুকমী বলে। যথাঃ শরীর থেকে বায়ু নির্গত হওয়া, অযু ভঙ্গ হওয়া ও গোসল ফরয হওয়া প্রভৃতি। অযু ও গোসল করা ছাড়া এগুলো থেকে পাক হওয়া যায় না। নাজাসাতে হুকমী দুই প্রকার। যথা-

(ক) নাজাসাতে গলীযা এবং
(খ) নাজাসাতে খফীফা।

(ক) নাজাসাতে গলীযাঃ
যে নাপাকী খুব গাঢ় তা নাজাসাতে গলীযা। হারাম জন্তু এবং মানুষের প্রস্রাব ও পায়খানা, গৃহপালিত গরু, মহিষ, ঘোড়া, ছাগল, ভেড়া, হাঁস ও মুরগী প্রভৃতির মল, মূত্র, বীর্য, মযী ও নির্গত রক্ত প্রভৃতি নাজাসাতে গলীযা। স্তন্যপায়ী সন্তানদের প্রস্রাব-পায়খননাও নাজাসাতে গলীযা।
নাজাসাতে গলীযা যদি শক্ত ও ঘন হয়; যথা- মল; তবে (সাড়ে চার) মাসা পর্যন্ত মাফ। যদি তা তরল ও হালকা হয়; যথা- প্রস্রাব ও মল, তবে প্রচলিত টাকার পরিমাণ অথবা হাতের তালুর গব্বর পরিমাণ পর্যন্ত মাফ হবে। অর্থাৎ উক্ত অবস্থায় যদি নামায পড়ে ফেলে তবে নামায শুদ্ধ হবে; তবে মাকরূহে তাহরীমি হবে।

(খ) নাজাসাতে খফীফাঃ
যে নাপাকী কিছু হালকা  তা নাজাসাতে খলীফা। সকল প্রকার হালকা ও হারাম পাখির মল নাজাসাতে খফীফা। নাজাসাতে খফীফা কোন বন্ত্রে বা শরীরে লাগলে শরীর বা বস্ত্রের যে অংশে লাগবে যদি উক্ত নাপাকী তার এক-চতুর্থাংশের চাইতে কম পরিমাণ স্থানে লেগে থাকে তবে তা মাফ কিন্তু যদি পূর্ণ এক-চতুর্থাংশ বা ততোধিক স্থানে লেগে থাকে তবে তা সহ সামায শুদ্ধ হবে না। নাজাসাতে খফীফা দুই প্রকার। যথা-

১.    নাজাসাতে হদসে আসগর  এবং
২.    নাজাসাতে হদসে আকবর।

১.নাজাসাতে হদসে আসগর-
যেসব নাপাকী শুধু অযু দ্বারা দূর হয়ে যায়, তাকে নাজাসাতে হদসে আসগর বলে। যথা- বায়ু নির্গত হওয়ার পর অযু দ্বারা শরীর পাক করা।

২. নাজাসাতে হদসে আকবর-

যা দূর করতে গোসলের প্রয়োজন হয়, একে নাজাসাতে হদসে আকবর বলা হয়। যথা- কনমভাবে শুক্রপাত হলে কিংবা মেয়েদের হায়েয ও নেফাস শেষ হলে গোসল দ্বারা শরীর পাক করা। মাছের রক্ত, মশা, মাছি ও ছারপোকার (ভুক্ত) রক্ত পাক। প্রস্রাবের ছিঁটা সুচাগ্রভাগ পরিমাণ হল কোন আপকিত্ত নেই। তবে এর চাইতে বেশি হলে ধৌত করতে হবে; নচেৎ নমায শুদ্ধ হবে না। যেসব হালাল পাখি শূন্যে মল ত্যাগ করে এদের মল পাক। কুকুরের লালা এবং শূকরের যেকোন বস্তু সম্পূর্ণ নাপাক।

নাপাক থেকে পাক হওয়ার উপায়ঃ
জমাট নাপাকঃ
জমাট নাপাক থেকে পাক হওয়ার জন্য যথাঃ পায়খানা ও রক্ত লাগলে তা তিনবার ধৌত করতে হবে। যদি তিনবারেও নাপাকি দূর না হয় তবে ভালরূপে দূর না হওয়া পর্যন্ত ধৌত করতে হবে।
তরল নাপাকঃ
পেশাব বা কোন নাপাক তরল পদার্থ কাপড়ে লাগলে তিন বার  উত্তমরূপে নিংড়িয়ে ধৌত করতে হবে। কিন্তু শেষ বারে অনপন সাধ্যানুযায়ী জোরে নিংড়াতে হবে; নচেৎ কাপড় পাক হবে না। শরীর বা কাপড়ে যেকোন নাপাক দ্রব্য লাগলে তা না ধুলে পাক হবে না। আয়না, চাকু, ছুরি, লোহা, কাঁসা এবং স্বর্ণ ও রৌপ্যের অলঙ্কার প্রভৃতি নাপাক হয়ে গেলে উত্তমরূপে ঘঁষে-মেঝে ধুলে পাক হবে। বড় বিছানার এক কোণা নাপাক হলে বাকি সব পাক থাকলে পাক স্থানে দাঁড়িয়ে নামায পড়া জায়েয হবে। গোবর বা নাপাক দ্রব্য জমিন লেপন করলে তা নাপাক হয়ে যাবে। এর উপর কোন পাক বিছানা না বিছিয়ে নামায পড়লে তা জায়েয হবে না।

পানির বিবরণঃ
বিশুদ্ধ পানির কোন বর্ণ, গন্ধ ও স্বাদ নেই। সমুদ্র, নদী, খাল-বিল, ঝর্ণা, পুকুর, কূপ, মেঘ, বৃষ্টি ও বরফ ইত্যাদির পানি পাক। তদ্ধারা নাপাকী দূর করা এবং অযু ও গোসলে ব্যবহার করা জায়েয। যেকোন বদ্ধ পানি বা গর্তের পানি যার পরিধি (দৈর্ঘ্য-প্রস্থ) মিলিয়ে যদি ৪০ (চল্লিশ) হাতের কম হয় তবে অল্প হোক বা অধিক হোক নাপাকী পড়া মাত্র তা নাপাক হয়ে যাবে। ধূলা-বালি বা কাদা মিশ্রিত ঘোলাটে পানি, গরম পানি, সাবান বা জাফরান মিশ্রিত ঘোলাটে পানি দ্বারা অযু ও গোসল জায়েয হবে। কিন্তু যদি সাবান ও জাফরানের রঙ স্পষ্টভাবে দৃষ্টিগোচর হয় তবে তদ্ধারা গোসল করা জায়েয হবে না। মাছ, ব্যাঙ, কাকড়া ও যেসব কফট-পতঙ্গ পানিতে জন্মে অথবা মশা-মাছি প্রভতি যাদের দেহে রক্ত হয় না তা পানিতে মরে পঁচে গেলেও পানি নাপাক হবে না।
গূকর ও কুকুর ছাড়া মৃত জন্তুর পশম, শিং, হাড়, দাঁত, রগ, খুর, নখ ও চক্ষু প্রভৃতি যদি চর্বিহীন হয় তবে পাক। এগুলো পানিতে পড়লে কোন ক্ষতি নেই। কিন্তু যদি এগুলোর উররে বা মধ্যে চর্বি থাকে তবে পানি নাপাক হয়ে যাবে।

মল-মূত্র ত্যাগের নিয়মঃ
মল-মূত্র ত্যাগ করতে হলে প্রস্রাবের জন্য একটি এবং পায়খানার জন্য তিন বা ততোধিক কুলূখ সঙ্গে নিয়ে পায়খানা ও প্রস্রাবখানায় যেতে হবে। উভয় স্থানে প্রথমে বাম পা বাড়িয়ে প্রবেশ করতে হবে এবং বাম পায়ের উপর ভর দিয়ে উত্তর বা দক্ষিণমুখী হয়ে বসতে হবে। কখনো কেবলামুখী হয়ে অথবা কেবলাকে পিছন করে বসতে নেই; এটি গুনাহ।

পায়খানায় ঢুকার দু’আঃ
আরবী-
উচ্চারণ- আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযুবিকা মিনাল খুবছি ওয়াল খাবাইছ।
অর্থ- হে আল্লাহ! নাপাক পুরুষ-জ্বিন ও নাপাক স্ত্রী-জ্বিন (অর্থাৎ সমস্ত শয়তান) থেকে আমি তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
টুপি বা কোন কাপড় মাথায় দিয়ে পায়খানায় যেতে হবে। খালি মাথায় যাওয়া দূষণীয়।

ইস্তেঞ্জাঃ
পায়খানা ও প্রস্রাবের পর কুলূখ ব্যবহার করে তারপর পানি দ্বারা শৌচকার্য সমাধা করতে হবে। এ কাজকে ইস্তেঞ্জা বলা হয়। ইস্তেঞ্জা সুন্নতে মুআক্কাদাহ।

কুলূখ ব্যবহারের নিয়মঃ
মলত্যাগের পর পাক শুকনা মাটির ঢিলা, পাথর খণ্ড, ছেঁড়া কাপড়, তুলা ও শুকনা কাঠের টুকরা প্রভৃতি দিয়ে কুলূখ নেয়া জায়েয আছে। হাড়, ইট, কয়লা, গোবর, কাগজ, বাসন-কোসন ভাঙ্গা চাড়া, কাঁচা ঘাস, খাবার বস্তু প্রভৃতি দ্বারা কুলূখ নেয়া নিষেধ। কুলূখের সংখ্যা ও কুলূখ ব্যবহারের কোন বিধিবদ্ধ নিয়ম নেই। একটি দ্বারা হোক বা একাধিক দ্বারা হোক এবং যেদিক দিয়েই প্রথমে আরম্ভ করা হোক না কেন, গুহ্যদ্বার মুছে পবিত্রতা লাভ করাই কুলূখ নেয়ার একমাত্র উদ্দেশ্য। তবে মেয়েদের জন্য প্রস্রাবের পর ঢিলা-কুলূখ ব্যবহার করার আকশ্যক হয় না।

শৌচকার্যঃ
কুলূখ ব্যবহার করার পর প্রচুর পরিমাণ পানি দ্বারা শৌচকার্য সম্পাদন করতে হবে। বাম হাতের দুই বা তিন আঙ্গুলের পেট দ্বারা শৌচকার্য করতে হয়। তারপর উত্তমরূপে হাত ধুয়ে ডান পা আগে বাড়িরে পায়খান/প্রস্রাবখানা থেকে বের হয়ে নিুলিখিত দু’আ পাঠ করিতে হবে।

পায়খানা থেকে বের হওয়ার দু’আঃ
আরবী-
উচ্চারণ: গুফরানাকা আলহামদু লিল্লাহিল্লাযী আযহাবা আন্নিল আযা ওয়া আ’ফানী
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে ক্ষমা চাইছি। শোকর সেই আল্লাহর যিনি আমার বিতর থেকে অপবিত্র কষ্টদায়ক সব বস্তু দূর করেছেন এবং আমাকে শান্তি প্রদান করেছেন।

লোকজনের সম্মুখে ‘ছতর’ খুলে শৌচকার্য জায়েয নেই বরং হারাম।

পুরুষ ও নারীর সতর:
পুরুষদের নাভী  থেকে হাঁটু পর্যন্ত এবং স্ত্রীলোকদের হাতের কব্জা, পায়ের পাতা ও মুখমণ্ডল ছাড়া পা থেকে মাথা পযর্ন্ত (চুলসহ) সমস্ত শরীর সতরের অন্তর্ভুকত।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY