যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তার রসূলের নাফরমানী করেছে যে ধ্বংস হয়ে গেছে।

0
39

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহ তায়ালার জন্যে। আমরা তার সাহায্যের মুখাপেক্ষী, আমরা তারই কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি, আমরা আমাদের বদ আমল এবং উদ্ধত্য থেকে তার আশ্রয় চাই, তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আল্লাহ তায়ালা যাদের পথ দেখান তাকে কেউ পথপ্রষ্ট করতে পারে না। আর যাকে তিনি তার হেদায়াতে থেকে দূরে সরিয়ে দেন তাকে কেউ হেদায়াত করতে পারে না। নিসন্দেহে আল্লাহ তায়ালাই একমাএ্র এবাদাতের উপযুক্ত। অনুরূপ আমরা অন্তর থেকে ঘোষণা করছি- হযরত মুহাম্মদ (স.) তার বান্দাহ ও তারই নির্বাচিত নবী। যাকে আল্লাহ তায়ালা সত্য দ্বীন দিয়ে নিজের নবী করে পাঠিয়েছেন। যিনি সুসংবাদ শোনান এবং সতর্ক করেন। যাকে কেয়ামতের নিকটবর্তী সময়ে পাঠানো হয়েছে।

সত্যিকার অর্থে যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তার রসূলকে মেনে তার আনুগত্যে লিপ্ত রয়েছে, সে ব্যক্তি সফলতা অর্জন করে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তার রসূলের নাফরমানী করেছে যে ধ্বংস হয়ে গেছে।

আমরা আমাদের লালন পালনকারী মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করছি। তিনি যেন আমাদেরকে তার এবং তার রসূলের আনুগত্যকারীদের অন্তর্ভুক্ত করেন। তিনি যে কাজে সন্তুষ্ট সে কাজ আমাদের দিয়ে করিয়ে নেন এবং তার অসন্তুষ্টি ও নারাজিপূর্ণ কাজ থেকে আমাদের রক্ষা করুন। আমরা সবাই তার সাহায্যেই জীবন যাপন করি। আমরা তার গোলাম এবং তার রাজত্বের অধীনে রয়েছি।

ভাইয়েরা আমার! এই মাত্র যে খোতবা আমি আপনাদের উদ্দেশে পেশ করবো। এটি রসূল (স.)-এর একটি ঐতিহাসিক খোতবা। যা আবু দাউদ শরীফেরও বিদ্যমান আছে। আপনারা এর অনুবাদ শুনলেন। এরপর আমি সূরা তাবারাকার কিছু আয়াত তেলাওয়াত করেছি যাতে আল্লাহ তায়ালা তাঁর মাহাÍ, শ্রেষ্ঠত্ব এবং রাজত্বির প্রকাশ করেছেন।

হযরত উবাই ইবনে কা’ব (রা.) থেকে বর্ণিত, রসূল (স.) জুমআর দিন মিম্বরে দাঁড়িয়ে খোতবা প্রদানকালে সূরা তাবারাকা’র কয়েকখানা আয়াত তেলাওয়াত করেন এবং আল্লাহ তায়ালার অনুগ্রহ, তার পবিত্রতা বয়ান করেন এবং লোকদের নসিহত করেন। ঐ খোতবা হযরত আবু যর শুনে হযরত উবাই বিন কা’ব (রা.) টোকা মেরে জিজ্ঞেস করেন এই আয়াত কবে কখন নাযিল হয়েছে? আমি তো আজই মাত্র শুনলাম! তিনি তাকে চুপ থাকার জন্যে ইশারা করলেন এবং মুখে কোনো কথাই  বললেন না। নামায শেষে হযরত আবু যর (রা.) অভিযোগ করে বললেন, তুমি আমার প্রশ্নের জবাব দিলে না কেন? তখন তিনি বললেন, আজকের নামাযে যে পরিভাষা তুমি শুনেছো এরচেয়ে বেশী কিছু আর পাওয়া যায়নি। একথা শুনে হযরত আবু যর সরাসরি রসূল (স.)-এর খেদমতে হাজির হয়ে পুরো ঘটনার কথা জানালেন। এরপর রসূল (স.) বললেন উবাই সত্যই বলেছে।

এর থেকে প্রমাণ হলো যে, খতীবের খোতবা দানকালে কোনো কথা বলা হারাম বরং জুমআর সাওয়াব নষ্ট হয়ে যায়। অন্য রেওয়ায়াতে রয়েছে, এরপর হুজুর (স.) এই বয়ানও করেন- অর্থাৎ ইমাম যখন খোতবা দিতে শুরু করেন তখন তুমি চুপ করে থাকো ইমামের খোতবা শেষ হওয়া পর্যন্ত।

সহীহ ইবনে খোযায়মাতে রয়েছে, হযরত আবু যর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, জুমআর দিন রসূল (স.) খোতবা পড়তেছিলেন, আমি হযরত উবাই ইবনে কাবের কাছে বসে পড়েছি, এ সময় রসূল (স.) সূরা বারাআর আয়াত পড়ছিলেন। এদিকে আমি উবাইকে প্রশ্ন করলাম। এ সূরা কবে নাযিল হয়েছে? তিনি আমার দিকে চোখ রাঙিয়ে তাকালেন এবং কোনো উত্তর করলেন না। কিছুক্ষণ পর আমি আবার প্রশ্ন করলাম, এবারও আগের মতো চোখ রাঙিয়ে কোনো কথা না বলে চুপ করে রইলেন। কিছুক্ষণ পর আমি অধৈর্য হয়ে পুনরায় আবার প্রশ্ন করলাম কিন্তু পূর্বের ন্যায় একই ব্যবহার করলেন এবং চুপ থাকলেন। নামায শেষে আমি তাকে তার এ কাজের জন্যে অভিযোগ করি। তিনি বললেন, বেশ আজকের নামাযে তো তুমি এমনি পরিস্থিতি হয়েছে যা তুমি করলে।

আমার মনের আকুতি নিবারণ করতে আমি সোজা নবী করীম (স.) এর খেদমতে চলে যাই এবং পুরো ঘটনা বর্ণনা করি। জবাবে রসূল (স.) বললেন- উবাই সত্য বলেছে।

সহীহ ইবনে হাব্বানে কাছাকাছি এমনি একটি ঘটনার বর্ণনা হযরত ইবনে মাসউদ (রা.) করেছেন। তিনি খোতবা চলাকালীন মসজিদে আসেন এবং হযরত উবাই ইবনে কাব এর কাছে গিয়ে বসেন এবং কিছু প্রশ্ন করলেন। যার জবাব না পেয়ে বিরক্ত হলেন। নামায শেষে আমি হযরত উবাইকে জিজ্ঞেস করলাম- আপনি কি আমার ওপর অসন্তুষ্ট? যার জন্যে আমার প্রশ্নের কোনো জবাবই দিলেন না। তিনি বললেন, শোনো- তুমি তো আজ জুমআ পড়োই নাই। বললাম এটা কেন? বললেন, কেননা হুজুর (স.) খোতবা দিচ্ছিলেন আর তুমি সেখানে কথা বলছো। একথা শুনেই ইবনে মাসউদ (রা.) রসূল (স.)-এর খেদমতে হাজির হয়ে ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেন। জবাবে রসূল (স.) বলরেন, উবাই সত্য বলেছে, উবাই সত্য বলেছে। তুমি তার কথা মেনে নাও।

হযরত আবু হোরায়রা এবং ইবনে ওমর (রা.) বলেছেন যে, আমরা মিম্বরে খোতবা দানকালে নবী (স.)-এর কাছ থেকে একথাও শুনেছি যে, তিনি বলেছেন- হয়ত লোকেরা জুমআতে হাজির না হওয়া থেকে বিরত থাকবে তা না হলে আল্লাহ তায়ালা তাদের অন্তরে মোহর মেরে দিবেন যাতে তারা একেবারে গাফেল হয়ে যায়।

হযরত আবদুল্লাহ বিন বুছর (রা.) বলেছেন, জুমআর দিনে যখন রসূল (স.) খোতবা দিচ্ছিলেন এ সময় এক লোক এসে লোকদের ঘাড়ের ওপর ডিঙ্গিয়ে সামনে আসা শুরু করে দিয়েছে। রসূল (স.) তাকে এ রকম করতে দেখে বললেন, বসে যাও, তুমি কষ্ট দিচ্ছো এবং দেরী করাচ্ছো। (আহমদ)

উক্ত হাদীস থেকে জানা গেলো যে, যেখানে জায়গা পাওয়া যায় সেখানেই  বসে যেতে হবে। লোকদের ডিঙ্গিয়ে লাইন ভেঙ্গে ভেঙ্গে সামনে বেড়ে যেয়ো না। এটা হারাম। একে তো দেরী করে এসেছে অপরদিকে অন্যদের কষ্ট দিচ্ছে বরং তিরমিযী শরীফের হাদীসে রয়েছে যে, এমন ব্যক্তি যেন জাহান্নামের ব্রীজের উপর উঠে চলছে। তাবারানীর এক রেওয়ায়াতে রয়েছে, নামায শেষ করে হুজুর (স.) তাকে জিজ্ঞেস করলো, আমাদের সাথে জুমা আদায় করতে তোমাকে কিসে বাধা দিয়েছো? উদ্দেশ্য এই ছিলো যে, তুমি যেহেতু লোকদের মাথার ওপর দিয়ে ডিঙ্গিয়ে সামনে অগ্রসর হচ্ছিলো তাতে তোমার জুমআর সাওয়াব চলে যচ্ছিলো। তুমি এমন কাজ কেন করছিলে? সে বললো, আমি চেয়েছিলাম এমন কাছাকাছি জায়গায় বসলে তাতে আপনার নজর আমার ওপর পড়ে। তিনি বললেন, আমি তো দেখলাম যে তুমি তাদের ঘাড়ের ওপর দিয়ে ডিঙ্গিয়ে চলছো এবং তাদের কষ্ট দিচ্ছো, শোনো! যে মুসলমানকে কষ্ট দেয়; সে যেন আমাকে কষ্ট দেয়। আর আমাকে কষ্ট দেয়া মানে আল্লাহকে কষ্ট দেয়া।

হযরত জাবের (রা.) বলেছেন, রসূল (স.) তাঁর প্রদত্ত এক খোতবায় বলেছেন, হে লোকেরা! আল্লাহর দিকে ফিরে যাও তোমার মৃত্যু আসার পূর্বে। মৃত্যুর পূর্বে তাওবা করে নাও। কোনো বিপদ এসে যাওয়ার আগে নেক কাজ করে নাও। সেই সম্পর্ক তোমার ও আল্লাহ ওয়ালার সাথে জুড়তে বেশী বেশী আল্লাহর যিকির করো। গোপনে গোপনে এবং প্রকাশ্যে দান সদকা করো। এতে তোমাদের রুজি রোজগারে বরকত হবে। তোমরা শত্র“র ওপর বিজয় লাভ করবে, প্রত্যেক ক্ষতি থেকে বাঁচতে পারবে। আল্লাহর যিকির ও  দান খয়রাতে এই উপকার হয়।

হে লোকেরা! তোমাদের ওপর আল্লাহ তায়ালা তোমাদের ওপর জুমআকে ফরজ করে দিয়েছেন। আমার এই স্থানে, আজকের দিনে, এই মাসে এবং এই বছরে। তা আজ থেকে দুনিয়া যতোদিন থাকবে ততোদিন পর্যন্ত ফরজ থাকবে। কেয়ামত পর্যন্ত এই ফরজ টিকে থাকবে। যে ব্যক্তি আমার জীবদ্দশায়, আমার মৃত্যুর পর ছেড়ে দেয়, ইমাম সে সময় ইনসাফকারী হোক কিংবা যালিম হোক, তাকে হাল্কা মনে করে ছেড়ে দেয় কিংবা বিরোধিতা করে, তার জন্যে আমার অভিশাপ। হে আল্লাহ! তার সকল কাজ দ্বিধানি¦ত করে দাও। তার অন্তরকে কখনো প্রশান্তি দিও না, আল্লাহ করুক তার কাজে কোনো বরকত না হয়। মনে রাখবে, এভাবে যারা জুমআর নামায ছেড়ে দিবে তার নামায কবুল হবে না। তার যাকাত নেই। তার কোনো হজ্জও নেই। তার কোনো রোযাও নেই। যতোক্ষণ না সে তাওবা করে, আল্লাহ তায়ালা তার কোনো নেকী গ্রহণযোগ্য হবে না। হাঁ, সাচ্চা মনে কেউ তাওবাকারীদের তাওবা আল্লাহ তায়ালা গ্রহণ করবেন।

সম্মানিত ভাইয়েরা আমার! অত্যন্ত আফসোসের বিষয় যে, ঐসব নামধারী মুসলমানের কাছে আজ জুমআর নামাযের কোনোই গুরুত্ব নেই। আল্লাহ রব্বুল আলামীনের এই সাধারণ মাহফিলে হাজিরা দিচ্ছো না। আমাকে তাই বলতে হচ্ছে এইসব লোক আল্লাহর নিমকহারাম নিকৃষ্টপ্রকৃত মানুষ। জুমআর গুরুত্ব সম্পর্কে হুজুর (স.)-এর খুতবাটি আপনাদের পেশ করলাম। যা আয়াতে কারীমের তাফসীর তুল্য।

হে মোমেন বান্দারা! জুমআর আযান শুনতেই আল্লাহর যিকিরে দৌঁড়িয়ে আসো, তোমার কাজ কাম, ব্যবসা বাণিজ্য এবং দুনিয়াবী আর সব কার্যক্রম ছেড়ে দেও। সেগুলোকে জুমআর আযান তোমার জন্যে হারাম করে দিয়েছে। তোমরা যদি জ্ঞান বুদ্ধি রাখতে তবে এটা তোমাদের জন্যে খুবই উত্তম হতো।

প্রিয় ভাইয়েরা! আল্লাহর কসম! কলিজা কাঁপছে, শরীরের পশম দাঁড়িয়ে উঠছে। একদিকে মুসলমানরা এই ফরয আদায়ে এতোটা গাফিলতি করছে। অপরদিকে এক গোষ্ঠী জুমআর ফরজিয়ত নিয়ে বিরোধিতা করছে, তারা পরিস্কার বলছে, গাঁও গেরামে জুমআ পড়া জায়েয নেই। এটাকেই বলে আল্লাহর কালামকে বদলে দেয়া, এটাই হলো ফরজকে হারাম সাব্যস্ত করা।

মুসলমানরা! কোরআনের আয়াতের প্রতি আবার নজর দাও। আয়াতে প্রত্যেক ঈমানদারের জন্যে জুমআ ফরজ করে দিয়েছে। চাই গ্রাম হোক কি শহর।

প্রিয় নবী হযরত (স.) এ বিষয়ে ফরজিয়াতের ওপর জোর তাগিদ দেয়ার জন্যে পরিস্কার ভাষায় গুরুত্বের সঙ্গে বয়ান করেছেন। রসূল (স.) থেকে শুরু করে কেয়ামত পর্যন্ত এর ফরজ সাবেত ও প্রতিষ্ঠিত থাকবে বলে জোর ঘোষণা দিয়েছেন।

আবু দাউদসহ প্রমুখ হাদীসগ্রন্থে রয়েছে, রসূল (স.) বলেছেন-

জুমআ প্রতিষ্ঠিত এবং জামায়াতের সাথে অবশ্য পালনীয় বিধান প্রতি মুসলমানের জন্যে।

অর্থাৎ চাই সে গ্রামে কিংবা শহরে নগরে কিংবা বন্দরে যেখানেই থাকুক তার ওপর জুমআ ওয়াজিব। দারে কুতনীতে হাদীস রয়েছেÑ

আল্লাহও কেয়ামত দিবসে যাদের ঈমান আছে, তার ওপর জুমআর দিন জুমআন নামায ফরজ।

কিন্তু এক গোষ্ঠী লোক বলছে, অর্ধেকের কম মানুুষের প্রতি ফরজ, আর অর্ধেকের বেশী মুসলমানদের ওপর ফরজ নয়। প্রকৃত কোরআন ও হাদীসের কোথাও এমন কথা নেই। ফকীহদের বক্তব্যে এমন কিছু ঘটনা ঘটলো যে, ইমামদের যুক্তিকে দ্বীনের মাঝে প্রবেশ করিয়ে আজ আল্লাহর ফরজকেও বাদ দিতে বসেছি? পূর্বে আমি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বর্ণনা করেছি, আল্লাহর কালাম ও রসূল (স.)-এর সালাম ও মানুষের কথায় ইসলাম থেকে অব্যাহতি নিচ্ছে।

অতএব আল্লাহকে মানো, তার রসূলকে মানো, কুরআনকে মানো এবং হাদীসকে মানো এবং শহর গ্রাম সর্বত্র জুমআ কায়েম করো। তা না হলে রসূল (স.)-এর বদদোয়া লেগে যাবে। জীবনভর পেরেশানীর মধ্যে কাটাবে, বরকত চলে যাবে, নেক কাজ বরবাদ হয়ে যাবে এবং গুনাহ অবধারিত।

শোনো, ইসলামে প্রথম জুমআ হযরত আসআদ বিন জারারাহ (রা.) পড়িয়েছিলেন। তিনি বাকীয় নামক এক গ্রামে এ নামায পড়িয়েছিলেন। গ্রামটি মদীনা শরীফের পার্শ্ববর্তী একটি গ্রাম। সে সময় এ গ্রামে মুসলমানের সংখ্যা ছিলো ৪০। ইবনে মাজাসহ প্রমুখ হাদীস গ্রন্থ দ্রষ্টব্য)

হযরত আবদুল্লাহ বিন ওমর (রা.) বলেছেন, মিম্বরে খোতবা প্রদান কালে রসূল (স.)-এর যবান মুবারক থেকে শুনেছি, তিনি বলেছেন, জুমআর দিন মুসল্লীদের উচিত গোসল করে মাসজিদে আসা।

যদিও গোসল ফরজ ওয়াজিব কোনোটাই নয়। তবু গোসল করার ব্যাপারে বিশেষ তাকিদ দেয়া হয়েছে। এমনকি হাদীসে রয়েছে, জুমআর দিন প্রত্যেক বালেগ ব্যক্তির জন্যে গোসল করা ওয়াজিব। সেজন্যে জুমআর দিন গোসল করা প্রয়োজন।

রসূল (স.) বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমআর দিন খুব ভালো করে গোসল করে আগে আগে মসজিদে পায়ে হেঁটে হেঁটে যায় এবং কোনো যানবাহনে করে না গিয়ে ইমাম সাহেবের কাছাকাছি বসে এবং মনোযোগ সহকারে খোতবা শোনে আর কোনো বেহুদা কথা না বলে থাকে এবং সানি খোতবার সময়ও কোনো কথা না বলে তার এক এক কদমে এক এক বছরের এবাদতের সাওয়াব পাবে, অর্থাৎ পুরো বছরের রোযার ও রাতে দাঁড়িয়ে নামায পড়ার সাওয়াব পাবে। (আবু দাউদ প্রমুখ)

হযরত আবদুল্লাহ বিন সালাম (রা.) বলেছেন, আমি আমার নিজ কানে রসূল (স.)-কে জুমআর দিন প্রদত্ত খোতবা থেকে শুনেছি, কি সমস্যা ধনী বিত্তবান দানশীল প্রশস্ত মনের লোক যদি জুমআর সাধারণ পোশাক রেখে আলাদা পোশাক পরে আসে। যদিও দরকার নেই তবুও খুবই উত্তম। (ইবনে মাজা)

অতএব, যতোটা সম্ভব জুরআর দিনে ভালো পোশাক পরে নামায পড়তে আসো। আতর লাগাও, মসজিদে সুগন্ধিতে ভরে দাও, ময়লা নোংরা হয়ে এসো না, ছেঁড়া ফাঁড়া কাপড় পরে এসো নয়, এটা তোমাদের জন্যে ঈদের দিন। এদিন দাঁতকে খুব ভালো করে পরিস্কার করে আসবে। খুব ভালো করে মেসওয়াক করবে তাতে মুখের গন্ধ দূর হয়ে যাবে। সমাবেশে খারাপ আবহাওয়া ছড়াবে না, একে অপরকে কষ্ট দিয়ো না। এসব গুণ জুমআর ৮ দিনের গুনাহ মাফ করে দেয়। এটা বড়োই ফজিলতের দিন। এ দিনের সম্মান করো। হাদীসে রয়েছে, এ দিন নৈকট্য লাভ করবে। জুমআর দিনে জুমআতে হাজির হতে যে পরিমাণ দেরী করবে তবে জান্নাতে যাবে তবে পিছে পিছে থাকবে। এই দিন জুমা মসজিদের দরজায় দুইজন ফেরেশতা দাঁড়িয়ে থাকে, তারা মসজিদে আগত মুসল্লিদের নাম ও নম্বর দিতে থাকে। ইমাম সাহেব মিম্বরে উঠার সাথে সাথে ফেরেশতারা তাদের দফতর বন্ধ করে দেয়। সুতরাং সামনে অগ্রসর হও। পিছনে থেকো না।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY