সম্পাদকীয়

0
60

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
গত দু’দশকে জাতিসংঘের আয়োজনে বেশ কয়েকটি নারী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়, এর মধ্যে যে দু’টো বড়ো সম্মেলন নিয়ে বিশ্বের নারীবাদী লোকদের মধ্যে বেশী আলোচনা সমালোচনা হয়েছে, তা ছিলো- কায়রো ও বেইজিং-এ অনুষ্ঠিত নারী সম্মেলন। নারীদের নিয়ে যেখানে দেশ বিদেশের পাড়া পল্লী, নগর বন্দরে প্রতিনিয়ত অগণিত সভা সম্মেলন সেমিনার সিম্পোজিয়াম অনুষ্ঠিত হচ্ছে, সেখানে কায়রো এবং বেইজিং সম্মেলন দু’টো কেন এতো বেশী গুরুত্বপূর্ণ, তা অবশ্যই ভেবে দেখার মতো। সম্ভবত এটা এ কারণে যে, এ সম্মেলন দু’টোর আগে বিশ্বের কোথায়ও নারীদের নিয়ে এতো মৌলিক ধরনের কথা কেউ বলেনি।
নারী পুরুষের সমতা, বিয়ে শাদী, সম্পদের মালিকানা ও উত্তরাধিকার বিষয়ের সাথে নারীদের পাশ্চাত্যের সামাজিক অধিকার ও সুযোগ সুবিধা নিয়ে সমাজবাদীরা এতোই উদ্বিগ্ন যে, তারা মনে করে, এগুলোর জন্যে শক্ত আইনের ভিত্তি তৈরী না হলে বিশ্ব নারী সমাজ দিনে দিনে আরো বঞ্চনা, আরো অবহেলার শিকার হবে, কিন্তু এতো আইন, এতো বিধি বিধান জারি করেও কি জাতি সংঘ বিশ্ব ব্যাপী নারীদের সামাজিক অধিকার ও সুবিচার নিশ্চিত করতে পেরেছে? আসলে শুধু আইন কানুন দিয়ে সমাজে নারী পুরুষের মধ্যে যে সমতা আশা করা যায় না। তা বিশ্বের এই বড়ো বড়ো মাথাগুলো অনেক দেরীতেই উপলব্ধি করতে পেরেছে। এখন তারা বুঝতে পেরেছে যে, শুধু আইন দিয়ে পৃথিবীর সাত বিলিয়ন মানুষকে বদলে দেয়া যায় না।
আজ দুই দশক পর যখন নারী ইস্যুর পর্যালোচনা করা হয়, তখন দেখা যায় পৃথিবীজুড়ে নারী পুরুষের বৈষম্য অনেক বেড়েছে, বৈষম্য বেড়েছে দায়িত্ববোধ ও অধিকারে, বৈষম্য বেড়েছে চাকরী বাকরী বেতন ভাতা ও সামাজিক নিরাপত্তা বিধানে।
বিশ্বের কোনো একটি দেশেই আজ নারীদের অবস্থা দুই দশক আগের চাইতে ভালো নেই। দিনে দিনে এই বৈষম্য আরো বাড়ছে। অথচ আল্লাহর এ যমীনের বাসিন্দারা যদি আল্লাহ তায়ালার নিয়মনীতি মেনে চলতো, বিশেষ করে নর নারীর সামাজিক অধিকার, দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ নিয়ে আমাদের মালিক প্রভু হাজার হাজার বছর আগে তাঁর নবী-রসূলদের মাধ্যমে যে বিধান জারি করেছেন, তা মেনে চলতো- তাহলে কোটি কোটি ডলার ব্যয় করে এই জমকালো নারী সম্মেলন করার দরকার হতো না। আল্লাহ তায়ালা নর নারী উভয়কে বানিয়েছেন উভয়ের শারীরিক, মানসিক, সামাজিক প্রয়োজনে। তার চেয়ে বেশী কে বুঝবে, প্রয়োজন প্রত্যেক মানুষের আল্লাহর সে চিরন্তন বিধান মেনে চলা।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY